সামিট গ্রুপ ও বিপিডিবির চুক্তি স্বাক্ষর

0
355

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এর সঙ্গে সামিট গ্রুপের ৫৮৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়নে সহযোগি প্রতিষ্ঠান সামিট মেঘনাঘাট ২ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে চুক্তিটি স্বাক্ষর হয়েছে। চুক্তির মেয়াদ ২২ বছর করা হয়েছে।

বিপিডিবির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি ছাড়াও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জমি ব্যবহারের জন্য পিডিবির সঙ্গে ভূমি ইজারা চুক্তি, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এবং পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ চুক্তি, তিতাস গ্যাস কোম্পানির সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ চুক্তি করে সামিট গ্রুপ।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, অন্ধকার দূর করতে বাংলাদেশ বেশি ব্যয় করেছে বলে বিশ্ব ব্যাংক বলেছিল। তাদের ১০ বছর আগের এ কথা আজ ভুল প্রমান হয়েছে। সামিটের মতো আরও অনেক কোম্পানি দেশে বেশ কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করেছে। এতে বিদেশীরাও দেশে বিনিয়োগে উৎসাহ পাচ্ছে। এর  সুফল পাচ্ছে দেশের মানুষ।

বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, দেশের বেসরকারি বিদ্যুৎ খাত দিন দিন উন্নতি হচ্ছে। তারা বিদ্যুৎ উৎপাদনে আধুনিকায়ন করছে। গত বছর জাতীয় গ্রিডে ৪ হাজার ২৬ মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে।এর ৫৬ শতাংশ বেসরকারি খাত থেকে এসেছে। সামিট গ্রুপ দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে বিদ্যুৎ খাতে আরও বেশি অবদান রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও আয়েশা আজিজ খান বলেন, কেন্দ্রটির ৮০ শতাংশ মালিক সামিট, অপর ২০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান জেনারেল ইলেকট্রিকের (জিই)।বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইএফসি এবং এইচএসবিসি  এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ঋণ দেবে বলে জানান তিনি। বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের সহযোগিতার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।

সামিট গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান বলেন, আমরা আনন্দিত যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ভিশন টোয়েন্টি ওয়ান বাস্তবায়নের সঙ্গে অংশিদার হতে পেরেছি। সামিট মাত্র ২৬৮ দিনের মধ্যে ৩শ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে। আশা করছি নির্মিতব্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও সফল হবে সামিট গ্রুপ।

বর্তমান গ্যাসের মূল্য অনুযায়ী উৎপাদিত বিদ্যুতের খরচ হবে প্রতি কিলোওয়াট ঘন্টায় ২ দশমিক ১৭ টাকা। যা এ যাবতকালের সর্বনিম্ন। চুক্তি অনুযায়ী ২০২২ সালে কেন্দ্রটি উৎপাদন শুরু করার কথা রয়েছে। আর এ বৃহত্তম কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে দেশের ৭ লাখ গৃহস্থালি, শিল্পে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে বলে জানিয়েছেন সামিট গ্রুপ।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জ্বালানি ও খনিজ বিভাগের সচিব আবু হেনা মুহাম্মদ রহমাতুল মুনীম, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ, আমেরিকান রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর মিলার এবং জিই গ্যাস পাওয়ারের জন রাইস উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here