‘স্বল্পমূলধনী কোম্পানি নিয়ে পৃথক মার্কেট গঠনের দাবি’

0
395

সিনিয়র রিপোর্টার : পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা জবাবদিহিদা রক্ষা করার জন্য তালিকাভুক্ত স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোর জন্য পৃথক মার্কেট গঠন করার প্রক্রিয়া করলেও তা পরিকল্পনার শিকলে বন্ধি রয়েছে। এদিকে এখনিই স্বল্পমূলধনী কোম্পনি নিয়ে আলাদা মার্কেট গঠনের বলে মনে করেন সাধারণ বিনিয়োগকারীসহ বাজার সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘ ৩ বছর ধরে বিষয়টি ঝুলে রয়েছে।

২০১১ সালের আগস্টে এ বিষয়ে বাজার সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে সুপারিশ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্তে উপনিত হতে পারেনি কমিশন।

বিদায়ী বছর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিএসইসির এক বৈঠকে অল্প মূলধনী কোম্পানির জন্য আলাদা মার্কেট গঠনের বিষয়টি উঠে আসে। কমিশন বিষয়টি বাস্তবায়ন ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখার আশ্বাস দিলেও আজ পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন আলোচনা ও অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ছোট মূলধনের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর হুহু করে বাড়ছে। বিশেষ করে স্বল্প সময়ের আর্থাত্ গত দেড় মাসের বাজার পর্যবেক্ষন করে দেখা যাচ্ছে ছোট মূলধনের কোম্পানিগুলোর অতি মূল্যায়িত হয়েছে। যদিও বর্তমান বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীলতার পথে রয়েছে। তবুও কোন প্রকার মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই প্রায়ই স্বল্প মূলধনি কোম্পানির দর বাড়ছে। তাই এসব কোম্পানির জন্য আলাদা মার্কেট গড়ে তোলা প্রয়োজন রয়েছে।

এদিকে স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোর জন্য পৃথক মার্কেট গঠন সম্পর্কে সিএসই’র সাবেক প্রেসিডেন্ট ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ বলেন, এসব কোম্পানির জন্য আলাদা মার্কেট গড়ে তোলা প্রয়োজন রয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীরা খুব সহজেই এসব কোম্পানি সম্পর্কে জেনেবুঝে লেনদেন করতে পারবেন।

তিনি আরো বলেন, পৃথক মার্কেট হলে পুঁজিবাজারের বাইরে থাকা ছোট মূলধনের কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত হয়ে পুঁজিবাজারে লেনদেনে অংশগ্রহণ করতে পারবে। এর ফলে অধিক সংখ্যক কোম্পানির তালিকাভুক্তির ফলে বাজারে শেয়ার সরবরাহ বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে, ২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ট্রেইনিং একাডেমিতে পুঁজিবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ওই সেমিনারে পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় এসব বিষয়ও উঠে আসে পৃথক মার্কেট গঠনের বিষয়টি। সেমিনারে বিএসইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, কখনো কখনো ভাল মৌল ভিত্তির কোম্পানির শেয়ারের দাম সেইভাবে বাড়ে না, যেভাবে বাড়ে দুর্বল মৌল ভিত্তির বা ছোট মূলধনের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর।

প্রসঙ্গত.বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান তার কয়েক দফা প্রস্তাবে সর্বপ্রথম এ বিষয়টি তুলে ধরেন । কিন্তু বিষয়টি এখন ধামাচাপা পড়ে গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here