স্মলক্যাব মার্কেটের শর্ত নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া, কার্যক্রম আগামী মাসে

0
1976

সিনিয়র রিপোর্টার : পুঁজিবাজারে মূল বাজারের পাশাপাশি স্বল্প মূলধনী (স্মলক্যাপ) কোম্পানিগুলো নিয়ে পৃথক বাজার  তৈরি করা হচ্ছে। আগামী জুন মাসে স্বল্প মূলধনি বা স্মলক্যাপ মার্কেটের কার্যক্রম শুরু হবে। তবে স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোর কিছু শর্ত নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যা সোস্যাল মিডিয়ায় (ফেসবুকে) ভাইরাল হওয়ায় অনেকের কাছে মুখরোচক আলোচনায় রুপ নিয়েছে।

পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বল্প মূলধনি কোম্পানির পৃথক বাজার চালু করতে ২০১৬ সালের ২ জানুয়ারি স্মলক্যাপ বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। সিদ্ধান্তের পর স্বল্প মূলধনি কোম্পানির তালিকাভুক্তি ও ট্রেডিং করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) স্বল্প মূলধনি প্ল্যাটফর্ম (স্মল ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্ম) গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার পর উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ কাজ শুরু করে।

তথ্যানুসারে, কমপক্ষে ৫ কোটি টাকা থেকে ৩০ কোটি টাকার কম মূলধনী কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে মূলধন উত্তোলন করতে পারবে। শুধু কোয়ালিফাইড ইনভেস্টররা এই শেয়ার লেনদেন করতে পারবেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নয়।

লেখকের মূল লেখার অংশ বিশেষ তুলে ধরা হলো-

সোস্যাল মিডিয়ায় Samorita Somi ‘প্রসঙ্গ স্বল্প মূলধনি কোম্পানির আলাদা মার্কেট’ শিরোনামে নিজস্ব মতামত তুলে ধরেন। এরপরই ‘স্বল্প মূলধনি কোম্পানি’ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন মন্তব্য আসছে। যা পিাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হলো- নিচের অংশ দেখুন।

‘‘প্রসঙ্গ স্বল্প মূলধনি কোম্পানির আলাদা মার্কেটঃ

বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে বেশ জলঘোলা হচ্ছে দেখতে পাচ্ছি। সহজ বিষয় কেন জটিল হোল বুঝতে পারছি না। হয়তো উত্তরটি অন্য কারো কাছ থেকে পাবো। আপাতত জল একটু পরিস্কার করার চেষ্টা করি।

***আগামী মাসে তৈরি হতে যাচ্ছে স্বল্প মূলধনি বা স্মলক্যাপ কোম্পানি নিয়ে আলাদা বাজার। কি হবে এই বাজারের বৈশিষ্ট??

০১। পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বল্প মূলধনি কোম্পানির পৃথক বাজার চালু করতে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০১৬ সালের ২ জানুয়ারি স্মলক্যাপ বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। এই সিদ্ধান্তের পর স্বল্প মূলধনি কোম্পানির তালিকাভুক্তি ও ট্রেডিং করতে ডিএসই ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) স্বল্প মূলধনি প্ল্যাটফর্ম (স্মল ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্ম) গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার পর উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ কাজ শুরু করে।

০২। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান বলেন, স্বল্প মূলধনি মার্কেট চালু করার জন্য আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিএসইসি থেকে প্রপোজাল পেলেই আমরা কাজ শুরু করতে পারব। আশা করছি জুন মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ হবে।

ফেসবুকে পাঠকদের মন্তব্য

০৩। প্রচলিত সেকেন্ডারি মার্কেটের তুলনায় এই বাজার স্থিতিশীল হবে। কারণ প্রাতিষ্ঠানিক ও উচ্চ সম্পদধারী ব্যক্তিরাই এখানে লেনদেন করতে পারবে, যাদের পুঁজিবাজার সম্পর্কে বিস্তর ধারণা ও জ্ঞান আছে। বিনিয়োগ ও ঝুঁকির বিষয়েও সম্যক ধারণা রয়েছে।

০৪। এই বাজারে শেয়ার কিনতে পারবে ‘যোগ্য বিনিয়োগকারীরা’। যাদের উচ্চ সম্পদ রয়েছে, শুধু তারাই (কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর) লেনদেন করতে পারবেন।

০৫। স্বল্প মূলধনি কোম্পানি, আইন অনুযায়ী মূল বাজারের মতোই ফিক্সড প্রাইস ও বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে মূলধন উত্তোলন করতে পারবে। কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফারের (কিউআইও) কমপক্ষে সর্বনিম্ন পাঁচ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের একটি কোম্পানি মূলধন উত্তোলন করতে পারবে।

বৈশিষ্টগুলো তো জানলাম, এসো এবার জল পরিস্কার করিঃ

০৬। শুরু করি ৫ নং পয়েন্ট থেকে। লক্ষ্য কর, “স্বল্প মূলধনি কোম্পানি, আইন অনুযায়ী মূল বাজারের মতোই ফিক্সড প্রাইস ও বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে মূলধন উত্তোলন করতে পারবে।” অর্থাৎ এই মার্কেটে যারা আসবে তারাও ফিক্সড প্রাইস ও বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে মূলধন উত্তোলন করতে পারবে। তবে তারা IPO থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে না। একটু কি খটমট লাগছে?

ফেসবুকে পাঠকদের মন্তব্য

০৭। হ্যাঁ, ঠিক শুনেছ। এই স্মল ক্যাপ কোম্পানিগুলো পুঁজি বাজার থেকে অর্থ উত্তলনের জন্য initial public offering method (IPO) ব্যবহার করতে পারবে না। কেননা এর মূলধন হবে ৫ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত। এখন এই কোম্পানিগুলো বাজার আসার পরে যদি তাদের পারফর্মেন্স ভালো হয় এবং তাদের মূলধন ৩০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়, তখন কি হবে?

০৮। সহজ উত্তর তখন এই কোম্পানিগুলো IPO তে আসতে পারবে। এবার মনে হয় একটু সহজ সহজ লাগছে তাইনা? qualified investors রা কোম্পানির যে শেয়ার কিনবে তা ১ বছরের জন্য লক-ইন থাকবে।Trading, clearing, settlement and trading cycles সব কিছু মূল বাজারে আমরা যেমন করে থাকি T+2/3/9 সেভাবেই হবে। কোন পার্থক্য হবে না।

০৯। গত ২৬ এপ্রিল এই সংক্রান্ত আইনটি BSEC পাস করেছে। উল্লেখ্য, এ বছরে ২৭ মার্চ DSE এবং ২৮ জানুয়ারী CSE এই সংক্রান্ত সকল মতামত BSEC কাছে জমা দেয়। এতো দিনে সবার কাছে বিষয়টি পরিস্কার হওয়ার কথা কিন্তু পরিস্কার হয়নি। তোমরা যারা সিসিম পরিবারের সাথে আছ, তারা সব সময় সব কিছু সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা রাখবে। কখনোই চিলে কান নিয়েছে বলে, চিলের পিছে ছুটবে না। তোমরা অন্যদের থেকে সেরা। অন্যদের থেকে আলাদা।

পাঠকদের মন্তব্য

১০। ৩০ কোটি টাকার উপরে হলে সল্প মূলধনী কোম্পানিকে IPO তে আসতে হবে কিন্তু মূলধন ৪০ কোটি টাকার উপরে হলে?? তখন বাধ্যতামূলক ভাবে IPO তে আসতে হবে। এই ধরনের কোম্পানিতে পরিচালকদের বাধ্যতামূলক শেয়ার ধারনের আইন থেকেও মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

এবার আসি সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেঃ

১১) বর্তমানে যেসব কোম্পানির মূলধন ৩০ কোটি টাকার নিচে তাদের কি হবে? ( https://www.facebook.com/photo.php?fbid=2048371528758601&set=a.1438951316367295.1073741828.100007573219313&type=3) । উত্তর খুব সহজ, এই কোম্পানিগুলো বর্তমান বাজারেই থাকবে। তাহলে নতুন বাজারে কি লেনদেন হবে? কোম্পানি কোথায় পাবে?? আসলেই অনেক জটিল প্রশ্ন? আসলেই কি তাই?

১২) RJSC তে তিন লক্ষের বেশী কোম্পানি নিবন্ধিত। এই সব কোম্পানির দীর্ঘ মেয়েদে মূলধন প্রয়োজন। এদের বর্তমান মূলধন আবার ৩০ কোটি টাকার নিচে। এই কোম্পানি গুলো পুজিবাজার থেকে Qualified Investor এর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। কিভাবে হবে প্রক্রিয়াটি?

১৩) Central Depository Bangladesh Ltd বা সিডিবিএল এদের জন্য আলাদা বিও একাউন্ট খুলবে এবং প্রতি transaction এ কমপক্ষে ৫ লক্ষ টাকার লেনদেন হবে। যাতে এটি বর্তমান বাজারের মত একটি ভাইব্রেন্ট বাজার তৈরি হতে পারে।

Samorita Somi – ফেসবুকের মূলপাতার ছবি

১৪) বর্তমানে ভালো আইপিও খোঁজার জন্য অনেক কষ্ট করতে হয়, কিন্তু এই বাজার চালু হলে ভালো ভালো কোম্পানিগুলো পাইপ লাইনে থাকবে এবং তাদের মূলধন ৩০ কোটি টাকার উপরে গেলে তারা আইপিও এর মাধ্যমে মূল বাজারে চলে আসবে।

আরও অনেক কিছু বলার ছিল কিন্তু ধারনা করছি জল পরিস্কার করার জন্য এটুকুই যথেষ্ট। তবে কথা থেকে যায়, Qualified Investor দের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন (https://www.facebook.com/gro…/samoritasomi/2004790759784264/) জারি করা হলেও সম্পূর্ণ বাজার সম্পর্কে এখনো কোন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। তাই কিছুটা টুইস্ট না হয় আমিও রেখে দিলাম………’’

বিষয়টি আমলে নিয়ে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন অনেকে। লেখকের বক্তব্যে সমর্থন দিয়ে মন্তব্য লিখেছেন ৩৪ জন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here