সিঙ্গারের পণ্য বিপণন ও বিক্রি বৃদ্ধি

0
561

স্টাফ রিপোর্টার : হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিক্রি ও মুনাফায় প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড। পণ্যে নতুনত্বের কারণে জানুয়ারি-মার্চ সময়ে পণ্য বিক্রিতে ২৫ দশমিক ৯১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেয়েছে প্রকৌশল খাতের বহুজাতিক কোম্পানিটি। ফলে পরিচালন ব্যয় কিছুটা বাড়লেও প্রান্তিক শেষে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ২৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়েছে তাদের।

কোম্পানিটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উত্পাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সর্বশেষ সমাপ্ত ২০১৬ হিসাব বছরে সারা দেশে কোম্পানির ৪৮টি বিক্রয় কেন্দ্র নতুনভাবে সজ্জিত করায় ভোক্তাদের আকৃষ্ট করতে পেরেছে সিঙ্গার বাংলাদেশ। ইলেকট্রনিকস পণ্যের পাশাপাশি ফার্নিচার পণ্যে নতুন ডাইমেনশন নিয়ে আসায় গ্রাহকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে তারা। পাশাপাশি হোলসেল ডিলার সংখ্যা বাড়ানোর কারণেও মুনাফা প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে।

২০১৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, জানুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে সিঙ্গার মোট ১৭০ কোটি ৯ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করেছে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৪০ কোটি ৬১ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিক্রয় প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ।

তবে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি এ সময়ে কোম্পানির উত্পাদন ব্যয় বেড়েছে ২৯ দশমিক ৬২ শতাংশ। যদিও প্রথম প্রান্তিকে গ্রস মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বা ১৭ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়েছে।

কোম্পানির মুনাফা চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, হিসাব বছরের প্রথম তিন মাসে পরিচালন মুনাফা ২ কোটি ৯ লাখ টাকা বা ১৯ দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়েছে সিঙ্গার বিডির। যদিও এ সময়ে আর্থিক ব্যয় আগের তুলনায় ১২১ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে ৩ কোটি ২১ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে।

প্রথম প্রান্তিক শেষে কোম্পানির কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নিট মুনাফা ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বা ২৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে বিক্রি ও মুনাফায় প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন মাসে মজুদ পণ্য ৪৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়েছে সিঙ্গার বিডির। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ২৪৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকার তৈরি পণ্য মজুদ রয়েছে কোম্পানির, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৭০ কোটি ২১ লাখ টাকার।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৬ সালের হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৭০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে সিঙ্গারের পরিচালনা পর্ষদ। এ সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৭ টাকা ১০ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ৪ টাকা ৮১ পয়সা।

জানা গেছে, ১৯০৫ সাল থেকে এ অঞ্চলে ব্যবসা পরিচালনা করা সিঙ্গারের বর্তমানে ৩৭৪টি নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। সেলাই মেশিন ও কিস্তিতে পণ্য বিক্রয়ে বিশেষ সুনাম রয়েছে কোম্পানিটির। সিঙ্গারের মালিকানার ৭০ দশমিক ১ শতাংশ শেয়ারের মালিক নেদারল্যান্ডস-ভিত্তিক রিটেইল হোল্ডিংস বিহোল্ড বি.ভি.।

১৯৮৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৭৬ কোটি ৬৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির রিজার্ভ রয়েছে ৬৫ কোটি টাকা। মোট শেয়ারের মধ্যে কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে ৬৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ, বিদেশীদের কাছে ৭ দশমিক ১০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১০ দশমিক ৩৪ ও বাকি ১৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে।

ডিএসইতে সর্বশেষ ১৮২ টাকায় সিঙ্গার বাংলাদেশের শেয়ার হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর ছিল ২২৮ টাকা ৯০ পয়সা ও সর্বনিম্ন ১৪৪ টাকা ১০ পয়সা।

সর্বশেষ নিরীক্ষিত মুনাফা ও বাজারদরের ভিত্তিতে এ শেয়ারের মূল্য-আয় (পিই) অনুপাত ৩৭ দশমিক ৮২, হালনাগাদ অনিরীক্ষিত মুনাফার ভিত্তিতে যা ২৫ দশমিক ৫৫।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here