বিক্রয় চাপে কমছে সূচক

0
333

সিনিয়র রিপোর্টার : আগের সপ্তাহে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও গেল সপ্তাহে বিক্রয়চাপ স্পষ্ট হয় দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে। সপ্তাহের চার কার্যদিবসেই নিম্নমুখী ছিল সূচক, তবে বেড়েছে লেনদেনের দৈনিক গড়।

সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধির পর অনেক বিনিয়োগকারীর মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতাই এর মূল কারণ বলে মনে করছেন বাজার-সংশ্লিষ্টরা।

জন্মাষ্টমীর ছুটির কারণে বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ ছিল। চার কার্যদিবসেই পয়েন্ট হারায় উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ সব সূচক।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, আগের সপ্তাহে ৪ হাজার ৬০০ পয়েন্টে উন্নীত হওয়ার পর থেকেই কমতে থাকে ঢাকার শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স। বৃহস্পতিবার ব্রড ইনডেক্সটি ৪ হাজার ৫৫৪ দশমিক ২৭-এ দাঁড়ায়। এক সপ্তাহে সূচকটি দশমিক ৬৭ শতাংশ কমেছে।

এদিকে ১ শতাংশের বেশি কমে ১ হাজার ৭৪৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্লু-চিপ সূচক ‘ডিএসই ৩০’। ১ দশমিক ২৬ শতাংশ কমেছে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস।

এদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্রড ইনডেক্স সিএসসিএক্স এক সপ্তাহের ব্যবধানে দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৫২১ পয়েন্টে। দশমিক ৮৯ শতাংশ কমেছে নির্বাচিত কোম্পানিগুলোর সূচক সিএসই-৩০।

ব্যাংক, টেলিযোগাযোগ, খাদ্য-আনুষঙ্গিক, ওষুধ-রসায়নের মতো বড় মূলধনি খাতের বেশির ভাগ কোম্পানির দরপতনে একদিকে সূচক কমেছে, অন্যদিকে বেড়েছে লেনদেন। সপ্তাহ শেষে ডিএসইর দৈনিক গড় লেনদেন ৫০০ কোটি টাকা ছাড়ায়, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪৪৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

ডিএসইতে ১২৬টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে সপ্তাহ শেষে কমেছে ১৭৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৬টির বাজারদর। লেনদেন হয়নি দুটি সিকিউরিটিজের।

সিএসইতে ১০১টির দরবৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ১৫৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৫টির বাজারদর।

বাজার-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বড় মূলধনি, স্বল্প মূলধনি সব ক্যাটাগরির কোম্পানিতেই কমবেশি মুনাফা করেছেন বিনিয়োগকারীরা। আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছু মুনাফা তুলে নেয়ার একটি প্রবণতা শুরু হয়েছে।

এছাড়া ৪ হাজার ৬০০ পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক বাধা সব ক্যাটাগরির বিনিয়োগকারীর ক্ষেত্রেই কাজ করেছে।

বিনিয়োগকারীদের কাছে সপ্তাহের উল্লেখযোগ্য খবরগুলো ছিল— অর্থবছর শেষে চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত অর্ধেকে নেমে আসার আশঙ্কা, ট্রেজারি বন্ড ও বিলের সুদ কমে আসা, চীনে বাংলাদেশের চামড়া, তামাকসহ ১৭টি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের আলোচনা ও ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকা।

খাতভিত্তিক চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিএসইতে আগের সপ্তাহের মতোই লেনদেনে প্রাধান্য ধরে রাখে প্রকৌশল খাত। স্টক এক্সচেঞ্জটির মোট কেনাবেচায় এ খাতের কোম্পানিগুলোর অবদান ২০ থেকে ২১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

এদিকে আগের সপ্তাহে দুই নম্বরে থাকলেও এ সপ্তাহে ওষুধ-রসায়ন খাতের অবস্থান তৃতীয় অবস্থানে নেমে এসেছে। বিপরীতে বিদ্যুত্-জ্বালানি খাতের অংশ ১১ থেকে ১৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

দরচিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাজার মূলধন বৃদ্ধিতে গেল সপ্তাহে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল জীবন বীমা খাত, ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। এর পর যথাক্রমে ভ্রমণ-অবকাশ ১ দশমিক ৭৯, পাট ১ দশমিক ৭, সিরামিক দশমিক ৭৭, সেবা-আবাসন দশমিক ৭৬, সিমেন্ট ও এনবিএফআই দশমিক ৩৮, বিদ্যুত্-জ্বালানি দশমিক ৩৩ এবং সাধারণ বীমা খাতের দশমিক ৩ শতাংশ বাজার মূলধন বৃদ্ধি ছিল উল্লেখযোগ্য।

বিপরীতে দরপতনের সবচেয়ে এগিয়ে ছিল খাদ্য-আনুষঙ্গিক খাত, বাজার মূলধন কমেছে ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এর পর যথাক্রমে তথ্যপ্রযুক্তি ৩ দশমিক শূন্য ২, টেলিযোগাযোগ ১ দশমিক ৪৪, ওষুধ-রসায়ন ১ দশমিক ৪১, চামড়া ১ দশমিক ৩৬, ব্যাংক দশমিক ৫১ ও বস্ত্র খাতের দশমিক ৪৬ শতাংশ দরপতন ছিল উল্লেখযোগ্য।

ডিএসইতে সপ্তাহের দরবৃদ্ধির তালিকায় সবার উপরে ছিল যথাক্রমে ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, ন্যাশনাল টিউবস, অ্যাম্বি ফার্মা, এপেক্স ফুডস, এটলাস বাংলাদেশ, ডেল্টা লাইফ, জিকিউ বলপেন, রহিম টেক্স, মেঘনা সিমেন্ট ও এসইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড।

বিপরীতে দরপতনের তালিকায় ছিল যথাক্রমে অষ্টম আইসিবি, স্কয়ার টেক্সটাইল, রহিমা ফুড, বিডি ওয়েল্ডিং, এনএলআই ফার্স্ট, সোনারগাঁও, দুলামিয়া কটন, জিল বাংলা, সাউথইস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও লিবরা ইনফিউশন্স লিমিটেড।

লেনদেনে সবার উপরে ছিল এমজেএল বিডি, শাহজিবাজার পাওয়ার, ন্যাশনাল টিউবস, বিএসআরএম লিমিটেড, ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা, কেয়া কসমেটিকস, আমান ফিড, একমি ও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

সপ্তাহ শেষে ডিএসইর গড় বার্ষিক মূল্য আয় (পিই) অনুপাত দাঁড়ায় ১৪ দশমিক ৮৮-তে এবং গড় প্রকৃত লভ্যাংশ (ডিভিডেন্ড ইল্ড) ২ দশমিক ৯৫ শতাংশে। আন্তঃব্যাংক লেনদেনে (কলমানি) স্বল্পমেয়াদি সুদের হার ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশের আশপাশে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here