সোনারগাঁও টেক্সটাইলের ‘নো পজেটিভ নিউজ’

0
1737

সিনিয়র রিপোর্টার : খান সন্স গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হলো সোনারগাঁও টেক্সটাইল লিমিটেড। গ্যাসভিত্তিক পাওয়ার প্লান্ট তৈরি এবং সাবসিডিয়ারি (সাশ্রয়ী) রেটে বিদ্যুৎ সরকারের কাছে বিদ্যুতের জন্য আবেদন করেও অবশেষে তা পায়নি কোম্পানির কর্তৃপক্ষ।

যে কারণে কোম্পানির উৎপাদন এবং শেয়ার প্রতি আয়ে সাফল্য অর্জন করতে পারেনি সোনারগাঁও টেক্সটাইল লিমিটেড। কমেছে এবং কমছে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয়। সম্ভাবনা হয়েছে ক্ষীণ।

আয় বৃদ্ধি না হওয়ায় ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের জন্য চলতি বছরে বিশেষ শুভ সংবাদ থাকছে না। কোম্পানির ক্যাটাগরি পরিবর্তন এবং সহযোগী কোম্পানিকে একীভূতকরণ করার ইচ্ছা থাকলেও কোম্পানির কর্তৃপক্ষ তা পারেনি। না পারায় এবারেও ‘নো পজেটিভ নিউজ’ বলে কোম্পানির বিশেষ সূত্র আভাস দিয়েছে।

গত বছরে খান সন্স গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সোনারগাঁও টেক্সটাইল লিমিটেডের ক্যাটাগরী পরিবর্তন সম্পর্কে আভাস মিলেছিল। বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তা গুড়ে বালি।

খান সন্স গ্রুপের স্পিনিং মিলস রয়েছে ৩টি। সোনারগাঁও টেক্সটাইল, মাদারীপুর টেক্সটাইল এবং খান সন্স টেক্সটাইল। এরমধ্যে সোনারগাঁও ও মাদারীপুর টেক্সটাইলস বিদ্যুৎভিত্তিক পরিচালিত। খান সন্স অটোমোবাইলস নামেও একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

খান সন্স টেক্সটাইলের জমির পরিমাণ ২৮ একর এবং সোনারগাঁও টেক্সটাইলের জমির পরিমাণ ১০ একর। মিলের আয়তন হিসেবে খান সন্সে স্পিন্ডিল রয়েছে ৩৫ হাজার এবং সোনারগাঁও কোম্পানির রয়েছে ৭২ হাজার। আয়তনে খান সন্স অনেক বড় মিল হলেও পুরাতন মেশিন এবং বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সুতা উৎপাদন বৃদ্ধি হচ্ছে না।যে কারণে মিলের আগামী নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে (একটির বিপরীকে একটি শেয়ার) রাইট শেয়ার ছেড়ে টাকা উত্তোলন করলেও উৎপাদনের পরিমাণ বিশেষ  বাড়েনি। অন্যদিকে লভ্যাংশ ঘোষণার নামে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ বোনাস শেয়ারে মুলধন বাড়িয়েছে। এরপরে ২০১৪ সাল থেকে ‘নো ডিভিডেন্ড’ দিয়ে বিনিয়োগকারীদের ঠকিয়ে আসছে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ।

উৎপাদন বৃদ্ধিতে দেশীয় বাজারে পণ্য (সুতা) বাজারজাত করে যা আয় হচ্ছে, তা দিয়ে কোম্পানিটি বিশেষ আয়ের মুখ দেখছে না। যে কারণে বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘নো পজেটিভ নিউজ’ বলে আভাস মিলেছে।

ডিএসই থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদন

কোম্পানির আয়ের পরিসংখানে দেখা গেছে, অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে কোম্পানির আয় গত বছরে তুলনায় আরো শোচনীয়ভাবে কমেছে। যে কারণে সম্ভাবনার চেয়ে আগামী নিয়ে আশঙ্কাই বেশি রয়েছে। (আয়ের চিত্র নিচের এবং উপরে ডিএসই থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখুন)

তৃতীয় প্রান্তিক : (জানুয়ারি-মার্চ-২০১৭) কেম্পানির ইপিএস হয়েছে ২৪ পয়সা। আগের বছরে একই সময়ে ছিল .২৬ পয়সা।

দ্বিতীয় প্রান্তিক : ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর,২০১৬) শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৬৭ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ছিল কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি মুনাফায় ছিল ৬ পয়সা।

আলোচ্য সময়ে কোম্পানির শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদমূল্য (এনএভি) হয়েছে ২৯ টাকা ৩৪ পয়সা। যা আগের বছর একইসময় ছিল ৩০ টাকা ১ পয়সা।

শেষ ৩ মাসে (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ১৬) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ২২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটি মুনাফায় ছিল ৪৪ পয়সা।

প্রথম প্রান্তিক : (জুলাই-সেপ্টেম্বর১৬) কোম্পানির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৪৫ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে কোম্পানির লোকসান হয়েছে ৫২ পয়সা। এসময়ে কোম্পানির শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য ছিল ২৯ টাকা ৫৫ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩০ টাকা ১ পয়সা।

শিগগিরই কোম্পানির বোর্ড মিটিংয়ের ঘোষণা আসবে এবং নভেম্বর মোসে কোম্পানির এজিএম সম্পন্ন হবে বলে আভাস মিলেছে। বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০ জুন কোম্পানির হিসাব বছর শেষ হয়েছে।

গত বছরে কোম্পানির শেয়ার প্রতি লোকসান ছিল ২ টাকা ১৭ পয়সা। বছর শেষে শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয় ৩১ টাকা ৩৮ পয়সা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here