সিভিওর ‘প্লেইড গেম’, দায়ী কে?

0
487

রাহেল আহমেদ শানু : বহুল সমালোচিত কোম্পানি সিভিও পেট্রো কেমিক্যালের লেনদেন হঠাৎ জেড ক্যাটাগরীতে। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন গত ৩ বছর ধরে বন্ধ থাকায় শাস্তি হিসেবে বুধবার থেকে প্রতিষ্ঠানটির এই লেনদেন শুরু হয়। বিন্তু হঠাৎ কেনো?

সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ ও সিভিও’র কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমঝোতা করেই কী এই ‘প্লেইড গেম’ করেছেন। নানা গুজবের পরে প্রতিষ্ঠ‍ানটি যদি ‘গেইম খেলে’ তবে এর জন্য দায়ী  কে? পুঁজির নিরাপত্তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের এমন নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে উঠে এসছে নানা তথ্য।

সিভিও পেট্রো কেমিক্যালের লেনদেন দীর্ঘ ৫২ কার্যদিবস পর ১৫ ডিসেম্বর (রোববার) থেকে  চালু হয়। এর আগে ছিল নানা গুজব ও নাটকীয়তা। এর আগে কারসাজির অভিযোগে কোম্পানিটির লেনদেন স্থগিত হয়। অবশেষে ডিএসইর নিয়মিত বৈঠকে প্রতিস্ঠানটিকে অস্বাভাবিক লেনদেনে সহায়তা করায় ৩ প্রতিষ্ঠানকে ২২ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। এর পরই নাটকীয়তা শুরু।

নাটকীয়তার মূলে বৈঠক পরবর্তী ডিএসই ও সিএসইর বিশেষ চরিত্র রয়েছে। নিয়মিত বৈঠকে জরিমানার পর প্রতিষ্ঠানটির লেনদেন বিষয়ে দিনক্ষণ নির্ধারিতভাবে জানানো হয়নি। এমনকি সাজা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে জেড ক্যাটাগরীতে পাঠানো হচ্ছে, এমন ঘোষণাও দেয়া হয়নি।

নাটকের প্রথম দৃশ্য : সিভিও রোববার প্রথম লেনদেনের দিনে শেয়ার মূল্য বাড়ে ১৭৬ টাকা। দিন শেষে প্রতিষ্ঠানটি দর বৃদ্ধির তালিকায় প্রথম স্থান করে নেয়।

নাটকের দৃশ্য দুই : দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে উভয় পুঁবিাজার বন্ধ থাকে। এরপর দিন মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির  শেয়ার দর গত দিনের তুলনায় বাড়ে ৭.০৬ শতাংশ বা ৬২ টাকা। লেনদেনের তালিকাতেও বিশেষ অবস্থান নেয়। লেনদেন শেষে ডিএসইর ঘোষণা- আগামীকাল বুধবার থেকে সিভিও পেট্রোর লেনদেন হবে জেড ক্যাটাগরীতে। কারণ, প্রতিষ্ঠানটির লেনদেন ৩ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। যদিও একই দিনে আরো দুটি কোম্পানিকে এই শাস্তি প্রদান করা হয়।

নাটকের দৃশ্য তিন : দুই দিনের লেনদেনে প্রতিষ্ঠানটি বাজার থেকে প্রায় ৭২০ কোটি টাকা তুলে নেয়। মধ্যখানে অতিমূল্যায়িত শেয়ার ধারণ করে বিনিয়োগকারী পুঁজির নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন।

কারণ : কোনো প্রতিষ্ঠানের শেয়ার জেট ক্যাটাগরীতে হওয়ার ফলে লেনদেনের সময়সীমা হবে ৮ দিন। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার ক্রয় করতে হবে নগদ টাকায়। চাইলেই স্বল্প সময়ে পুঁজি বিনিয়োগ করা কিংবা দূর্যোগ মোকাবেলায় শেয়ার বিক্রি করে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ফলে ইতোমধ্যে যারা প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার কিনেছেন তারা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় আছেন।

প্লেইড গেম কি : সমঝোতার মাধ্যমে চুরি। একই বিষয় উভয়পক্ষ জানবে, তবে সুযোগ বুঝে একে অপরের অনুপস্থিতিতে চুরিও করবে অন্যদিকে শাস্তিও প্রদান করবে। সিভিও লেনদেনকে তাই বিশেষ অর্থে প্লেইড গেম বলা যায়।

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রশ্ন- পেট্রো ক্যামিকেলের কর্মকর্তা, সিএসই ও ডিএসই- এই গেমের সঙ্গে জড়িত। এর পেছনে তারা যুক্তি তুলে ধরেন- প্রতিস্ঠানটির লেনদেন তিন বছরে ধরে বন্ধ রয়েছে। ডিএসই ও সিএসই কর্তৃপক্ষরা জানতেন। যে কারণে শেযার মূল্য বৃদ্ধি করে তারা সুযোগ নিয়েছেন।

তবে এই প্রতিষ্ঠানে যারা বিনিয়োগ করেছেন তাদের অনেকেই পুঁজির নিশ্চয়তা নিয়ে এখন উদ্বিগ্ন।

উল্লেখ্য, অস্বাভাবিকহারে শেয়ারের দর বাড়ার কারণ খতিয়ে দেখতে সিভিও পেট্রো কেমিক্যালের শেয়ার লেনদেন গত ২৪ অক্টোবর স্থগিত করে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ। লেনদেন স্থগিত থাকা অবস্থায় গত ৩১ অক্টোবর কোম্পানিটি ২০১৩ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থ বছরের জন্য ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here