সম্ভাবনায় প্রাণবন্ত ইস্টার্ণ ইন্স্যুরেন্সের এজিএম

0
569

হোসাইন আকমল : ইস্টার্ণ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ২৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) বিভিন্ন সম্ভাবনা ও বিনিয়োগকারীদের পদচারণায় ছিল প্রাণবন্ত। কোম্পানিকর্তৃপক্ষ এবং শেয়ারহোল্ডারদের স্বতঃফুর্ত আলোচনায় সম্পন্ন হয়েছে সভা। কোম্পানির আগামীদিনের সম্ভাবনার মধ্যে রয়েছে গ্রোস প্রিমিয়াম বাড়ানো, পলিসি বাড়ানোর কৌশল অবলম্বন, ৩টি কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে নিজস্ব ভবন নির্মাণ, হেল্থ কেয়ার চালু প্রভৃতি ঘোষণা।

রাজধানীর গুলশান ১-এর স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে বৃহস্পতিবার সভার আয়োজন করা হয়।

ইস্টার্ণ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান মি. মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- স্পন্সর ডিরেক্টর মেজর(অবঃ) আব্দুল মান্নান, মি. মতিউর রহমান, ইন্ডেপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর মি. মো. মুর্শেদ হোসেনসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, কোম্পানির সচিব ও সাধারণ বিনিয়োগকারী।

সভায় মুজিবুর রহমান কোম্পানির বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরে বলেন, ইস্টার্ণ ইন্স্যুরেন্সে হেল্থ-কেয়ার চালু করা হয়েছে। হেল্থ ইন্স্যুরেন্সের মাধ্যমে গ্রাহকদের এ সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের কোম্পানি ভাল অবস্থানে রয়েছে। কোম্পানিটি ভবিষ্যতে আরো ভাল করবে বলে আশা করেন তিনি।

স্পন্সর ডিরেক্টর আব্দুল মান্নান সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, কোম্পানির ব্যয় সঙ্কোচন করে আয় ধরে রাখার জন্য জনবল(ইমপ্লোয়ী) কমিয়ে আনা হয়েছে। ইস্টার্ণ ইন্স্যুরেন্সে একসময় ইমপ্লোয়ী ছিল ৫শত ৫৮ জন। তা এখন ৩শত ৪৭ জনে নামিয়ে আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, রাজধানীর ফকিরাপুলে (পানির ট্যাঙ্কের বিপরীতে) ৩৩ কাঠার প্লটে ৩ কোম্পানি (ইস্টার্ণ ইন্স্যুরেন্স, সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্সিয়াল কোম্পানি  বা বিআইএফসি) মিলে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ইস্টার্ণ ইন্স্যুরেন্সের মালিকানায় থাকবে ১১ কাঠা সমপরিমাণ জায়গা। শীঘ্রই এর কাজ সম্পন্ন হবে।

অপর স্পন্সর ডিরেক্টর মতিউর রহমান বলেন, বর্তমানে কোম্পানির গ্রোস প্রিমিয়াম রয়েছে ৩৬ কোটি টাকা। গ্রোস প্রিমিয়াম বর্ধিত করে আগামী বছর ৪৪ কোটিতে নিয়ে যাওয়া হবে ইনশা-আল্লাহ্।

তিনি বলেন, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর মধ্যে রেটিংয়ের দিক থেকে ইস্টার্ণ ইন্স্যুরেন্স ৩ নম্বরে রয়েছে। এটা আমাদের বিশাল অর্জন। এ ধরণের কোম্পানি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতার স্বাক্ষর বহন করে।

তিনি আরো বলেন, শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে অনেকেরই ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে। ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রে তারা ইস্টার্ণ ইন্স্যুরেন্সের পলিসি গ্রহণ করলে এ কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারিত হবে। এতে করে শেয়ারহোল্ডাররাই প্রকারান্তরে লাভবান হবে।

DSC02667

সভায় বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করে ইস্টার্ণ ইন্স্যুরেন্সের ভাল অবস্থান তুলে ধরেন। ২০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেয়ায় তারা তৃপ্ত বলে জানান। বিভিন্ন বীমা কোম্পানির উদাহরণ টেনে তারা বলেন, ভাল ব্যবসা করে ভালমানের কোম্পানি হিসেবে পরিচিত হলেও অনেক কোম্পানি ১০ শতাংশ করে ডিভিডেন্ড দিয়েছে। সেক্ষেত্রে ইস্টার্ণ ইন্স্যুরেন্স বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনা করে ২০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে। এটা আমাদের জন্য ভাল খবর। ভবিষ্যতেও যেন এ ধারা অব্যহত থাকে- কোম্পানির প্রতি এমন আহ্বান জানান তারা।

পলিসি বাড়লে কোম্পানির আয় বাড়ে। ইস্টার্ণ ইন্স্যুরেন্সের পলিসি বাড়ানোর জন্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে কোম্পানির ব্রাঞ্চ বা শাখা অফিসের সংখ্যা আরো বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন বিনিয়োগকারীরা।

DSC02668

সেইসঙ্গে কোম্পানির কিছুটা নেতিবাচক সমালোচনাও করেন কতিপয় বিনিয়োগকারী। তারা বলেন, কোম্পানির পেইডআপের সঙ্গে গ্রোস প্রিমিয়ামের মিল নেই। তাছাড়া গত বছরের তুলনায় এবার এজিএম পিছিয়েছে।

তারা আরো বলেন, ২৮তম এজিএমের ব্যানারে ২৯ ইয়ার্স অব কমপ্রিহেনসিভ সার্ভিস(29 Years of Comprehensive Service) লেখা ছিল। এবার অর্থাৎ, ২৯তম এজিএমের ব্যানারেও একই লেখা (29 Years of Comprehensive Service) রয়েছে। মূলত তা 29 Years of Comprehensive Service-এর স্থলে 30 Years of Comprehensive Service হওয়ার কথা। বিষয়টি বিভ্রান্তিকর। নিচের চিত্র (বৃত্ত দ্বারা চিহ্নিত) দেখুন-

Eastern-0

এরআগে হোটেল সোনারগাঁ-তে অনুষ্ঠিত ইস্টার্ণ ইন্স্যুরেন্সের এজিএমে বিনিয়োগকারীদের জন্য বুফে থেকে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলেও জানান শেয়ারহোল্ডাররা।

বিনিয়োগকারীদের বক্তব্যের পালা শেষ হলে তাদের সম্মতিক্রমে সভায় সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ঘোষিত লভ্যাংশসহ অন্যান্য এজেন্ডার চূড়ান্ত অনুমোদন নেয়া হয়।

সমাপনী বক্তব্যে চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান আর কথা না বাড়িয়ে বিনিয়োগকারী ও উপস্থিত অন্যান্য সুধীজনকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সভার ইতি টানেন।

২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ইস্টার্ণ ইন্স্যুরেন্সের প্রতি শেয়ারে আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৫২ পয়সা। নেট এ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) হয়েছে  ৩৭ টাকা ৩৩ পয়সা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here