সিলকো ফার্মার লেনদেন শুরু বৃহস্পতিবার

0
244

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের শেয়ারবাজারে বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন থেকে শেয়ার লেনদেন শুরু করতে যাচ্ছে সদ্য আইপিও’র মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করা কোম্পানি সিলকো ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেড। লেনদেন শুরুর একদিন আগে কোম্পানিটি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ২.০৮ শতাংশ কমেছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারী-মার্চ’১৯) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৪৭ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৪৮ টাকা্। সে হিসেবে কোম্পানির  ইপিএস বেড়েছে ০.০১ টাকা বা ২.০৮ শতাংশ। আর আইপিও পরবর্তী শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ০.৩২ টাকা।

এই সময়ে কোম্পানির কর পরবর্তী মোট মুনাফা হয়েছে ৩ কোটি ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে মুনাফা ছিল ৩ কোটি ১০ লাখ ৫ হাজার টাকা। সে হিসেবে কোম্পানির মুনাফা কমেছে ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

এদিকে, নয় মাসে (জুলাই’১৭-মার্চ১৮) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.২২ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ১.২২ টাকা্। সে হিসেবে কোম্পানির  ইপিএস অপরিবর্তীত রয়েছে। আর আইপিও পরবর্তী শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ০.৮৩ টাকা।

এই সময়ে কোম্পানির কর পরবর্তী মোট মুনাফা হয়েছে ৭ কোটি ৮৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে মুনাফা ছিল ৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। সে হিসেবে কোম্পানির মুনাফা কমেছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এছাড়া আলোচিত সময় কোম্পানির আইপিও পূববর্তী শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৮.২৭ টাকা। আইপিও পরবর্তী পরে যা দাঁড়িয়েছে ২২.৪৬ টাকা।

উল্লেখ্য, এন ক্যাটাগরিতে লেনদেন শুরু করা কোম্পানিটির ট্রেডিং কোড হল-“SILCOPHL”। ডিএসইতে কোম্পানির কোড-18495 আর সিএসইতে কোম্পানি কোড- 13035।

কোম্পানিটির আইপিওতে আবেদনকারীদের মধ্যে বরাদ্দ দেয়া শেয়ার ৭ মে শেয়ারহোল্ডারদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবে জমা হয়েছে।

এর আগে গত ১০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তন, রমনা, ঢাকায় সিলকো ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেডের আইপিও লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়। সিলকো ফার্মার আবেদন সংগ্রহ করা হয় গত ৭ মার্চ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত। ওইসময় কোম্পানিটির শেয়ার কেনার জন্য আইপিওতে ৯২৩টি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান থেকে আবেদন করা হয়েছে। যা সম্প্রতি আইপিও মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করা অন্য যেকোন কোম্পানির চেয়ে বেশি।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা নিউ লাইন ক্লোথিংসে ৮২৮টি, তৃতীয় স্থানে থাকা জেনেক্স ইনফোসিসে ৮৪৩টি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান থেকে আবেদন করা হয়। এরপরে অবস্থানে থাকা এসএস স্টিলে ৮২৮টি, কাট্টালি টেক্সটাইলে ৭৭১টি ও ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসে ৭৫৭টি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান থেকে আবেদন করা হয়।

এর আগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৬৬৯তম সভায় সিলকো ফার্মাসিটিক্যালের আইপিও অনুমোদন দেয়া হয়।

সিলকো ফার্মাসিটিক্যাল আইপিও’র মাধ্যমে ৩ কোটি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে ৩০ কোটি টাকা উত্তোলন করে। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। এরমধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ ৫০ শতাংশ বা ১৫ কোটি টাকা। এই ১৫ কোটি টাকার বিপরীতে ৯২৩টি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ২৭০ কোটি ৫০ লাখ ৫ হাজার টাকার আবেদন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে চাহিদার ১৮.০৩ গুণ বা ১৮০৩ শতাংশ আবেদন জমা পড়েছে।

কোম্পানিটি আইপিও টাকা দিয়ে কারখানা ভবন নির্মাণ, যন্ত্রপাতি ক্রয়, ডেলিভারী ভ্যান ক্রয় ও আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে।

কোম্পানিটির ৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত হিসাব বছরে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী শেয়ারপ্রতি নীট সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ২৫.৪১ টাকা। ৫টি আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী ভারিত গড় হারে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ওয়েটেড এভারেজ ইপিএস) হয়েছে ১.৪৬ টাকা।

উল্লেখ্য, কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে ইবিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড, সিটিজেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস লিমিটেড।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here