রাহেল আহমেদ শানু : বেসরকারি খাতে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী গ্রুপগুলোর মধ্যে সামিট ও ইউনাইটেড গ্রুপের শীর্ষে। এই খাতে সামিটের পর বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ইউনাইটেড গ্রুপ। যার উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় হাজার মেগাওয়াট। ইউনাইটেড গ্রুপের অনেকগুলো কোম্পানির মধ্যে ইউনাইটেড পাওয়ার অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড পুজিবাজারে তালিকাভুক্ত।

জ্বালানী মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনাইটেড পাওয়ার ঢাকা ও চট্রগ্রাম ইপিজেডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে তাকে কোম্পানির ৮০ মেগাওয়াটের দুটি প্লান্টের মাধ্যমে। বাংলাদেশে একমাত্র ইউনাইটেড পাওয়ার অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড সরাসরি গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করার অনুমোদন রয়েছে।

অন্যান্য কোম্পানি সরকারের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে। এরপরে সরকার তা গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে। দেশে একটি মাত্র বেসরকারি কোম্পানি নিজস্ব বিদ্যুৎসংযোগ লাইনের মাধ্যমে সরাসরি গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে থাকে। যে কারণে কোম্পানির আর্থিক চিত্র অনেক ভালো। একই সঙ্গে কোম্পানিতে উদ্যোক্তদের শেয়ার ধারণ ও লভ্যাংশ প্রদানের পরিমাণ অনেকগুণে বেশি।

৩০ জুন, ২০১৬ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানির পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৪৫ শতাংশ চূড়ান্ত লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। এর আগে কোম্পানিটি ১২ মাসের জন্য ৮০ শতাংশ অন্তরবর্তীকালীন লভ্যাংশ দেয়। সব মিলে ১৮ মাসে কোম্পানিটি ১২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। অন্যান্য বছরগুলোতের অনেক ভালো করেছে। ইতোমধ্যে কোম্পানির লভ্যাংশ নির্ধারণী সভার সময় এসেছে।

জ্বালানী মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানির সঙ্গে সরকারের বিদ্যুৎ বিক্রির চুক্তি ৩০ বছরের রয়েছে। এতো দীর্ঘ মেয়াদী কোন চুক্তি অন্যকোন কোম্পানির নেই। একই সঙ্গে কোম্পানির দীর্ঘ বা স্বল্প মেয়াদী কোন ঋণ নেই। যা ছিল তা পরিশোধ করা হয়েছে।

ফলে কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের অধিকহারে নগদ লভ্যাংশ দেয়ার সক্ষমতা পেয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানির বাড়ছে রিজার্ভ। ফলে অর্থ অলস না রেখে তা বিনিয়োগ করায় মনোযোগি হয়েছে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ। যে কারণে রাষ্ট্রায়ত্ব বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবিকে সম্প্রতি কোম্পানির পরিচালনা পরিষদে সংযুক্ত করা হয়েছে।

কিছু দিন আগে সরকার নতুন করে আরো পাওয়ার প্লান্ট করার অনুমোদন দিয়েছে। ইউনাইটেড গ্রুপ মোট ৩০০ মেগাওয়াটের দুটি (একটি ১০০ ও অন্যটি ২০০) প্লান্ট করার অনুমোদন পেয়েছে। পাশাপাশি চট্রগ্রামে ৩০০ মেগাওয়াটের আরও একটি প্লান্ট তৈরির কাজ চলছে। সব ঠিকভাবে হলে আগামী বছর গ্রীষ্মের আগেই প্লান্টগুলো উৎপাদনে আসবে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের দ্রুত বর্ধনশীল খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম হল বিদ্যুৎ খাত। সরকার বিগত আট বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন পাঁচ হাজার থেকে পনের হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করলেও চাহিদার তুলনায়ে এখনো তা যথেষ্ট পিছিয়ে। তাই নতুন নতুন বিদ্যুৎ প্লান্ট তৈরির অনুমোদন দেয়া হচ্ছে ব্যাপক হারে।

যেহেতু চাহিদার তুলনায় যোগান কম সেহেতু বিদ্যুৎ কোম্পানিগুল চুটিয়ে ব্যবসা করছে। এই ধারা আগামী কয়েক বছর অব্যাহত থাকবে বলে আশা কার যাচ্ছে। দেশ বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো ব্যবসা কমার আশঙ্কা নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here