আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সুরক্ষা করলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

0
2746

স্টাফ রিপোর্টার : ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিদিনের লেনদেনের ক্ষেত্রে নগদ টাকার সংকটে পড়লে কলমানি মার্কেট থেকে তাৎক্ষণিক ধার নিয়ে প্রয়োজন মিটিয়ে থাকে। স্বল্প সময়ের জন্য এই ধার দেওয়া-নেওয়ার মার্কেটকে কলমানি মার্কেট বলে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এক দিনের জন্য কলমানি মার্কেট থেকে নগদ টাকা ধার করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।

ব্যাংকগুলো আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ধার দিতে পারলেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে তেমন অলস অর্থ না থাকায় তারা এই ব্যবসা করতে পারেনা। এতদিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিট সম্পদের ১৫ শতাংশ হারে কলমানি মার্কেট থেকে ঋণ নিতে পারলেও আজ ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নিট সম্পদের বদলে ইক্যুইটির(তারল্য) ৩০ শতাংশ হারে কলমানি মার্কেট থেকে ঋণ নেয়ার নিয়ম বেধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মূলত কলমানি মার্কেটের উপর প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ভরতা হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী,বিদ্যমান আইনে নিট সম্পদের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে মোট সম্পদ থেকে চলতি দায় বাদ দিয়ে যেটা অবশিষ্ট থাকবে তাই নিট সম্পদ। তবে নিট সম্পদের এ সংজ্ঞা বর্তমান অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটিকে আরো যুগোপযোগী করার প্রয়োজন রয়েছে।

তাছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে নিট সম্পদ হিসাব করা হয় মোট সম্পদ থেকে মোট দায় বাদ দিয়ে। অন্যদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের একক গ্রাহক ঋণসীমা, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমা,শাখা অনুমোদনসহ সংশ্লিষ্ট সকল ক্ষেত্রেই ইক্যুইটিকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়ে থাকে।

শুধুমাত্র কলমানির ক্ষেত্রে এতদিন নিট সম্পদকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হত। তাই আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং বিদ্যমান বিধি-বিধানকে যুগোপযোগী করতেই কলমানি মার্কেট থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ নেয়ার সীমা নির্ধারণের জন্য নিট সম্পদের পরিবর্তে ইক্যুইটিকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। তাছাড়া এতে করে প্রতিষ্ঠানগুলোর ঝুঁকিও হ্রাস পাবে।

নিট সম্পদের বদলে ইক্যুইটিকে কলমানি ঋণের ভিত্তি নির্ধারণের জন্য প্রায় এক বছর আগে থেকেই উদ্যোগ নেয়া হয়। এ বিষয়ে সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তিন-চার দফা সভা হয়েছে।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতামত সাপেক্ষেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সাধারণভাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ইক্যুইটির ৩০ শতাংশ কলমানি ঋণের সীমা থাকলেও যদি কোন প্রতিষ্ঠানের এর চেয়ে বেশি হারে কলমানি ঋণের প্রয়োজন হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আবেদন যৌক্তিক মনে করলে ইক্যুইটির ৩০ শতাংশের বেশি অর্থ কলমানি ঋণ নিতে পারবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।

তাছাড়া, নিট সম্পদের বদলে ইক্যুইটিকে কলমানি ঋণের ভিত্তি নির্ধারণ করায় কলমানি মার্কেট থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নেয়া ঋণের সীমা কিছুটা কমেছে।

এর ফলে এতদিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যে পরিমাণ অর্থ কলমানি মার্কেট থেকে ঋণ নিয়েছে এখন থেকে এর পরিমাণ কমবে। এতে করে ব্যাংকের অলস অর্থ বিনিয়োগের পরিমাণও কিছুটা কমবে।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরাও ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করে বলছেন এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর ঝুঁকি কমবে।

প্রসঙ্গত, কলমানি ঋণের ক্ষেত্রে নিট সম্পদের পরিবর্তে ইক্যুইটিকে ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এখন থেকে ইক্যুইটি পরিমাপের ক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধন, রিটেইন্ড আর্নিংস, বিধিবদ্ধ সঞ্চিতি, সাধারণ সঞ্চিতি, শেয়ার প্রিমিয়াম, সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন সঞ্চিতি, অন্যান্য সম্পদ ও সঞ্চিতিকে হিসাবের মধ্যে আনতে হবে। তাছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিবছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইকুইটির তথ্য এর পরের মাস অর্থাৎ জানুয়ারির ২৫ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েব পোর্টালে দাখিল করতে হবে।

৩১ ডিসেম্বরের ইক্যুইটির তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী ১২ মাস অর্থাৎ ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কলমানি মার্কেট থেকে ঋণ নিতে পারবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here