হোলসিম সিমেন্ট বাংলাদেশের সব শেয়ার কেনার প্রক্রিয়ায় 

0
4374

ডেস্ক রিপোর্ট : হোলসিম সিমেন্ট বাংলাদেশের শতভাগ শেয়ার কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ১১ কোটি ৭০ লাখ ডলার নেদারল্যান্ডসে পাঠাতে চায় লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা। আমসটারডম ভিত্তিক হোল্ডারফিন বি.ভির কাছে এই অর্থ পাঠানো হবে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমতি চেয়েছে কোম্পানিটি।

গত বছরের ডিসেম্বরে কোম্পানিটি ১ হাজার ৩২৫ দশমিক ৮৮ ডলার বা ১ লাখ ৬ হাজার টাকা দরে হোল্ডারফিনের ৮৮ হাজার ২৪৪টি শেয়ার কিনতে চুক্তি করে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, হোল্ডারফিনের শেয়ারের দাম অনেক বেশি। লাফার্জ সুরমাকে হোলসিম সিমেন্টের শেয়ারের মূল্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।

শেয়ারহোল্ডারদের অনুমতির পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেডের নাম পরিবর্তন করে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড করা হয়।

লাফার্জহোলসিমের বরাতে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের খবরে বলা হয়, হোলসিম সিমেন্ট বাংলাদেশের শেয়ার কিনতে হোল্ডারফিনের সঙ্গে ১১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের চুক্তি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের পর শেয়ারহোল্ডার, বাংলাদেশ ব্যাংক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, ডিএসই, সিএসই ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রদান করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, হোল্ডারফিনের দরের সঙ্গে বাংলাদেশের বাজারে থাকা হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানিসহ (বিএটিবিসি) বেশকিছু কোম্পানির শেয়ার দরের পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।বুধবার পর্যন্ত হাইডেলবার্গ সিমেন্টের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৫১ টাকা ৭১ পয়সা। আর শেষ লেনদেনে বিএটিবিসির শেয়ারের দর ছিল ২ হাজার ৯৫৯ টাকা ১০ পয়সা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশের সিমেন্ট খাতে অন্যান্য কোম্পানির দর নিরূপণে দেখা যাচ্ছে হোলসিমের প্রতি শেয়ার বাবদ ১ লাখ ৬ হাজার টাকা অনেক বেশি। তিনি জানান, এই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক লাফার্জ সুরমাকে নেদারল্যান্ডসে সম্পূর্ণভাবে ১১ কোটি ৭০ লাখ ডলার পাঠানোর অনুমতি নাও দিতে পারে।

গত বছরের নভেম্বরে লাফার্জ সুরমার পরিচালনা পর্ষদ হোলসিম বাংলাদেশ ও লাফার্জ সুরমা সমন্বিতভাবে ব্যবসা করতে চায়। এর একমাস পরে পর্ষদ এই অধিগ্রহণ অনুমোদন দেয়।কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, হোলসিমের শতভাগ শেয়ার কেনার পর বাংলাদেশের সিমেন্ট বাজারে লাফার্জ সুরমা অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। তাদের উৎপাদন বেড়ে হবে বছরে ৪.২ মিলিয়ন টন।বাংলাদেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানি লাফাজ সুরমার শেয়ার দর গত দুই বছরে ব্যাপক উত্থান-পতন হয়েছে।

২০১৫ সালের আগস্টে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১২০ টাকার উপরে। কিন্তু ২০১৬ সালের নভেম্বর মার্জারের ঘোষণার পর কোম্পানিটির শেয়ার দর টানা কমতে থাকে। গতকাল মঙ্গলবার সর্বশেষ কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫৮ টাকা। গত ডিসেম্বরে যা ছিল ৯০ টাকা।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে জুলাই মাসে লাফার্জ এবং হোলসিম বৈশ্বিকভাবে একীভূত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here