স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক একাংশের দুই মাস উৎপাদন বন্ধ

0
108

স্টাফ রিপোর্টার : স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড তাদের কারখানার একটি পুরনো গ্লস্ট কিন বা চুল্লি সংস্কার করবে। এজন্য ১৪ আগস্ট থেকে দুই মাস কারখানার বড় অংশ বন্ধ থাকবে। অক্টোবর মাসের শেষদিকে কারখানাটির এ অংশ পুনরায় চালু হবে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, চুল্লি বা গ্লস্ট কিন সংস্কারের জন্য গত বছরের সেপ্টেম্বরে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে জাপান থেকে নতুন মেশিন কিনতে এলসি খোলার সিদ্ধান্ত নেয় কোম্পানিটি। মেশিনটি যুক্ত হলে কোম্পানিটির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে এবং উৎপাদন খরচও কিছুটা কমবে বলে আশা প্রকাশ করছে কোম্পানির পর্ষদ। অবশ্য নতুন মেশিন কেনার এ সিদ্ধান্ত কোম্পানিটির পর্ষদ ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে নিয়েছিল।

চলতি বছরের মে মাসে কোম্পানিটির পর্ষদ ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে রোলার ফরমিং মেশিন কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। মূলত কোম্পানিটির উৎপাদন বাড়াতে এ মেশিন আমদানি করা হবে। এর আগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে কোম্পানিটি উৎপাদন কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন ব্র্যান্ডের জিগারিং মেশিন আমদানি করেছে।

২০১৭ সালে ১ কোটি টাকা ব্যয়ে টানেল কিন, ১০ লাখ টাকায় গ্রিন্ডারিং মেশিন এবং ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে রোলার হেড মেশিন আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ২০১৮ সালে এ মেশিনগুলো কারখানায় স্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে কোম্পানি সচিব জামাল উদ্দীন ভূঁইয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি।

এসব সংস্কারের ফলে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চলতি হিসাব বছরের তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৫২ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৫৪ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের ইপিএস হয়েছে ৭২ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৭৮ পয়সা। ৩১ মার্চ, ২০১৯ শেষে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৩৪ পয়সা।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের জন্য স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক উদ্যোক্তা ও পরিচালক বাদে অন্য শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। গেল হিসাব বছর ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৫৮ পয়সা। ৩০ জুন এনএভিপিএস ছিল ১৪ টাকা ৯৬ পয়সা।

কোম্পানিটির নিরীক্ষক জানান, রিটেইনড আর্নিংস নেগেটিভ থাকা সত্ত্বেও কোম্পানিটি নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আলোচ্য বছরে কোম্পানিটির রিটেইনড আর্নিংস ৯২ লাখ ৫০ হাজার ৬৪০ টাকা নেগেটিভ ছিল। বিএসইসির আইনে বলা হয়েছে, রিটেইনড আর্নিংস এবং ঋণ হিসাব ঋণাত্মক হলে কোনো প্রকার লভ্যাংশ ঘোষণা করা যাবে না।

২০১৭ হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি ৩৯ পয়সা লোকসান হওয়ায় শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক। ২০১৬ হিসাব বছরে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা।

১৯৯৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের অনুমোদিত মূলধন ১০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ৬ কোটি ৪৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২ দশমিক ৫৭ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৬৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here