সূচকের পতন হলেও তা ‘স্বাভাবিক আচরণ’

0
888
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে গণঅনশনরত বিনিয়োগকারীরা

শাহীনুর ইসলাম : ২০১৭ সালের পর অর্থাৎ ২৭ মাস পরে সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিল সর্বনিম্ন পর্যায়ে। সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবসেই প্রায় ১০০ পয়েন্ট কমায় ডিএসইর সামনে প্রতীকি গণঅনশন করেছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ঐক্য পরিষদ।

সূচকের পতনে শেয়ার দরে সামান্য প্রভাব পড়লেও বাজার স্বাভাবিক আচরণ করছে। ‘সূচক শুধু বাড়বেই-কমবে না, এটা তো হয়না। বরং পূর্বের তুলনায় বাজার অনেক ভালো রয়েছে’ বলে দাবি করেছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।

ডিএসইর সামনে প্রতীকি গণঅনশন করেছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ঐক্য পরিষদ

পুঁজিবারের স্থিতিসহ ১২ দফা দাবিতে সোমবার দুপুরে গণঅনশন করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ঐক্য পরিষদ। দাবির মধ্যে বিএসইসির চেয়ারম্যানের পদত্যাগ এবং প্রতিটি কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্যের নিচে যে শেয়ারগুলো রয়েছে সেগুলোকে বাইব্যাক করার কথা বলা হয়েছে। তাদের দাবি- বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্যের নিচে অবস্থান করছে। সূচকের পতনে এসব কোম্পানির শেয়ার দরে নিম্নগতি।

তাদের দাবির প্রেক্ষিতে ২০১১ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১১৯টি কোম্পানির শেয়ারপ্রতি দর নিয়ে সমীক্ষা করা হয়েছে। স্টক বাংলাদেশ -এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পুঁজিবাজারের সূচক উত্থান এবং পতন ঘটলেও তা স্বাভাবিক আচরণ। যদিও ২০১৭ সালের পর ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল অর্থাৎ ২৭ মাস পরে সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিল সর্বনিম্ন পর্যায়ে।

তবে মহাধস ২০১০ সালের পরে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন কার্যকরী ভূমিকার কারণে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দরে পতন ঘটেনি। ৮ এপ্রিল শেয়ার লেনদেন হিসাবের সমীক্ষা অনুসারে দেখা গেছে, ১১৯টি কোম্পানির মধ্যে ফেসভেলুর নিচে শেয়ারপ্রতি দর রয়েছে মাত্র ১০টি কোম্পানির। প্রিমিয়াম ও ফেসভ্যেলুসহ কোম্পানির ইস্যু প্রাইসের নিচে শেয়ারপ্রতি দর নেমেছে মাত্র ২৭টির। কোম্পানিগুলো মোট লভ্যাংশ দিয়েছে ১২৬১.৭৬ শতাংশ। (নিচে পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত কোম্পানিগুলোর সমীক্ষা প্রতিবেদন দেখুন-)

ফেসভেলুর নিচে থাকা ফিক্সড প্রাইসে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বিস্তারিত নিচে দেখুন- জাহিনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ১৫টাকা প্রিমিয়াম এবং ১০ টাকা ফেস ভ্যেলু হিসেবে ২৫ টাকায় ২০১১ সালে তালিকাভুক্ত হয়। ৮ এপ্রিল শেয়ারপ্রতি দরের ক্লোজিং প্রাইস ছিল ৮.২০টাকা। ২০১৪ সালে তালিকাভুক্ত তুংহাই নিটিং এন্ড ডাইং লিমিটেডের শেয়ারপ্রতি দর ছিল ৫.৮০টাকা।

২০১৫ সালে তালিকাভুক্ত বর্তমানে ‘জেট’ ক্যাটাগরির এবং উৎপাদন বন্ধ চট্টগ্রামের সিএন্ডএ টেক্সটাইলের ১০ টাকা ফেসভ্যেলুর শেয়ারের দর ৩টাকা এবং ২০১৩ সালে তালিকাভুক্ত চট্টগ্রামের কোম্পানি ফেমিলিটেক্সের ১০ টাকা ফেসভ্যেলু শেয়ার এখন ৩.৯০ টাকায় মিলছে।

২০১২ সালে তালিকাভুক্ত জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনের ১০ টাকা ফেসভ্যেলু শেয়ারের দর এখন ৫.৮০ টাকা। ২০১৩ সালে যুক্ত হওয়া ফারইস্ট ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের মূল্য ৫.৮০ টাকা, প্রিমিয়ামসহ ২২ টাকা ফেসভ্যেলু নেয়া এ্যাপোলো ইস্পাত কোম্পানির বর্তমান শেয়ারপ্রতি দর ৬.৮০ টাকা।

২০১৫ সালে তালিকাভুক্ত ন্যাশনাল ফিড মিলের ১০ টাকা ফেসভ্যেলু শেয়ারের দর এখন ৮.৬০ টাকা। ৩০টাকা প্রিমিয়ামসহ ৪০টাকা ফেস ভ্যেলুতে ২০১২সালে তালিকাভুক্ত হওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি জিবিবি পাওয়ারের বর্তমান শেয়ারপ্রতি দর ৯.৬০ টাকা এবং ২০১৫ সালে তালিকাভুক্ত জাহিন স্পিনিংয়ের ১০ টাকার শেয়ারের বর্তমান মূল্য ৯টাকা।

একই সঙ্গে গত ৮ বছরে ইস্যু প্রাইসের নিচে স্বাভাবিকভাবে দর নেমেছে মাত্র ২৭টি কোম্পানির।

২০১৮ সালে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে ৭২ টাকা অফার প্রাইসে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির বর্তমানে (৮ এপ্রিল হিসাব) শেয়ারপ্রতি দর ৬৭.২০টাকা। ২০১১ সালে তালিকাভুক্ত রংপুর ডেইরি এন্ড ফুড প্রোডাক্টস (আরডি ফুড) ৮ টাকা প্রিমিয়ামসহ ১৮টাকা ফেস ভ্যেলু শেয়ারের দর চলছে ১৪.৮০টাকা। একই সালে এমআই সিমেন্ট ১০১.৬০ টাকা প্রিমিয়ামসহ ১১১.৬০ টাকায় তালিকাভুক্ত হলেও শেয়ারপ্রতি দর চলছে মাত্র ৭৩.৭০ টাকা।

জিএসপি ফাইন্যান্স ২০১২ সালে প্রিমিয়ামসহ ২৫ টাকা গ্রহণ করলেও বর্তমান দর ১৯.৯০ টাকা, অরিয়ন ফার্মা ২০১৩ সালে প্রিমিয়ামসহ ৬০ টাকা গ্রহণ করলেও বর্তমান শেয়ারপ্রতি দর ৩২.২৪ টাকা, ৩৫ টাকা গ্রহণকারী হামিদ ফেব্রিক্সের দর চলছে ২০.৫০ টাকা। ২০১১ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন কারণে ২৭টি কোম্পানির ইস্যু মূল্যের চেয়ে দর কমেছে।

উল্লেযোগ্য কারণ হিসেবে বেশিরভাগ কোম্পানি রাইট শেয়ার ছেড়েছে। ব্যবসা সম্প্রসারণে রাইট শেয়ারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করায় কোম্পানিগুলোর শেয়ার দরে নিম্নমূখী হয়। তবে ইনডেক্সের পতনের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক নেই বলে সমীক্ষায় দেখা গেছে।

তবে ইনডেক্স পতনের কারণে শেয়ারের দর পতন ঘটছে বলে আন্দোলনরত বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ।

তবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স -এর উঠানামা স্বাভাবিক আচরণ বলে দাবি করেন দেশের শীর্ষ মাচেন্ট ব্যাংক এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাহবুব এইচ মজুমদার।

তিনি স্টক বাংলাদেশকে বলেন, সূচকের ওঠা-নামা থাকবে। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ করতে হবে, এটা স্বাভাবিক আচরণ নয়। সূচক শুধু বাড়বেই-কমবে না, এটা তো হয়না। বরং পূর্বের তুলনায় বাজার অনেক ভালো রয়েছে। যে সব শর্তে তারা প্রতীকি গণঅনশন করছে, তা সঠিক নয়।

(আরো প্রকাশিত সমীক্ষা প্রতিবেদন দেখুন-)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here