সর্বোচ্চ দরে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট

0
932
স্টাফ রিপোর্টার : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সেবা ও আবাসন খাতের কোম্পানি সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেডের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক দেখা গেছে। বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দরবৃদ্ধিতে এগিয়ে থাকা কোম্পানির তালিকায় এটি ছিল শীর্ষে। এদিন এর দর ছিল দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ডিএসইতে বুধবার এ শেয়ারের দর ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ বা ৫ টাকা ২০ পয়সা। দিনভর দর ৫৪ টাকা থেকে ৫৭ টাকা ৯০ পয়সায় ওঠানামা করে। সর্বশেষ লেনদেন হয় ৫৭ টাকা ৯০ পয়সায়, যা দিন শেষে দাঁড়ায় ৫৭ টাকা ৮০ পয়সায়। এদিন ১ হাজার ৫৮০ বারে মোট ১৫ লাখ ১৮ হাজার ৭০০ শেয়ার লেনদেন হয়। গত এক মাসের মধ্যে এর সর্বনিম্ন দর ছিল ২৯ টাকা ৭০ পয়সা ও সর্বোচ্চ ৫৭ টাকা ৮০ পয়সা। গত দুই বছরের মধ্যে এর সর্বনিম্ন দর ২১ টাকা ৩০ পয়সা ও সর্বোচ্চ ৫৭ টাকা ৮০ পয়সা।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে এ শেয়ারের দর অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকার কারণ জানতে চেয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে ডিএসই ও সিএসই থেকে চিঠি দেয়া হয়। জবাবে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে সংবেদনশীল কোনো তথ্য নেই।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে চলতি হিসাব বছরের অর্ধবার্ষিকে (জানুয়ারি-জুন) কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নেট মুনাফা হয়েছে ৭ কোটি ৯২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও শেয়ারপ্রতি নেট সম্পদমূল্য (এনএভি) ৪৮ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে মুনাফা হয়েছে ৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ও ইপিএস ৪১ পয়সা। অন্যদিকে চলতি হিসাব বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে এর মুনাফা হয়েছে ৩ কোটি ৫৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও ইপিএস ২২ পয়সা। তবে আগের হিসাব বছরের এ তিন মাসে মুনাফা ছিল ৩ কোটি ৪১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও ইপিএস ২১ পয়সা।

ডিএসইর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বড় আকারে কনটেইনার পরিবহন ব্যবসায় নামছে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট। নিরবচ্ছিন্নভাবে এ ব্যবসা চালানোর জন্য কনটেইনার ট্রান্সপোর্টেশন সার্ভিসেস লিমিটেড (সিটিএসএল) নামে একটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান গঠন করবে কোম্পানিটি। এতে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের ৯৯ শতাংশ মালিকানা থাকবে। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ডিএসইতে ২০১৩ সালের ২০ নভেম্বর এ-সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিটিএসএল নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জাহাজ কেনা হবে। এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর ও অন্যান্য ডিপো থেকে কনটেইনার আনা-নেয়া করবে।

এছাড়া কোম্পানিটি প্রাথমিকভাবে ৩০টি প্রাইম মুভার ও সমানসংখ্যক ট্রেইলার কিনবে। ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে এসব মুভার ও ট্রেইলার কেনা হবে বলে জানা গেছে। ২০১৩ সালের জন্য কোম্পানিটির পক্ষ থেকে ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়া হয়েছে। ওই হিসাব বছরে এর মুনাফা হয়েছে ১৪ কোটি ৩৪ লাখ ২০ হাজার টাকা, ইপিএস ৮৮ পয়সা ও এনএভি ২৮ টাকা ২৫ পয়সা।

২০১২ সালের জন্য কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয়। ওই হিসাব বছরে এর ইপিএস হয় ১ টাকা ৩৫ পয়সা, এনএভি ৪২ টাকা ৭৮ পয়সা ও কর-পরবর্তী মুনাফা ১৭ কোটি ৯৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

২০০৮ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৬৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর রিজার্ভের পরিমাণ ২৯৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বাজারে মোট শেয়ার ১৬ কোটি ৩৫ লাখ ৮৩ হাজার ১৭২টি; যার মধ্যে ৬৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ উদ্যোক্তা-পরিচালক, ৯ দশমিক ২২ প্রাতিষ্ঠানিক, দশমিক ২৬ বিদেশী ও ২৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে। এর প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা ও ১০০টিতে মার্কেট লট। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে এ শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ৬৫ দশমিক ৬৮।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here