সরকারের ‘মহাপরিকল্পনায়’ সম্ভাবনাময় জ্বালানীখাত

0
2000
000
তেলের আন্তর্জাতিকবাজার দরের গ্রাফ

শাহীনুর ইসলাম : সরকারের ‘মহাপরিকল্পনায়’ রয়েছে জ্বালানীখাত। আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের সঙ্গে দেশের জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করবে সরকার। অন্যদিকে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হবে।

ইতোমধ্যে ফার্নেস তেলের মূল্য প্রতি লিটারে ১০-১৫ টাকা কমিয়েছে সরকার এবং আগামী সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে অকটেন, কেরোসিন, পেট্রল ও ডিজেলের দাম কমানো হবে। এজন্য পরিপত্র তৈরি করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বুধবার সচিবালয়ে এসব কথা বলেন।

বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানির কাঁচামাল হচ্ছে- তেল। তেলের কম-বেশি মূল্যবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে ব্যবসার লাভ-ক্ষতি। তেল নির্ভর দেশের যেসব কোম্পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, সেগুলোর আয় বাড়বে।

oil price
তেলের আন্তর্জাতিকবাজার দরের গ্রাফ

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম ধীরে ধীরে একটা যৌক্তিক হারে নিয়ে যাওয়া হবে। সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে অকটেন, কেরোসিন, পেট্রল ও ডিজেলের দাম কমিয়ে পরিপত্র জারি করা হবে। এরপরে  ছয়-সাত মাস পর আরেকটি ধাপ এবং তার ছয়-সাত মাস পর আরেকটি ধাপে তেলের মূল্য সমন্বয় হবে।

অন্যদিকে গ্যাস ও তেলের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে জ্বালানী খাতের সব কোম্পানির উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এতে কোম্পানির যেমন কমবে ব্যয় এবং দ্বিগুণের বেশি হবে আয়। সরকারের মহাপরিকল্পনার মধ্যে এসব কোম্পানির ব্যয়ের পরিমাণ কমে আয়ের পরিমাণ বাড়নোর চেষ্টা চলছে।

oil price
তেলের আন্তর্জাতিকবাজার দরের গ্রাফ

পুঁজিবাজারের মন্দা পরিস্থিতি দুর এবং দেশের আর্থ সামাজিক পরিস্থিতি উন্নত করতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর প্রতি সহায়ক দৃষ্টি দিচ্ছে সরকার। যে কারণে গত সপ্তাহে জ্বালানীখাতের কোম্পানিগুলোর কাঁচামাল তেলের দর অনেক কমানো হয়েছে।

কেননা ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয়ের সময় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। সেবার দাম বাড়িয়ে প্রতি লিটার অকটেন ৯৯ টাকা, পেট্রল ৯৬ টাকা, কেরোসিন ও ডিজেল ৬৮ টাকা করা হয়। এখনো সে দরেই বিক্রি হচ্ছে এসব জ্বালানি। তবে গত সপ্তাহেই প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ৬০ টাকা থেকে কমিয়ে ৪২ টাকা করা হয়েছে।

অন্যেদিকে সরকার ‘যত্রতত্র’ গ্যাস ব্যবহার বন্ধ করতে চাইছে। এরই মধ্যে গ্যাস ব্যবহারের বিষয়ে  ‘মহাপরিকল্পনা’ তৈরি করা হয়েছে। সরকার এখন সেদিকেই অগ্রসর হচ্ছে। আবাসিক খাত থেকে গ্যাস সরিয়ে এলপিজিতে যাওয়ার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।

আর সিএনজি থেকে ধীরে ধীরে সরে আসতে কী করা যায়, তা পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে গণপরিবহনে সিএনজি কিছুটা থাকবে বলেন নসরুল হামিদ।

যে কারণে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জ্বালানী খাতের কোম্পানিগুলো এখন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে নতুন বছরে বিএসইসি বাজার উন্নয়নে নতুন অনেক পলিসি গ্রহণ করে। বিনিয়োগকারীদের মানসিক চাহিদাকে নতুন আকার দেবে সরকারের এ মহাপরিকল্পণা।

OIL.. 1বিশ্ববাজারে অনেক দিন ধরে পড়তির দিকে জ্বালানি তেলের দাম। অথচ দেশের বাজারে পণ্যটি তিন-চার গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মহলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ফেব্রুয়ারিতে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

এতে প্রতি লিটার অকটেন ও পেট্রলে ১৫ থেকে ২০ টাকা এবং ডিজেলে ৫ টাকা দাম কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ পরিমাণ দাম কমালেও জ্বালানি তেল থেকে বিপিসির মুনাফা হবে বলেও জানায় সংস্থাটি।

এর আগে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে জ্বালানি তেলে মুনাফার হিসাব তুলে ধরে বিপিসি। এতে বলা হয়, বর্তমানে ডিজেলের ক্রয়মূল্য ৪০ টাকা ১৬ পয়সা ও বিক্রয়মূল্য ৬৮ টাকা। ফলে ডিজেল থেকে বিপিসি মুনাফা করছে ২৭ টাকা ৮৪ পয়সা। কেরোসিনে এ মুনাফা ২৭ টাকা ৩৯ পয়সা।

এক্ষেত্রে ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য যথাক্রমে ৪০ টাকা ৬১ পয়সা ও ৬৮ টাকা। আর ফার্নেস অয়েলের ক্রয়মূল্য ৩২ টাকা ৮১ পয়সা ও বিক্রয়মূল্য ৬০ টাকা। এ থেকে বিপিসির মুনাফা ২৭ টাকা ১৯ পয়সা।

সম্ভাবনা সম্পর্কে শাহজীবাজার পাওয়ার লিমিটেডের ঊর্ধতন এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারের মহপরিকল্পনা ভালো। তবে অনেক কোম্পানি এর আওতায় পড়বে না। যেসব কোম্পানি ফার্নেস ওয়েল ব্যবহার করে তারা ভালো করতে পারে।

তিনি বলেন, এখানে গ্যাসের দাম বাড়লে কি, আর না বাড়লে কি? আমাদের যেমন জালালাবাদ গ্যাস ক্ষেত্রের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে। এমনি প্রত্যেক পাওয়ার কোম্পানি চুক্তিবদ্ধ। এখানে গ্যাসের দাম কমানো বা বাড়ানো হলেও আমাদের লাভ-ক্ষতি নেই। কারণ, সরকার আগেই চুক্তি করেছে।

কোম্পানির আয়-ব্যয় সম্পর্কে একই মন্তব্য করেন সামিট পাওয়ার লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি স্বপন কুমার পাল। ফার্নেস তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা রেভিনিউ এবং কসটের মধ্যে পড়বে না। কারণ সরকারের সঙ্গে চুক্তি, আমার বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঠিক যতটুকু ব্যয় হবে- সরকার তাই আমাকে দেব। এখানে তেলের দাম বাড়ল বা কমল, এর সঙ্গে লাভ-ক্ষতির কোন সম্পর্ক নেই।

কোম্পানির লাভ-লোকসানের দিক নাই। তবে আমার গাফিলতির কারণে কোম্পানির ফার্নেসওয়েল বেশি খরচ হলে তার দায় নেবে না। তবে সম্ভাবনা রয়েছে বলেন স্বপন কুমার পাল।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাধারণ সম্পাদক ও এমটিবি ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল বাশার আবু তাহের মোহাম্মদ সরকারের ‘মহাপরিকল্পনাকে তিনি শুভ দিক’ হিসেবে দেখছেন।

তিনি জ্বালানী খাতের কোম্পানিগুলোর সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, কোম্পানিগুলোর আনিং সোর্স বাড়বে এবং মার্কেটের জন্য এটা শুভ খবর।

বাজার উন্নয়নে বিএমবিএ -এর কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, আমরা আপাতত ব্যাংগুলোর এক্সপোজার লিমিট বৃদ্ধি, বিভিন্ন কোম্পানির ডেফিনেশন চেঞ্জ এবং সরকারের বিভিন্ন পলিসি সাপোর্ট কী পেতে পারি, সেসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here