সিনোবাংলার বর্তমান চিত্র, তবে আগামী কেমন হবে?

0
810

সিনিয়র রিপোর্টার : সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ইউনিট-১ কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে রয়েছে। এ কারখানা থেকে উৎপাদিত পণ্য দেশীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। আর একে মুনাফায় আনতে রফতানিমুখী করতে চায় কোম্পানিটি। তাই ইউনিট-১-এ রফতানি সুবিধা পেতে বন্ড লাইসেন্স করবে বলে জানিয়েছে কোম্পানি সূত্র।

কোম্পানির কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের আরেকটি কারখানা ইউনিট-২ বন্ড লাইসেন্স নিয়ে উৎপাদিত পণ্য শতভাগ রফতানি করছে। আর এ ইউনিটের আয় দিয়ে কোম্পানিটি চলছে। ২০১১ সালে পুঁজিবাজার থেকে রাইটের মাধ্যমে পুঁজি নিয়ে এবং বিএমআরই করে এই ইউনিট-২-এর উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে।

২০১৭-২০১৮ হিসাব বছরে কোম্পানিটি ইউনিট-২-এর উৎপাদনক্ষমতা প্রতি মাসে ১৫০ টন করে বছরে ১৬৮০ টন বাড়িয়েছে। এছাড়া মিডিয়াম ও হাই স্যাগমেন্ট এফআইবিসির উৎপাদনের জন্য আরো ১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। কোম্পানির নিজস্ব তহবিল ও ব্যাংকঋণ করে এই টাকা বিনিয়োগ হয়েছে।

এদিকে ইউনিট-১ কারখানা দিয়ে ব্যবসা শুরু করা সিনোবাংলা প্রথমে দেশীয় বাজারে পণ্য বিক্রি করত। তাই এ কারখানাটির পণ্য রফতানির অনুমতি ছিল না। কিন্তু দেশীয় বাজারে এর উৎপাদিত পণ্য বিক্রিতে মন্দাভাব দেখা দেয়ায় তারা রফতানিমুখী উৎপাদনে মনোযোগ দেয়। আর লোকসান গুনতে থাকায় ইউনিট-১-এর উৎপাদন ২০ শতাংশে নামিয়ে দেয় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে ইউনিট-১ কে মুনাফায় আনতে শতভাগ রফতানিমুখী করতে সংস্কার করা হচ্ছে। পাশাপাশি বন্ড লাইসেন্স পেতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানি সূত্র।

জানতে চাইলে কোম্পানির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের ইউনিট-১-এর পণ্য দেশীয় বাজারে বিক্রি হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে দেশে এ ব্যবসায় মন্দাভাব রয়েছে। তাই ইউনিট-১ লোকসানে রয়েছে। একে মুনাফায় আনতে শতভাগ রফতানিমুখী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের। এর জন্য কারখানাটির সংস্কারকাজও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আর রফতানি সুবিধা পেতে বন্ড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হয়েছে। লাইসেন্স পেলে মূল্যসংবেদনশীল তথ্য হিসেবে শেয়ারহোল্ডারদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

শতভাগ রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান বন্ড লাইসেন্সের মাধ্যমে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি করতে পারবে। তবে এর মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রফতানি করতে হবে। রফতানির পর ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ডিউটি ড্র ব্যাক বা বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ২৫ শতাংশ ক্যাশ বেনিফিট পাবে।

২০১৭-২০১৮ হিসাব বছরে ইউনিট-১ থেকে লোকসান হয়েছে ২ কোটি ৯৫ লাখ ১৯ হাজার টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে লোকসান হয়েছিল ২ কোটি ৭৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। আর এ লোকসান সমন্বয় করতে গিয়ে কোম্পানিটি ইউনিট-২ থেকে ২০১৭-২০১৮ হিসাব বছরে ৬ কোটি ৩৬ লাখ ৪৩ হাজার টাকা মুনাফা করলেও সমন্বিত মুনাফা ৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা দেখাতে পেরেছে। গত পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে কোম্পানিটির ইউনিট-১ ধারাবাহিকভাবে লোকসান দিচ্ছে।

২০১৮-১৯ হিসাব বছরের তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) ভ্যাট বাদ দিয়ে কোম্পানির মোট পণ্য বিক্রি হয়েছে ১৪৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৪৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকার পণ্য রফতানি হয়েছে। আর ৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকার পণ্য দেশীয় বাজারে বিক্রি করা হয়েছে। এর আগের বছর একই সময়ে সম্মিলিতভাবে ১২১ কোটি ৮৩ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছিল।

আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর পরিশোধের পর সম্মিলিত নিট মুনাফা হয়েছে ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি সম্মিলিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৩৪ পয়সা। এর আগের বছর একই সময় সম্মিলিত নিট মুনাফা ছিল ২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা এবং ইপিএস ছিল ১ টাকা ২৫ পয়সা। এদিকে চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) সম্মিলিত ইপিএস হয়েছে ৬৫ পয়সা। এর আগের বছর ছিল ৬২ পয়সা।

২০১১ সালে কোম্পানিটি ১০ টাকা প্রিমিয়াম নিয়ে প্রতি শেয়ারে ২০ টাকা করে রাইট শেয়ার ইস্যু করে ১৯ কোটি ৯৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা পুঁজি সংগ্রহ করে। এর বেশির ভাগ অংশই ইউনিট-২-এর জন্য খরচ করা হয়। এর ফলে ইউনিট-২-এর উৎপাদন ও আয় বাড়লেও ইউনিট-১-এর লোকসান দেখিয়ে ২০১৪ হিসাব বছর থেকে ১০ শতাংশের বেশি নগদ লভ্যাংশ দিতে পারেনি।

এদিকে কোম্পানিটি নেদারল্যান্ডস ও বাংলাদেশভিত্তিক জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি ডাচ্-বাংলা প্যাক লিমিটেডের শেয়ারে ৩ কোটি ৪৩ লাখ ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছে। অর্থাৎ এই কোম্পানির ১০ শতাংশ শেয়ার সিনোবাংলার কাছে রয়েছে। কোম্পানিটি ২০১১ সাল থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ৩০ জুন ২০১৮ হিসাব বছর শেষে এ কোম্পানি থেকে সিনোবাংলা প্রতি শেয়ারে সাড়ে ২২ টাকা করে ডিভিডেন্ড পেয়েছে। ডাচ্-বাংলা প্যাকের শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০০ টাকা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার সর্বশেষ ৪৯ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হয়। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বোচ্চ দর ছিল ৭৮ টাকা এবং সর্বনিম্ন দর ৪২ টাকা ৫০ পয়সা।

১৯৯৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১৯ কোটি ৯৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৩০ দশমিক ৬১ শতাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকের কাছে, ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের কাছে, ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ বিদেশী এবং বাকি ৫৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here