শ্যামল রায়ঃ মোঃ শিহাব সরকার, একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করছেন ১৯৯৪ সাল থেকে। শেয়ার বাজারের উত্থান-পতনটা দেখেছেন কাছ থেকে। কখনো বিনিয়োগ করে লাভ করেছেন- আবার লসও দিয়েছেন মাঝে মাঝে। এবারের স্টক বাংলাদেশের বিনিয়োগকারী সাক্ষাৎকার বিভাগে জানালেন তার কথা।

সেই কবে কার কথা। দেখতে দেখতে অনেকগুলো সময় পার করলাম শেয়ার মার্কেটে। আগে মানুষ জনের কাছ থেকে গল্প শুনতাম শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে রাতারাতি বড়লোক হওয়া যায়। সেই আকর্ষণ থেকে মতিঝিলের বিনিয়োগ পাড়ায় ঘোরাঘুরি। প্রথম দিকে আইপিও করতাম কারণ বড় ভাইয়েরা বলত আগে আইপিও করে হাত পাকাও তার পরে সেকেন্ডারি মার্কেটে নামিস। তাদের কথামত সেইরকমই  করেছি।

আইপিও করতে করতে একটা সময় মনে হল, শুধু আইপিও করেতো মন ভরে না। বড় লোক হতে হলে রিস্ক আমাকে নিতেই হবে। ঢুকে পড়লাম সেকেন্ডারি মার্কেটে। এখন শেয়ার মার্কেটের মত তখনকার অবস্থা ছিল না।  তখন কেউ একটু চালাক চতুর হলেই অনেক টাকা প্রফিট করতে পারত।

প্রথম দিককার কথা আমার আজও মনে পড়ে। বড় ভাইয়ের সাজেশনে ডাচ্‌ বাংলা ব্যাংক কিনেছিলাম। পরে সেটা অনেক দামে লাভে বেচতে পেরেছি। আস্তে আস্তে বেক্সিমকো, স্কয়ার ফার্মা সহ আরও বেশকিছু শেয়ার কিনি। কখনও লাভ আবার কখনও লস করতে হয়েছে। এখন শেয়ার বাজারের দিন বদল হয়েছে। সরকারের তীক্ষ্ণ নজর আছে শেয়ার বাজারের উপর। সহজেই কেউ মেনুপুলেশন করতে পারবে না মার্কেটকে। চেষ্টা যে করছে না তা বলা মুশকিল। তবে আগেরমত সব দরজা হয়তো এখন আর খোলা নেই।

প্রথম ট্রেড করতে গিয়ে খুব ভয় লাগতো তখন কাগুজে শেয়ারের চল ছিল, আবার একদল দালালের দৌরাত্ম লক্ষ্য করা যেত। যারা অনেকটা আমাদের মত নতুনদের ঠকিয়ে ব্যবসা করত। এখন ইলেকট্রনিক শেয়ার আমি কি কিনছি না কিনছি ইচ্ছেমত তা করতে পারছি।

একটা সময় লক্ষ্য করলাম শেয়ার মার্কেটে আমার নির্ভরতা চলে আসে। আমি এখন ফুল টাইম শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করছি। অনেক কিছু ভেবে চিনতে ট্রেড করতে হয় আমাকে। লসটা কম করার চেষ্টা করি। তারপরও না চাইলেও কিছুটা লস হয়ে যায়।

এবারের বাজেটের প্রেক্ষিতে শেয়ার বাজারের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, বাজেটের আগে শেয়ার বাজার ডাউন ট্রেন্ডে ছিল। আমার মত অনেক বিনিয়োগকারী আশা করছিলাম, হয়তো অর্থমন্ত্রী ভালো কিছু শুনাবেন। কিন্তু বাজেট ঘোষনার পর আমার মনে হয়েছে বাজেট অনেকটাই পূর্বের ন্যায়। আকার হয়তো বেড়েছে কিন্তু শেয়ার বাজারের জন্য চমকিত হওয়ার মত কিছু নাই।

এখন চারিদিকে অবশ্য অনেক কথাই শুনছি। অর্থমন্ত্রী নাকি শেয়ার বাজারের জন্য নতুন কিছু চিন্তা ভাবনা করছেন। ভালো কোম্পানি কিভাবে শেয়ার বাজারে আসে সে চেষ্টাও সরকারীভাবে করা হচ্ছে। সেটা কতটুকু সম্ভব হবে সময়ই বলে দিবে। আমরা এরকম কত কথাইতো শুনে আসছি। তবে আমার মনে হয় যে সরকারি আসুক না কেন, শেয়ার বাজার নিয়ে আলাদাভাবে তারা কিছু চিন্তা ভাবনা করেনা। সবকিছুই হয় গতানুগতিক।

উন্নত দেশের শক্তিশালী অর্থনীতির জন্য পূজিবাজারকে মূল্যায়ন করতে হবে। সরকারকে খেয়াল রাখতে হবে যে এখানে বিনিয়োগকরেও অনেক লোকের জীবন সংসার চলে। অনেকেই শেয়ার বাজারকে কেরিয়ার হিসেবে নিয়েছেন। তারা চাইলেও মার্কেট থেকে বের হয়ে যেতে পারবে না। তাদের জন্য এই মার্কেটের ভালো মন্দতে অনেক কিছুই আসে যায়।

সরকারের প্রতি আমার আকুল আবেদন মার্কেটের উন্নয়নের জন্য হয়ত অনেক কিছু সরকার করেছে । তবে আমার মত যারা ফুল টাইম শেয়ার বিনিয়োগকারী তাদের জন্য যেন একটা নিশ্চিন্ত বাজার হয় সরকারকে সেটা ইনশিউর করতে হবে। অর্থাৎ চাইলেই যে কেউ যেন বিনিয়োগকারীদের টাকা বিভিন্ন রকম মেনুপুলেশনের সাহায্য নিয়ে নিজের পকেটে নিয়ে যেতে না পারে।

আমার পোর্টফলিও এই মুহুর্তে বেশি লাভে নেই। তবে এই টানা এক মাস পতনের মধ্যেও আমার পোর্টফলিও আমি লাভে রাখতে পেরেছি এটাই কম কিসে। আমার পোর্টফলিওতে দুই ধরনের শেয়ার আমি রাখার চেষ্টা করি। ভালো কোম্পানীর ফান্ডামেন্টাল কিছু শেয়ার আবার কিছু কোম্পানীর শেয়ার আমি রাখি যেগুলোর দাম খুব ওঠা নামা করে।

যেগুলোতে লাভের সম্ভাবনাও খুব বেশি থাকে আবার লসের সম্ভাবনাও খুব বেশী থাকে। যখন মার্কেট ডাউন ট্রেন্ডে চলে যায় এই ধরনের শেয়ারগুলো বেছে আমি বসে থাকি। আবার দাম কমতে কমতে যখন বুঝি শেয়ারটার দাম আসল দামে চলে এসেছে, ইপিএস ভালো, আরএসআই ভালো তখন ঐ শেয়ারগুলো আবার কিনে ফেলি। এটাই আমার ট্রেডিং পলিসি বলতে পারেন।

বর্তমানে রমজান মাস ট্রেন্ড অনুযায়ী এই সময় মার্কেট একটু ডাউন ট্রেন্ডেই থাকে। তারপর ও এবারের বিষয়টা একটু আলাদা। মাত্র কয়েকদিন আগেই বাজেট ঘোষনা হয়েছে। যারা বাজেটের দিকে তাকিয়ে ছিলো তারা এখন হয়তো কিনছে। এইজন্য মার্কেট কখনও কখনও আপট্রেন্ডে চলে যাচ্ছে। হুট হাট করে অনেক বায়ার চলে আসছে। মার্কেট সামনে খুব ভালো হবে বড় বড় ইনভেষ্টরার হয়ত এতদিন অপেক্ষা করছিল এখন তারা মার্কেটে চলে এসেছে।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here