বাজার চাঙ্গায় আসছে ২৫০ কোটি টাকা, বাড়ছে বিনিয়োগ সীমা

0
5836

শাহীনুর ইসলাম : পুঁজিবাজারের মন্দাভাব আর থাকছে না। বাজার উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার লক্ষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ সমন্বয় করে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ক্ষতি কমাতে শিগগিরই ২৫০ কোটি টাকা দিচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।

অন্যদিকে, ব্যাংকগুলোর বাড়তি বিনিয়োগ (ওভার এক্সপোজার) সমন্বয়ের সময় সীমা বাড়ানোর চিঠি এখন বাংলাদেশ ব্যাংকে। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে চারটি প্রস্তাব সম্বলিত একটি চিঠি প্রদান করা হয়। অর্থমন্ত্রণালয়ে অনুমোদন সাপেক্ষে সময়সীমা বৃদ্ধি করা হবে।

‘চারটি প্রস্তাব সম্বলিত একটি চিঠি’ গভর্নরকে দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে যান ডিএসইর পরিচালক মো. রকিবুর রহমান ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান। এমন তথ্য মঙ্গলবার নিশ্চিত করেন ডিএসইর উপ-মহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান।

গভর্নরকে দেয়া চারটি প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বাড়তি বিনিয়োগ (ওভার এক্সপোজার) সমন্বয়ের সময় সীমা ২০২০ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ, তালিকাভুক্ত নয়; এমন কোম্পানির শেয়ারকে সমন্বয় সীমার মধ্যে না আনা, ডিএসইর মাধ্যমে বন্ডের লেনদেন চালু করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তপসিলি ব্যাংকগুলোকে শেয়ার কেনাবেচা সংক্রান্ত ১৫ দিন অন্তর যে রিপোর্ট দিতে হয়; তা ১৫ দিনের পরিবর্তে ৩ মাস পর নির্ধারণ করা।

চারটি প্রস্তাব সম্বলিত চিঠি প্রদান করা হলে গভর্নর ফজলে কবির তাদের বলেন, আমরা চিঠিটি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) পাঠাবো। তাদের মতামত পাওয়ার পর এটি অর্থমন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। অর্থমন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হবে।

এর আগে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে ওভার এক্সপোজার সমন্বয়ের সময় বাড়ানো সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠাতে বলেন। এর প্রেক্ষিতে গভর্নর তাদের কাছে বিনিয়োগসীমা নিয়ে অনুরোধ জানাতে ডিএসইকে পরামর্শ দেন। এর আলোকে ডিএসই সোমবার লিখিত প্রস্তাব পাঠায় গভর্নরের কাছে।

অপর দিকে, ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ক্ষতি কমাতে আগামী ২১ এপ্রিলের মধ্যে ২৫০ কোটি টাকা দিচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) কর্তৃপক্ষ। ৩৯৮ সদস্য প্রতিষ্ঠানকে লভ্যাংশ হিসেবে টাকা দিচ্ছে স্টক এক্সচেঞ্জ দু’টি।

এই টাকার ৯০ শতাংশ বিনিয়োগ হবে পুঁজিবাজারে। আর বাকি ১০ শতাংশ ব্যয় হবে ব্রোকার হাউস ব্যবস্থাপনায়। ফলে বেশির ভাগ ব্রোকারদের বিনিয়োগের সক্ষমতা বাড়বে। পুঁজিবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

আড়াইশ’ কোটি টাকার মধ্যে ডিএসই’র সদস্য ব্রোকার মালিকরা পাবেন প্রত্যেকে ৬৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা আর সিএসই’র ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা করে। সব মিলে ডিএসই’র ২৫০ সদস্য পাবে ১৬২ কোটি টাকা আর সিএসই’র ১৪৮ সদস্য পাবেন ৩৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। বাকি ২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা যাবে সরকারের রাজস্ব খাতে।

ক্ষতিপূরণের এ টাকা পেলে অনেকেই অফিস ব্যবস্থাপনা ও পুঁজিবাজারে নতুন করে বিনিয়োগ করবেন। বাজার পরিস্থিতি সন্তোসজনক না হলেও আগামী ২ বছর এ টাকা দিয়েই চলতে পারবে ৩ শতাধিক ব্রোকার হাউজ।

এদিকে বাকি ৯৮টি বড় ব্রোকারেজ হাউজের খরচ সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে। ফলে ব্রোকারদের ১৫ শতাংশ লভ্যাংশের দাবির প্রেক্ষিতে ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ডিএসই। আর সিএসই ঘোষণা করেছে ৬ শতাংশ লভ্যাংশ। যা টাকার অংকে দাঁড়িযেছে ১৮০ আর ৩৮ কোটি টাকা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অধ্যাপক স্বপন কুমার বালা বাংলানিউজকে জানান, লভ্যাংশের অর্থ দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। শিগগিরই টাকা দেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ভারপ্রাপ্ত এমডি জানান, আগামী ২১ এপ্রিল এজিএমের পর পরই সিএসই’র ব্রোকারদের টাকা দিয়ে দেওয়া হবে। এর ফলে তারা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এতে বাজারে লেনদেন বাড়বে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আস্থা বাড়তে শুরু করবে।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের সর্বশেষ সংশোধনীতে আরোপিত শর্তের কারণে পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের সক্ষমতা কমেছে। আগে প্রতিটি ব্যাংক তার আমানতের ১০ শতাংশ পর্যন্ত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারতো। ২০১৩ সালের সংশোধনী অনুসারে এখন ব্যাংকগুলো নিজ নিজ রেগুলেটরি মূলধনের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারে।

অন্যদিকে, দেশের উভয় স্টক একচেঞ্জের টাকা ব্রোক‍ার হাউসগুলোকে প্রদান করলে শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ বাড়বে এবং বিনিয়োগ সমন্বয়ের সীমা বাড়ানো হলে বাজার উন্নয়ন ও স্থিতিশীল হবে পুঁজিবাজার। এমন মতামত দেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here