হাজার আশাহতের মাঝে একটি ভালো খবর

0
4852

স্টাফ রিপোর্টার : যানজটের রাজধানীতে গত কয়েক বছরে বাইসাইকেল ব্যবহারে যেন ‘বিপ্লব’ ঘটেছে। শুধু শখের বশেই নয়, রাজধানীতে তারুণ্যের গুরুত্বপূর্ণ বাহনে পরিণত হয়ে উঠেছে বাইসাইকেল। বিভিন্ন বয়সী ও শ্রেণী-পেশার মানুষ এখন গন্তব্যে যেতে স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করছেন দুই চাকার এই বাহনটি। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে দেশে সাইকেলের চাহিদা বেড়েছে ৪০ শতাংশের বেশি। এখন বছরে প্রায় পাঁচ লাখ সাইকেল বিক্রি হয় দেশের বাজারে। বিশেষ করে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়ারা বিপুল সংখ্যায় সাইকেল ব্যবহার করায় নগরীর বিভিন্ন স্থানে সাইকেলের নতুন দোকান গড়ে উঠেছে।

এছাড়াও অভিজাত এলাকায় স্থাপিত হয়েছে সাইকেল বিক্রির চেইন স্টোর। দেশীয় উৎপাদকরা সাইকেলের রপ্তানির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে মনোযোগী হয়ে উঠেছেন। বাড়তি চাহিদার কারণে দেশে সাইকেলের টায়ার-টিউবসহ খুচরা যন্ত্রাংশের কারখানাও গড়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, নগরীর দূষণ ও যানজট এড়াতে বাইসাইকেলের বিকল্প নেই।

চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশ থেকে বাইসাইকেল রপ্তানি হয়েছে ৭ কোটি মার্কিন ডলার। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের ৫ কোটি ৫৪ লাখ ডলারের চেয়ে ২৯ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) দেওয়া তথ্যানুযায়ী, আলোচ্য সময়ে ৬ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের বাইসাইকেল রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর বিপরীতে আয় হয় ৭ কোটি ১৮ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি। এদিকে চলতি অর্থবছর বাইসাইকেল রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ কোটি ডলার। গত অর্থবছর আয় হয়েছে ১১ কোটি ২৮ লাখ ডলার। জানা যায়, মেঘনা গ্রুপ, জার্মান বাংলা, আলিতা, নর্থবেঙ্গলসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব কারখানায় উৎপাদিত বাইসাইকেল বিদেশে রপ্তানি করে।

images

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুসারে, গত ২০১০-১১ অর্থবছরে বাইসাইকেল রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ১০ কোটি ডলার (নয় কোটি ৯৮ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার)। এটি অবশ্য বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার থেকে প্রায় ৩৬ শতাংশ কম। আবার এর আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০০৯-১০ অর্থবছরে সাইকেল রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ১১ কোটি ডলার। সে হিসাবে গত অর্থবছর রপ্তানি কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। মূলত ইউরোপের বাজারে মন্দাভাব এবং দেশে উৎপাদনকাজে জ্বালানিসংকটের প্রতিবন্ধকতার কারণে গত অর্থবছরে রপ্তানির প্রবণতা কিছুটা নিম্নমুখী হয়। অন্যদিকে চলতি ২০১১-১২ অর্থবছরের প্রথম মাসে অর্থাৎ জুলাই মাসে ৭৯ লাখ ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে। রপ্তানিকারকেরা আশা করছেন, ইউরোপের বাজার-পরিস্থিতির উন্নতি হলে তাঁদের রপ্তানিও বাড়বে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে তাইওয়ানের কোম্পানি আলিতা বাংলাদেশ লিমিটেড স্বল্প পরিসরে বাংলাদেশ থেকে বাইসাইকেল রপ্তানি শুরু করে। পরে এই ধারায় যুক্ত হয় মেঘনা গ্রুপ। বর্তমানে দেশের মোট বাইসাইকেল রপ্তানির সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান এটি।

দেশে সাইকেলের সবচেয়ে বড় বাজার রাজধানীর বংশালে। সেখানে সাইকেলের প্রায় ২০০ দোকান রয়েছে। সারা দেশে খুচরা বিক্রেতা আছেন হাজার চারেক। বংশালের ‘মাস্টার সাইকেল’ স্টোরের বিক্রেতা জানান, এখন তরুণদের মধ্যে বাইসাইকেলের জনপ্রিয়তা বেশি। কিছুদিন আগেও এ ব্যবসায় মন্দা চললেও এখন প্রতিদিনই তারা আধুনিক মডেলের অসংখ্য সাইকেল বিক্রি করছেন। জানা যায়, দুই ধরনের সাইকেল পাওয়া যায়। রোড বাইক ও মাউন্টেন বাইক।

দেশের বাজারে কানাডা, ট্রেক, হিরো রেঞ্জার, ম্যাক্স, লক্স, জোহান, ফুজি ও তাইওয়ানের তৈরি মেরিডাসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সাইকেল পাওয়া যায়। এর মধ্যে কার্বন সাইকেল এক থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া এলুমিনিয়ামের তৈরি সাইকেলের দাম ২১ থেকে ৭০ হাজার টাকা। ইস্পাতের তৈরি বাইক ৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here