সাধারণ বিনিয়োগকারীর আবেদন ৬৫ শতাংশ না হলে আইপিও বাতিল

0
929

স্টাফ রিপোর্টার : বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) ক্ষেত্রে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আবেদন ৬৫ শতাংশের কম জমা পড়লে সংশ্লিষ্ট আইপিও বাতিল হবে। আর ৬৫ শতাংশ বা এর বেশি আবেদন জমা পড়লে বাকি শেয়ার আন্ডাররাইটার নেবে। অন্যদিকে যোগ্য বিনিয়োগকারীর কোটায় সব শেয়ার বিক্রি না হলে আইপিও বাতিল হবে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু) রুলস, ২০১৫-এর খসড়া সংশোধনীতে এ নিয়ম করা হয়েছে। জনমত জরিপের জন্য খসড়া সংশোধনীটি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) রোববার প্রকাশ করেছে।

১৭ জুন পর্যন্ত স্টেকহোল্ডাররা এই খসড়ার ওপর মতামত জানাতে পারবেন। কমিশন স্টেকহোল্ডারদের মতামত বিবেচনা করে খসড়া আইন চূড়ান্ত করবে এবং গ্যাজেট আকারে প্রকাশ করবে।

এর আগে ২৯ মে বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৬৮৮তম কমিশন সভায় পাবলিক ইস্যু রুলস ২০১৫-এর সংশোধনীর খসড়া জনমত যাচাইয়ের জন্য অনুমোদন করা হয়। গত ২৯ এপ্রিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ), ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ), অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সভা শেষে কমিশনের পক্ষ থেকে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি মার্কেটে বেশকিছু সংস্কার করার ঘোষণা দেয়া হয়।

ঘোষণা অনুসারে সেকেন্ডারি মার্কেট-সংক্রান্ত বিষয়গুলো কমিশন এরই মধ্যে বাস্তবায়ন করেছে। আর প্রাইমারি মার্কেট-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সংস্কারের জন্য কমিশন কমিটি করেছে। কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে পাবলিক ইস্যু রুলসের খসড়া সংশোধনী প্রস্তুত করা হয়েছে।

পাবলিক ইস্যু রুলসের খসড়া সংশোধনীতে বলা হয়েছে, কোটা সুবিধা নিতে হলে সেকেন্ডারি বাজারে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের (ইআই) নির্দিষ্ট অঙ্কের বিনিয়োগ থাকতে হবে। তা না হলে কোনো ইআই তাদের জন্য সংরক্ষিত শেয়ারের কোটা সুবিধা পাবে না। আর সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগের পরিমাণ কত হবে তা কমিশন প্রতিটি পাবলিক ইস্যুর সম্মতিপত্রে উল্লেখ করে দেবে।

এছাড়া আইপিওর আগে ইস্যু করা মূলধন পুরোপুরি ব্যবহার না করে পাবলিক ইস্যুর আবেদন করা যাবে না। ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে অভিহিত মূল্যের আইপিওর ক্ষেত্রে পাবলিক ইস্যুর পরিমাণ হবে ন্যূনতম ৫০ কোটি কিংবা ইস্যুয়ার কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশ, যেটি বেশি হয়।

একইভাবে বুক বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে পাবলিক ইস্যুর ক্ষেত্রে এর পরিমাণ হবে কমপক্ষে ১০০ কোটি কিংবা পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশ, যেটি বেশি হয়। বুক বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে পাবলিক ইস্যুর ক্ষেত্রে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের কোটা বিডিংয়ের মাধ্যমে পুরোপুরি বিক্রি না হলে সেই আইপিও বাতিল হয়ে যাবে।

পাবলিক ইস্যু তালিকাভুক্তির আবেদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে পাবলিক ইস্যু রুলস বা অন্যান্য সিকিউরিটিজ আইন কিংবা অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড না মেনে থাকলে এ বিষয়ে কমিশনের কাছে মতামত পাঠাতে হবে। এ সময়ের মধ্যে মতামত না পাঠালে এ বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের কোনো মতামত নেই বলে ধরে নেয়া হবে। বুক বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে পাবলিক ইস্যুর বিডিং চলাকালে বিডারদের নাম কিংবা তাদের প্রস্তাবিত দর প্রদর্শন করা যাবে না।

বুক বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে পাবলিক ইস্যুর বিডিংয়ে ইআইদের তাদের বিডের শতভাগ মূল্য বিডিং পরিচালনাকারী এক্সচেঞ্জের কাছে জমা দিতে হবে। বুক বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে পাবলিক ইসু্যুর বিডিংয়ের বিডাররা যে মূল্যে যে পরিমাণ শেয়ার বিড করবেন তাদের সেই মূল্যে সেই পরিমাণ শেয়ার কিনতে হবে। বুক বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে পাবলিক ইস্যুর বিডিংয়ে শেয়ার বরাদ্দ সর্বোচ্চ মূল্যস্তরে শুরু হয়ে ক্রমান্বয়ে তা নিচের দিকে আসবে।

যে মূল্যে শেয়ার শেষ হবে তা কাট অফ প্রাইস (প্রান্তসীমা) হিসেবে গণ্য হবে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কাট অফ প্রাইস থেকে ১০ শতাংশ কমে শেয়ার কিনতে পারবে। বুক বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে পাবলিক ইস্যুর বিডিংয়ের ক্ষেত্রে যদি কাট অফ প্রাইসে একাধিক বিডারের বিড থাকে সেক্ষেত্রে যে বিডার আগে বিড করেছে তাকে প্রথমে শেয়ার দেয়া হবে। বিডিংয়ের চূড়ান্ত ফল, মূল্য ও বরাদ্দ করা শেয়ারের সংখ্যাসহ যারা শেয়ার পেয়েছেন তাদের ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো হবে।

একই সঙ্গে ইস্যুয়ার, ইস্যু ম্যানেজার ও স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে তার প্রকাশ করা হবে। অকৃতকার্য বিডারের টাকা সর্বোচ্চ ৫ কার্যদিবসের মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জ ফেরত দেবে। বিডিংয়ের পরে খসড়া প্রসপেক্টাস ও সব কাগজপত্র পাওয়া সাপেক্ষে কমিশন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির অনুমোদন দেবে।

ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে অভিহিত মূল্যে পাবলিক ইস্যুর ক্ষেত্রে ইআইদের বিদ্যমান কোটা ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৩০ শতাংশ হবে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের (এনআরবি ব্যতীত) কোটা ৪০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫০ শতাংশে দাঁড়াবে। অন্যদিকে বুক বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে ইআইদের বিদ্যমান কোটা ৬০ শতাংশ থেকে কমে ৫০ শতাংশ হবে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিদ্যমান কোটা ৩০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০ শতাংশে দাঁড়াবে।

অভিহিত মূল্যের পাবলিক ইস্যুর ক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে ৬৫ শতাংশের কম আবেদন জমা পড়লে ইস্যু বাতিল হয়ে যাবে। আর সম্মিলিতভাবে আবেদনের পরিমাণ ৬৫ শতাংশের বেশি কিন্তু ১০০ শতাংশের কম হলে বাকি শেয়ার আন্ডাররাইটার কিনে নেবে। প্রসপেক্টাসে উল্লেখ করা কোম্পানির সব শেয়ারহোল্ডারের শেয়ারের ওপর তিন বছরের লকড ইন প্রযোজ্য হবে।

স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের প্রথম দিন থেকে লকড ইনের সময় শুরু হবে। পাবলিক ইস্যুর আবেদনের সময় ইস্যুয়ারকে এর আগে নগদে উত্তোলন করা মূলধনের ক্ষেত্রে ব্যাংকের কিংবা নিরীক্ষকের সার্টিফিকেট ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট দাখিল করতে হবে। আর নগদ ছাড়া অন্য উপায়ে উত্তোলিত মূলধনের ক্ষেত্রে আরজেএসসির রেজিস্ট্রারের সার্টিফায়েড ভেন্ডর এগ্রিমেন্ট ও সম্পদের মালিকানা-সংক্রান্ত টাইটেল ডকুমেন্ট কমিশনে জমা দিতে হবে।

তাছাড়া যোগ্য বিনিয়োগকারীর সংজ্ঞা স্পষ্ট করেছে কমিশন। খসড়ায় যোগ্য বিনিয়োগকারী বলতে বোঝানো হয়েছে মার্চেন্ট ব্যাংক এবং পোর্টফোলিও ম্যানেজার, সম্পদ ব্যবস্থাপক, মিউচুয়াল ফান্ড এবং কালেক্টিভ ইনভেস্টমেন্ট স্কিম, স্টক ডিলার, ব্যাংক, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি, অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ম্যানেজার ও ফান্ড, বিদেশী বিনিয়োগকারী (সিকিউরিটিজ কাস্টডিয়ানে হিসাব রয়েছে), অনুমোদিত প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ফান্ড এবং কমিশনের অনুমতিক্রমে অন্য প্রতিষ্ঠান।

এদিকে খসড়ায় পাবলিক ইস্যু রুলসের ধারা ৪-এর উপধারা ১ (এফ) ও (কে) বাতিল করা হয়েছে।

এই দুই ধারায় বলা হয়েছিল, আইপিও আবেদন পাওয়ার ২০ দিনের মধ্যে কমিশনের কাছে সংশ্লিষ্ট ইস্যুর বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জকে মতামত জানাতে। স্টক এক্সচেঞ্জের মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন আইপিও অনুমোদন বা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here