সর্বোচ্চ ডলার ছেড়ে বাজার স্থির করার চেষ্টা

0
517

ডেস্ক রিপোর্টঃ দেশের মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৩১ কোটি ১০ লাখ ডলার বাজারে ছেড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।  মুদ্রাবাজারে এখন প্রতি ডলার বিক্রি হচ্ছে ৮৩ টাকা ৭০ পয়সায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে ডলার ছেড়ে গত এক মাসের বেশি সময় ধরে ডলারের বিনিময় হার এই দরে ‘স্থির’ রাখতে পারলেও এক বছরে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ। এক বছর আগে এই সময়ে ডলারের দর ছিল ৮০ টাকা ৫৯ পয়সা।

ডলারের বাজারে অস্থিরতা চলছে গত অর্থবছরের শুরু থেকেই। ডলারের দরের এই ঊর্ধ্বগতি যে পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়, গতবছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক তদন্তেও তা ধরা পড়ে। আমদানি ঋণপত্র নিষ্পত্তি করতে ব্যাংকগুলো ডলারের যে মূল্য দেখিয়েছে, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তার চেয়ে ২ থেকে আড়াই টাকা বেশি রেখেছে তারা। ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমায় রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয়ে ‘ইতিবাচক’ প্রভাব পড়লেও আমদানিতে খরচ পড়ছে বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) পণ্য আমদানিতে সামগ্রিক ব্যয় বেড়েছে ২৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। এর মধ্যে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি বেড়েছে ৩১ শতাংশ। জ্বালানি তেল আমদানি বেড়েছে ৩৬ শতাংশ। চাল আমদানি বেড়েছে ১৯৬ শতাংশ।

আমদানি বাড়ায় এবার জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মেয়াদে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বিল হয়েছিল ১৫৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এর আগে কখনই বাংলাদেশের আমদানি বিল এত বেশি হয়নি।

মে-জুন মেয়াদে ১২৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার আমদানি বিল পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে। চলতি সপ্তাহেই এই বিল পরিশোধ করা হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫-১৬ অর্থবছরেও বাজারে ডলার ছাড়তে হয়নি বরং ডলারের দর হারানো ঠেকাতে বাজার থেকে ৪১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার তুলে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক ১৯৩ কোটি ১০ লাখ ডলার কেনার বিপরীতে বিক্রি করেছিল ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here