স্যাটেলাইট নিয়ে ‘এলিট ক্লাবে’ বাংলাদেশ

0
337

আইরিন সুলতানা, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : ষাট বছর আগে মানুষের মহাকাশ যাত্রা শুরুর পর ১৭শর বেশি কৃত্রিম উপগ্রহ উড়েছে পৃথিবী থেকে, তার একটি এখন লাল-সবুজ রঙের।  

অর্থনীতির অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে এবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে এগিয়ে যাওয়ার নজির হিসেবে শনিবার প্রথম প্রহরে মহাকাশ পানে রওনা হয় বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১।

২০১৭ সালের ইউনিয়ন অফ কনসার্নড সায়েন্টিস্টসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশের কক্ষপথে ঘুরছে ১৭শ’র বেশি স্যাটেলাইট। তাদের তথ্যভাণ্ডারে স্যাটেলাইট মালিকানা ও পরিচালনাকারী ৫৫টি দেশের নাম পাওয়া যায়। তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলছেন, কৃত্রিম উপগ্রহের মালিক হিসেবে বাংলাদেশ ৫৭তম দেশ।

বিশ্বের ১২টি দেশের রয়েছে নিজস্ব স্যাটেলাইট লঞ্চ প্যাড, যা দিয়ে তারা নিজেদের ও অন্যান্য দেশের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে পারে তারা।

বাংলাদেশের সেই সুযোগ না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেইপ কেনাভেরালের লঞ্চ প্যাড থেকে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের মাধ্যমে উৎক্ষেপণ হল জাতির জনকের নামাঙ্কিত কৃত্রিম উপগ্রহটি।তিন হাজার ৫০০ কেজি উৎক্ষেপণ ভরের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে পাঠাতে নেওয়া প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা।

মহাকাশে প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহটি পাঠিয়েছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন, ১৯৫৭ সালে পাঠানো তাদের ওই উপগ্রহটির নাম ছিল ‘স্পুটনিক-১’, যার ওজন ছিল মাত্র ৮৩ দশমিক ৬ কেজি।

এরপর মহাকাশ নিয়ন্ত্রণে শুরু হয় দুই পরাশক্তির লড়াই; প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠাতে না পারলেও ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ নিয়ে প্রথম চাঁদে মানুষ পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র।

সোভিয়েত বিলুপ্তির পর বর্তমানে আটশ’র বেশি স্যাটেলাইট পাঠিয়ে অন্য সব দেশের চেয়ে বহু এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র। চীন ও রাশিয়ার মালিকানায় ২০১৭ সাল পর্যন্ত পাঠানো স্যাটেলাইট সংখ্যা ২০৪টি ও ১৪২টি। পরিসংখ্যানে পিছিয়ে থাকলেও জাপান ও যুক্তরাজ্যও রয়েছে মহাকাশে।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ২টা ১৪ মিনিটে ফ্লোরিডার লঞ্চ প্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নিয়ে ফ্যালকন-৯ ব্লক ৫ রকেটের সফল উৎক্ষেপণ হয়

কৃত্রিম উপগ্রহের সংখ্যায় দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত এগিয়ে যাচ্ছে তরতরিয়ে। অন্ধ্র প্রদেশে তারা তৈরি করেছে সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার, যেখান থেকে গত এক বছরে ৩১টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হয়েছে। পাকিস্তানেরও রয়েছে কৃত্রিম উপগ্রহ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here