সামিটের এলএনজি টার্মিনাল চালু হচ্ছে মার্চে

0
429

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের দ্বিতীয় এবং বেসরকারি খাতের প্রথম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল চালু হচ্ছে আগামী মার্চে। এ টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনে যোগ হবে দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এ টার্মিনাল (এফএসআরইউ) নির্মাণ করছে সামিট গ্রুপ।

এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার পরিচালক (পরিচালন ও ব্যবস্থাপন) প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বলেন, তারা (সামিট) প্রথমে একটা ডেডলাইন মিস করেছে। তবে এখন তাদের কাজের অগ্রগতি বেশ ভালো। মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

দেশজ গ্যাস কূপে মজুদ কমে আসা এবং শিল্প খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। প্রাথমিকভাবে সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে দুটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রকল্প নেয়া হয়। এরই মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় কক্সবাজারের মহেশখালীতে দেশের প্রথম এফএসআরইউ নির্মিত হয়েছে।

কাতার থেকে এলএনজি আমদানি করে টার্মিনালটির মাধ্যমে তা গ্রাহকের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। ৫০ কোটি ঘনফুট সক্ষমতার এ টার্মিনাল থেকে বর্তমানে দৈনিক ২৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ হচ্ছে।

অন্যদিকে বেসরকারি খাতের এলএনজি টার্মিনালটি নির্মাণ করছে সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। ১৮ মাস মেয়াদি এ প্রকল্পটি গত বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুই দফায় ছয় মাস মেয়াদ পেছালেও এখন পর্যন্ত টার্মিনালটি নির্মাণ শেষ হয়নি। তবে মার্চের মধ্যে এলএনজি টার্মিনালটির নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে সামিট করপোরেশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার মোহসেনা হাসান বলেন, এফএসআরইউ নির্মাণের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। মার্চের মধ্যে টার্মিনালটি চালু করা যাবে।

নির্মাণ-মালিকানা-পরিচালন-হস্তান্তরের (বিওওটি) ভিত্তিতে এ টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়ে সামিট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করে পেট্রোবাংলা।

নিজেরা ১৫ বছর পরিচালনা করার পর পেট্রোবাংলার কাছে টার্মিনালটির দায়িত্ব হস্তান্তর করবে সামিট। টার্মিনালটি নির্মাণে কোম্পানির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয় ৪০-৫০ কোটি ডলার।

সামিট সূত্র জানায়, উপকূল থেকে ছয় কিলোমিটার গভীর সমুদ্রে ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণ হচ্ছে। সেখান থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। এজন্য গভীর সমুদ্রে টার্মিনালের অ্যাংকর, ডিসকানেক্টেবল টারেট মুরিং প্লাগ, নোঙরে ভাসমান বন্ধনীসহ ফ্লেক্সিবল রাইজার, কনট্রোল অ্যান্ড হাইড্রোলিক আমবিলিকাল, পিএলইএম, এফএসআরইউর স্টার্ন মুরিং সিস্টেম, অফশোর পাইপলাইন করতে হচ্ছে। সমুদ্রের বিরূপ আবহাওয়ার কারণে পরিকল্পনা অনুযায়ী অনেক কাজ করা সম্ভব হয়নি। যে কারণে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় লাগছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here