সোনালী ব্যাংক এমডি প্রদীপ কুমার দত্তের মেয়াদ বাড়ল

0
730

স্টাফ রিপোর্টার : সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রদীপ কুমার দত্তের এক বছর মেয়াদ বাড়ল। পরিচালনা পর্ষদ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার মেয়াদ বৃদ্ধি অনুমোদন করে ব্যাংকটিকে চিঠি পাঠিয়েছে। তবে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি সৈয়দ আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়ায় তার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি যাচাই করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের ব্যাংকের এমডি নিয়োগ বা মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হয়। এজন্য সম্প্রতি ব্যাংক দুটির এমডির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি চূড়ান্ত করার পর তা অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা রোববার জানান, সোনালী ব্যাংকের এমডির মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অগ্রণী ব্যাংকের এমডির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়ায় তার বিষয়ে যাচাই চলছে।

জানা গেছে, সোমবার (আজ) শেষ হচ্ছে সোনালী ব্যাংকের এমডি প্রদীপ কুমার দত্তের মেয়াদ। আর আগামী ১০ জুলাই মেয়াদ শেষ হবে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি আবদুল হামিদের। এছাড়া জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে শেষ হবে রূপালী ব্যাংকের এমডি এম ফরিদ উদ্দিনের মেয়াদ। সম্প্রতি এক বছরের জন্য তাদের মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন দেয় সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।

পর্ষদের অনুমোদনের পর গত মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তিন ব্যাংকের এমডির মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর বিষয়টি চূড়ান্ত করে। সোনালী ও অগ্রণী ব্যাংকের এমডির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি চূড়ান্তের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। এছাড়া রূপালী ব্যাংকের এমডির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি পাঠানো হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে।

প্রস্তাব পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল সোনালী ব্যাংকের এমডি প্রদীপ কুমার দত্তের মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর অনুমোদন দিলেও আটকে দিয়েছে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি সৈয়দ আবদুল হামিদের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি।

এর কারণ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, সানমুন গ্রুপের কর্ণধার মিজানুর রহমান মিজান ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ঋণ প্রদানের ঘটনায় গত মাসে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি সৈয়দ আবদুল হামিদের জড়িত থাকার বিষয়ে বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরে অর্থ মন্ত্রণালয় ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এতে অনিয়মের সঙ্গে ব্যাংকটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মিজানুর রহমান খানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি পাওয়ার পর অগ্রণী ব্যাংকের পর্ষদ ব্যাংকটির অডিট কমিটিকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে।

ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও ব্যাংকিং সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এমডির জ্ঞাতসারে ও তার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতে ব্যাংকটির প্রিন্সিপাল শাখার একটি চক্র পরিচালনা পর্ষদকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে মিজানুর রহমান মিজান ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করে। এর মাধ্যমে আমানতকারীদের প্রায় ৩০০ কোটি টাকাকে ঝুঁকিগ্রস্ত করা হয়েছে, সার্বিকভাবে যার দায়ভার ব্যাংকের এমডির ওপর বর্তায়।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এমডিদের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। জনতা ব্যাংকের সাবেক এমডি এসএম আমিনুর রহমানের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ায় তার মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন দেয়া হয়নি। এতে সরকার থেকেও কোনো চাপ আসেনি। এবারো নানা অভিযোগ থাকায় অগ্রণী ব্যাংকের এমডির ক্ষেত্রে একই সিদ্ধান্ত হতে পারে।

উল্লেখ্য, সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৫ (৪) ধারায় বলা হয়েছে, ‘বিশেষায়িত ব্যাংক ব্যতীত অন্য যেকোনো ব্যাংক-কোম্পানিকে এর পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিযুক্তি কিংবা পদায়নের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে। এভাবে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়া পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া, বরখাস্ত করা বা অপসারণ করা যাবে না।’ আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমডিদের মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এ ক্ষমতারই প্রয়োগ করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here