হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সিনিয়র রিপোর্টার : মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে তিনি হোটেলটি উদ্বোধন করেন তিনি।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে সারা বিশ্বের সাংবাদিকরা এই হোটেলে অবস্থান করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর সাংবাদিকরা এখানে সমবেত হন সংবাদ সংগ্রহের জন্য।

জুলফিকার আলী ভুট্টো এই হোটেলে এসেছিলেন এবং এখান থেকে ২৫ মার্চ গণহত্যার নির্দেশ দেন। এসব দিক থেকে এই হোটেলটি অনেক স্মৃতি বহন করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় এই হোটেলে যে সাংবাদিকরা ছিলেন তাদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া হতো। সেখানে তাদের আটকে রাখা হতো। সায়মন ড্রিং একমাত্র সাংবাদিক যিনি সেখান থেকে বেরিয়ে ২৫ মার্চের গণহত্যার তথ্য সারা পৃথিবীকে জানিয়েছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল বৃহস্পতিবার রাতে উদ্বোধন শেষে মোনাজাত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আরো অনেকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় এই হোটেলে দুবার হামলা করা হয়েছিল। ব্যবসা-বাণিজ্যের দিক থেকে হোটেলটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে।

১৯৬৬ সালে শাহবাগ সংলগ্ন মিন্টো রোডে চালু হওয়া হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মুক্তিযুদ্ধসহ নানা ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ঢাকায় প্রথম গেরিলা আক্রমণটি হয় ইন্টারকন্টিনেন্টালে।

ইন্টারকন্টিনেন্টালে থেকেই মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহ করেছিলেন বিদেশি সাংবাদিকরা। তখন এই হোটেলটি রেডক্রস জোন হিসেবে স্বীকৃত ছিল।

ইন্টারকন্টিনেন্টাল গ্রুপ ১৯৬৬ থেকে ১৯৮৩ পর্যন্ত এ হোটেলের ব্যবস্থাপনায় ছিল। তাদের পর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব এসেছিল আন্তর্জাতিক হোটেল সেবাদানকারী আরেক প্রতিষ্ঠান শেরাটন।

প্রায় ২৮ বছর পর ২০১১ সালের এপ্রিলে শেরাটন চলে গেলে বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডই হোটেলটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেয়। তখন রূপসী বাংলা নামে চালু হয় হোটেলটি। সরকারি কোম্পানি বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড এই হোটেলটির মালিক।

এরপর ২০১২ সালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল গ্রুপ পুনরায় এই হোটেল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ফিরতে চাইলে ২০১২ সালে তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়। তার দুই বছর পর ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে এর সংস্কার কাজ শুরু হয়।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল বৃহস্পতিবার রাতে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আরো অনেকে।

ইন্টারকন্টিনেন্টালকে সাজানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মুঘল স্থাপত্যশৈলীকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রূপসী বাংলা হোটেলে ২৭২টি কক্ষ থাকলেও সংস্কারের পর ইন্টারকন্টিনেন্টালে কক্ষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২৬টি। তবে কক্ষের আয়তন  বাড়ানো হয়েছে।

২২৬টি কক্ষের মধ্যে ৪০ বর্গমিটার আয়তনের ২০১টি ডিলাক্স, প্রিমিয়াম ও এক্সিকিউটিভ কক্ষ, ৬০ বর্গমিটার আয়তনের পাঁচটি সুপিরিয়র স্যুইট, একই আয়তনের ১০টি ডিলাক্স স্যুইট, ৭৫ বর্গমিটার আয়তনের পাঁচটি ডিপ্লোমেটিক স্যুইট এবং ১৫০ বর্গমিটার আয়তনের পাঁচটি প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুইট।

ইন্টারকন্টিনেন্টাল দুটি বলরুম ও সাতটি সভাকক্ষ ২১ হাজার বর্গফুটের। প্রধান বলরুমটির নাম রাখা হয়েছে রূপসী বাংলা।

সুইমিং পুল ও ডাইনিং হলের জায়গা পরিবর্তন করা হয়েছে। বড় করা হয়েছে বলরুমের আকার। এছাড়া হোটেলের মূল ফটকও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আধুনিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত সুইমিং পুল ছাড়াও জিমনেসিয়াম, স্পাসহ নানা সুবিধা থাকছে ইন্টারকন্টিনের্টাল।
হোটেলটির সংস্কার কাজে ৬২০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here