সিএসই ৮ ফেব্রুয়ারি নতুন তিন সূচক চালু করবে

0
568
এসবি ডেস্ক : ফেব্রুয়ারিতে নতুন তিনটি সূচক চালু করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। নতুন সূচকগুলো হলো- আইপিও ইনডেক্স, ইসলামী ইনডেক্স ও বেঞ্চমার্ক ইনডেক্স। বিনিয়োগের সুবিধার্থে এ সূচকগুলো চালু করা হচ্ছে। পৃথকভাবে সূচকগুলোর ভিত্তি ধরা হবে এক হাজার পয়েন্ট। ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (এনএসই) সহায়তায় এসব সূচক চালু করা হবে।সিএসইর ঢাকার কার্যালয়ে সোমবার বিকেলে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আলাপকালে সূচক চালুর বিষয়টি দ্য রিপোর্টকে নিশ্চিত করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ সাজিদ হোসেন।

তিনি দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘নতুন এ তিন সূচক চালুর বিষয়ে ইতোমধ্যে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়েছি। বিশেষ করে আইপিও ইনডেক্সের জন্য আমরা বিএসইসির কাছে আবেদন জানিয়েছি। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইপিও ইনডেক্সের গুরুত্ব, বাস্তবমুখীতা, বাস্তব উদাহারণ এবং ইনডেক্স কনসট্রাকশন প্রসেস সম্পর্কে বিস্তারিত কাগজপত্র দাখিলের নির্দেশনা দেয় বিএসইসি। যার প্রেক্ষিতে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব বিএসইসিতে দাখিল করেছি। আমরা ভারতের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কনসালটেন্ট বা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান তাকওয়াহ এডভাইজরি অ্যান্ড শরীয়াহ ইনভেস্টমেন্ট সলিউশন প্রাইভেট লিমিটেডের(টেসিস) শরীয়াহ্ বোর্ড দিয়ে ইসলামী ইনডেক্স গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শরীয়াহ বোর্ড ইসলামিক বিয়ষগুলো অর্থাৎ কোম্পানি ইসলামী আইনকানুন মেনে চলে কি না তা যথাযথভাবে দেখবে। এ ছাড়া আইপিও ও বেঞ্চমার্ক ইনডেক্স চালুর বিষয়ে আমাদের কাজ চলছে।’

জানা গেছে, ইতোমধ্যে ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে আইপিও ইনডেক্স চালু করা হয়েছে। এছাড়া ইসলামী ইনডেক্স চালু করার জন্য এনএসইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিএসইসির অনুমোদিত কোনো শরীয়াহ্ বোর্ড না থাকায় এনএসইকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর বর্তমানে চালু থাকা সিএসইএক্স সূচককে বেঞ্চমার্ক ইনডেক্সে রূপান্তর করা হবে। এটা রূপান্তরের আগে নতুন সূচকের জন্য কি কি উপাদান প্রয়োজন রয়েছে তা জানাবে এনএসই। আর এ সব বিষয়ে গত ২৫ আগস্ট এনএসই ও সিএসইর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়েছে।

এ সকল প্রক্রিয়া বিএসইসির অনুমোদনক্রমেই চালু করা হবে। সূচক তিনটি দ্রুত চালু করার লক্ষ্যে সব রকম প্রস্তুতি চলছে বলে সিএসই কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১১ ডিসেম্বর বিকেলে এনএসই’র সঙ্গে সিএসই কর্তৃপক্ষের আলোচনা হয়েছে। সূচকগুলো চালুর বিষয়ে এনএসইর বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে সিএসই।

সিএসই সূত্রে জানা গেছে, বিনিয়োগের সুবিধার্থে কোম্পানির কর্মক্ষমতা, দর ওঠানামা ও গতিবিধি বোঝার লক্ষ্যে আইপিও ইনডেক্স গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এই ইনডেক্স দেখে তালিকাভুক্তির পর কোম্পানিগুলোর পারফরমেন্স, প্রাইস ওঠানামা, মার্কেট গতিবিধিসহ ইত্যাদি বিষয়ে জানতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। এ ইনডেক্সের নামকরণ করা হয়েছে- সিএসই আইপিওএক্স। এক হাজার পয়েন্টকে ভিত্তি এবং ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারিকে ভিত্তি বছর ধরে এই ইনডেক্স তৈরী করা হবে। ইতোমধ্যে এ ইনডেক্সের গুরুত্ব, বাস্তবমুখীতার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিতে জমা দিয়েছে সিএসই।

যে কোনো কোম্পানি আইপিওতে আসার পরবর্তী দুই বছর এ সূচকের আওতায় থাকবে। এ ইনডেক্স বছরে দু’বার পর্যালোচনা করা হবে। ইনডেক্সটি রিয়েল টাইম বা বাস্তব সময়ের ওপর ভিত্তি করে গণণা করা হবে। এছাড়া প্রতিটি লেনদেন শূন্য থেকে আপডেট হবে এবং অনলাইন ট্রেডিং সিস্টেমের মাধ্যমে সিএসইর ওয়েবসাইটে প্রচারিত হবে। আর তিন মিনিট পর পর ওয়েবসাইট আপডেট হবে। ইনডেক্স ম্যানেজমেন্ট কমিটি এই আইপিও ইনডেক্স গঠনের বিষয়ে সম্পূর্ণ দায়ভার বহন করবেন।

এদিকে ইসলামী বিশেষ বিনিয়োগ গোষ্ঠীর স্বার্থ বিবেচনা করে ইসলামী ইনডেক্স গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সিএসই। বাংলাদেশে একটি বিশেষ ইসলামী বিনিয়োগ গোষ্ঠী পুঁজিবাজারকে ইসলামিক ইনডেক্সের উপর ভিত্তি করে দেখতে চান। যারা সাধারণ সূচক দেখে শরীয়াহ ভিত্তিক লেনদেনের তথ্য পান না। তাদের জন্যই শরীয়াহ সূচক চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সিএসই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here