সেটেলমেন্ট গেজেট প্রকাশ করেছে বিএসইসি

0
887

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সব সিকিউরিটিজের (শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড, বন্ড, ডিবেঞ্চার প্রভৃতি) লেনদেন নিষ্পত্তির (সেটেলমেন্ট) জন্য স্বতন্ত্র ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে একটি সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টি (সিসিপি) গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

চলতি বছরের এপ্রিলে বিএসইসি ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট বিধিমালার খসড়া প্রকাশ করে এবং স্টেক হোল্ডারদের মতামত আহ্বান করে। স্টেক হোল্ডারদের মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সাপেক্ষে বিধিমালাটি চূড়ান্ত করেছে কমিশন। ১৩ জুন বাংলাদেশ গেজেটে বিধিমালাটি প্রকাশিত হয়েছে।

চূড়ান্ত বিধিমালায় ডিমিউচুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জের মতো সিসিপিতেও কৌশলগত বিনিয়োগকারীর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে কৌশলগত বিনিয়োগকারীকে অবশ্যই বিদেশী কোনো প্রতিষ্ঠান হতে হবে, যাদের সিসিপি, এক্সচেঞ্জ বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

বিধিমালায় বলা হয়েছে, সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টি ডিমিউচুয়ালাইজড আকারে গঠন করা হবে অর্থাৎ এর মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা আলাদা থাকবে। এ কোম্পানির ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন হবে ৩০০ কোটি টাকা, যেটি খসড়ায় ৫০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। নিট সম্পদ কখনই পরিশোধিত মূলধনের ৭৫ শতাংশের নিচে নামতে পারবে না। তবে কমিশন সময়ে সময়ে নির্ধারিত ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন পর্যাপ্ততা সংরক্ষণের নির্দেশ দিতে পারবে।

সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টির নিবন্ধনের যোগ্যতার বিষয়ে চূড়ান্ত বিধিমালায় বলা হয়েছে, কোম্পানি আইন ১৯৯৪ আইন অনুসারে গঠিত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি এবং সংঘ স্মারকে সিসিপি হিসেবে সব ধরনের সিকিউরিটিজের ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি উল্লেখ করতে হবে। তাছাড়া সিসিপির পরিশোধিত মূলধনের ৪৯ শতাংশের বেশি শেয়ার কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকতে পারবে না এবং স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃক একক কিংবা যৌথভাবে ন্যূনতম ২৫ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে। তাছাড়া কোনো ঋণখেলাপি এ কোম্পানির পরিচালক হতে পারবেন না।

সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টির শেয়ার ধারণের বিষয়ে বলা হয়েছে, মোট ইস্যুকৃত এবং পরিশোধিত মূলধনের সর্বোচ্চ ৬৫ শতাংশ শেয়ার এক্সচেঞ্জসমূহ যৌথভাবে ধারণ করতে পারবে। তবে কোনো এক্সচেঞ্জ এককভাবে ৪৯ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবে না। খসড়া বিধিমালায় দুই এক্সচেঞ্জের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে পারবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ শেয়ার যৌথভাবে অথবা এককভাবে ধারণ করতে পারবে। তাছাড়া সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শেয়ার ব্যাংকগুলো যৌথভাবে ধারণ করতে পারবে। তবে এককভাবে কোনো ব্যাংক ২ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবে না। খসড়ায় ব্যাংকের সর্বোচ্চ শেয়ার ধারণে সীমা ছিল ১০ শতাংশ।

তাছাড়া খসড়া বিধিমালায় ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমা কোম্পানির শেয়ার ধারণে সুযোগ থাকলেও চূড়ান্ত বিধিমালায় স্টেক হোল্ডারদের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বাদ দেয়া হয়েছে।

এদিকে স্টক এক্সচেঞ্জের মতো সিসিপিতেও কৌশলগত বিনিয়োগকারীর ওপর জোর দেয়া হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে তাদের অবশ্যই বিদেশী হতে হবে, যাদের বিনিয়োগ সিসিপির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে পারবেন কৌশলগত বিনিয়োগকারীরা, যেটি খসড়া বিধিমালায় ছিল ২৫ শতাংশ।

কৌশলগত বিনিয়োগকারী পাওয়ার আগে কোনো ডিপোজিটরির কাছে এর অংশের শেয়ার ইস্যু করা যাবে এবং অর্জিত স্টক লভ্যাংশ কৌশলগত বিনিয়োগকারীর কাছে শেয়ার হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত ব্লকড হিসেবে জমা থাকবে। সিসিপি চালুর তিন বছরের মধ্যে কমিশন কৌশলগত বিনিয়োগকারীর কাছে শেয়ার বিক্রির নির্দেশনা দিতে পারবে এবং নির্দেশনা প্রদানের এক বছরের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। ক্লিয়ারিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট কোম্পানির শেয়ার অজড় অবস্থায় বরাদ্দ করা হবে।

ক্লিয়ারিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট কোম্পানির পর্ষদে ১৪ জন পরিচালক থাকবেন, যেখানে এর আগে খসড়ায় ১১ জন পরিচালকের কথা বলা হয়েছিল। এর মধ্যে সাতজন হবেন স্বতন্ত্র পরিচালক; যদিও আগে ছয়জন স্বতন্ত্র পরিচালক থাকার কথা বলা হয়েছিল। স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে খসড়া বিধিমালায় দুজন পরিচালকের কথা বলা হলেও চূড়ান্ত বিধিমালায় তিনজনের কথা বলা হয়েছে।

তাছাড়া ডিপোজিটরি থেকে একজন, ব্যাংক থেকে একজন এবং কৌশলগত বিনিয়োগকারী থেকে একজন পরিচালক মনোনীত হবেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদাধিকার বলে পর্ষদে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভায় স্বতন্ত্র পরিচালকগণের মধ্য থেকে একজনকে চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হবে।

খসড়ায় ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদের মেয়াদ পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হলেও চূড়ান্ত বিধিমালায় এটি কমিয়ে চার বছর করা হয়েছে।

ক্লিয়ারিং অ্যান্ড সেটেলমেন্টে অংশগ্রহণকারীর যোগ্যতার বিষয়ে চূড়ান্ত বিধিমালায় বলা হয়েছে, সেলফ ক্লিয়ারিংয়ে শুধু স্টক ব্রোকার বা স্টক ডিলাররা অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

অন্যদিকে পূর্ণ ক্লিয়ারিংয়ে শুধু উচ্চ নিট সম্পদ রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান, যারা সব ধরনের সেটেলমেন্ট ঝুঁকি বহন করতে পারবে, তারা অংশগ্রহণ করতে পারবে। ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্টক ব্রোকার বা ডিলার এতে অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য হবেন। এই শ্রেণীর ক্লিয়ারিং অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে খসড়ায় ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ১ কোটি টাকা উল্লেখ করা হলেও চূড়ান্ত বিধিমালায় এটি ৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে।

এদিকে চূড়ান্ত বিধিমালায় অংশগ্রহণকারীর নিবন্ধন ফি পূর্ণ ক্লিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা এবং সেলফ ক্লিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেটি খসড়া বিধিমালায় ছিল যথাক্রমে ১ লাখ ও ৫০ হাজার টাকা।

তাছাড়া খসড়ায় সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি, লেনদেনের ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট-সংক্রান্ত সকল তথ্য ও উপাত্ত তার কার্যালয় থেকে ভিন্ন ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত অন্তত দুটি ভিন্নস্থানে ন্যূনতম ১২ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করার কথা বলা হলেও চূড়ান্ত বিধিমালায় এটি ১০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইনের সংশোধনীতে ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট পদ্ধতি চালু করার বিষয়টি সংযোজিত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here