সামনের সপ্তাহে কেমন হতে পারে বাজার

0
5351

মেহেদী আরাফাত : টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস অনুযায়ী বুধবার ঢাকা শেয়ার বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়- ডিএসইএক্স ইনডেক্স লেনদেনের শুরু থেকেই হ্রাস পেতে থাকে। দিনের শুরুতে কিছুটা ক্রয়চাপ থাকলেও কিছু সময় পর বিক্রয় চাপের ফলে সূচক বেশ নিম্নমুখী হয়ে যায়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিক্রয় চাপ আরও প্রবল হতে থাকে এবং দিনশেষে সূচক ১৯.২৬ পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে। সূচকের এ দরপতনের ফলে আজকের ক্যান্ডেলস্টিক একটি বিয়ারিশ ক্যান্ডেলস্টিক ছিল। ডিএসই এক্স ইনডেক্স ১৯.২৬ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে ৪৭৭৭.৯০ পয়েন্টে অবস্থান করছে, যা আগের দিনের তুলনায় ০.৪০% হ্রাস পেয়েছে।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায় টানা নয় দিন ইনডেক্স বৃদ্ধির পরে গত কয়েকদিন ধরে  ইনডেক্স একই স্থানে ঘুরাঘুরি করছে। ইনডেক্স তার রেজিটেন্স লেভেল ৪৮০০ কে ভাঙতে পারেনি। TA বিশ্লেষকদের মতে ইনডেক্স বৃদ্ধির ফলে বাজারের RSI এর মান হয়েছিল ৭৫.৯১। এই হিসাবে বাজার কিছুদিনের জন্য খারাপ হতে পারে। এই অবস্থাতে সামনের সপ্তাহে বাজার খারাপ থাকতে পারে। উনাদের মতে ফিবোনাক্কি রিট্রেসমেন্ট দিয়ে সম্ভাব্য সাপোর্ট এবং রেজিস্টান্স লেভেল বের করা হয়। এই হিসাবে বাজার ১০০ পয়েন্ট কারেকশন হতে পারে। এই কয়েকদিন সল্প মূলধনই কম্পানির শেয়ারের বিনিয়োগকারীরা বেশী লাভবান হতে পারে। যেমন- সোনালি আঁশ, মিরাকেল, বঙ্গজ। অন্যদিকে সামনে টেক্সটাইল সেক্টরের শেয়ারের বোনাসের কারণে এই সেক্টরও ভাল হবে বলে উনারা ধারনা করছেন।

বর্তমানে ডিএসই এক্স ইনডেক্স এর পরবর্তী সাপোর্ট ৪৬৮০ পয়েন্টে এবং রেজিটেন্স ৪৮০০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আজ বাজারে এম.এফ.আই এর মান ছিল ৭৭.২২ এবং আল্টিমেট অক্সিলেটরের মান ছিল ৬৪.৬৬। এম.এফ.আই কিছুটা উদ্ধমুখি অবস্থান করছে এবং আল্টিমেট অক্সিলেটর কিছুটা উদ্ধমুখি অবস্থান করছে।Screenshot_3

ডিএসইতে ১৮ কোটি ২১ লাখ ০৩ হাজার ৮৭২ টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড লেনদেন হয়, যার মূল্য ছিল ৬৩০.২৩ কোটি টাকা। ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৮৯ কোটি টাকা। ঢাকা শেয়ারবাজারে ৩১৫ টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪৫ টির, কমেছে ১৩৮ টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩২ টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।

পরিশোধিত মূলধনের দিক থেকে দেখা যায়, বাজারে চাহিদা বেশী ছিল ০-২০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনী প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের যা আগেরদিনের তুলনায় ২৩.৬০% বেড়েছে। অন্যদিকে হ্রাস পেয়েছে ২০-৫০ এবং ৫০-১০০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনী প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের যা আগেরদিনের তুলনায় ২০.২৯% এবং ১২.২৩% কম। অন্যদিকে ৩০০ কোটি টাকার উপরে পরিশোধিত মুলধনী প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের পরিমান গতকালের তুলনায় ২১.২২% কমেছে।

পিই রেশিও ৪০ এর উপরে থাকা শেয়ারের লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ৫.০১% কমেছে। অন্যদিকে পিই রেশিও ০-২০ এর মধ্যে থাকা শেয়ারের লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ৮.৪১% কমেছে।

ক্যাটাগরির দিক থেকে এগিয়ে ছিল ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ারের লেনদেন যা আগেরদিনের তুলনায় ২০.২৮% বেশী ছিল। কমেছে ‘এ’ এবং ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ারের লেনদেন যা আগেরদিনের তুলনায় ১১.৯৯% এবং ১৩.৮৫% কম ছিল।

ফিবোনাক্কি রিট্রেসমেন্ট দিয়ে সম্ভাব্য সাপোর্ট লেভেল বের করা হোল।Screenshot_2

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here