সম্ভাবনার বাংলাদেশে এসিআইয়ের সঙ্গে ফোটন মোটর গ্রুপ

0
685
ফোটন মোটর গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট চ্যাং রুই

বিশ্বের ১১০টি দেশে এক হাজারের বেশি পরিবেশক ও ৭০টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করছে ফোটন মোটর গ্রুপ। এছাড়া নয়টি দেশে সেলস কোম্পানি ও ৩০টি দেশে সিকেডি প্রকল্প প্রতিষ্ঠা করেছে তারা। চলতি বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশে যানবাহন সংযোজন কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসা পরিচালনা করতে যাচ্ছে।

এজন্য বাংলাদেশের এসিআই লিমিটেডের সঙ্গে একটি ব্যবসায়িক চুক্তি করেছে তারা। এ উপলক্ষে ফোটন মোটর গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট চ্যাং রুই সম্প্রতি বাংলাদেশে আসেন। বাণিজ্যিক যানবাহনের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাইদ শাহীন

  • বিশ্বজুড়ে কোন ধরনের যানবাহন বিপণন করছেন?

বর্তমানে ফোটন মোটর গ্রুপ বিশ্বের এক নম্ব্বর বাণিজ্যিক যানবাহন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বছরে আমাদের বিক্রি ছাড়িয়েছে ৮০ লাখ ইউনিট। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বিক্রির পরিমাণ কোটিতে উন্নীত করা সম্ভব হবে।

আমাদের প্রতিষ্ঠান মাঝারি ও হেভি ডিউটি ট্রাক ও ভ্যান, কৃষিকাজের ট্রাক্টর, হালকা বাণিজ্যিক যানবাহন, পিকআপ বাস, ডাবল কেবিন পিকআপ, স্কুল ভ্যান, ডাম্প ট্রাক, ট্রানজিট মিকশ্চার, বাল্ক সিমেন্ট ক্যারিয়ার, ফায়ার সার্ভিস ভেহিকল, কনস্ট্রাকশন মেশিনারিজ অ্যান্ড ভেহিকল, ক্লিনিং ভেহিকল, হেভি ক্রেন উৎপাদন ও বিপণন করছে। প্রতিনিয়তই বিশ্বের সম্ভাবনাময় বাজারগুলোয় আমরা আমাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করছি।

যানবাহন বিক্রির ক্ষেত্রে বিক্রয়োত্তর সেবা ও উন্নত যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কারণে আমরা চীনে ‘ইন্টেলিজেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং’ স্বীকৃতি অর্জন করেছি। গ্রাহকসেবা নিশ্চিতকরণে আমরা সবসময়ই সচেতন। ফলে আমরা দ্রুত ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পেরেছি।

  • বাংলাদেশে বাণিজ্যিক যানবাহনের বাজার সম্ভাবনা কেমন?

বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার আগে আমরা এ দেশের বাজার সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা নিয়েছি। বিভিন্ন মাধ্যমে গবেষণা করে আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি তা হলো, বাংলাদেশে বছরে ৩৮ হাজার বাণিজ্যিক যান বিক্রি হচ্ছে। আর্থিক মূল্যে এ বাজারের আকার প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। প্রতি বছরই বাজার গড়ে প্রায় ১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে।

এছাড়া বাংলাদেশে সড়ক ও বড় বড় সেতুর মতো অবকাঠামো নির্মাণ হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর যোগাযোগ আরো বেড়ে যাবে। ফলে সামনের দিনগুলোয় বাংলাদেশে বাণিজ্যিক যানের বাজার আরো বেশি হারে বৃদ্ধি পাবে। এজন্য আমরা এ দেশে ব্যবসা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

যৌথভাবে বাণিজ্যিক যানবাহন উৎপাদনের লক্ষ্যে ফোটন মোটর গ্রুপ ও বাংলাদেশের এসিআই লিমিটেডের মধ্যে ‘এক্সক্লুসিভ ডিলারশিপ অ্যান্ড লোকাল অ্যাসেমব্ল্লিং’ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে সংযোজন কারখানার পাশাপাশি উৎপাদন কারখানা স্থাপন করা হবে।

  • বাংলাদেশকে কেন বাণিজ্যিক যানবাহন ব্যবসার সম্ভাবনাময় বাজার মনে করছেন?

গতিশীল অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করতে কমার্শিয়াল ভেহিকলের গুরুত্ব সারা বিশ্বেই বাড়ছে। বাংলাদেশেও এর চাহিদা ক্রমবৃদ্ধিমান। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে চীনে শ্রমিক ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। শ্রমিকের সংকটও রয়েছে। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে। এ কারণে আগামী দিনগুলোয় বিশ্বের বড় বড় যানবাহন উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর নজর থাকবে বাংলাদেশের দিকে।

একসময় এ দেশে গাড়ি উৎপাদনের কারখানাও হবে। আমাদের ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে ভালো একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন। সেটি আমার পেরেছি। এসিআই মোটরস দেশের কৃষিযন্ত্রের বাজারে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। এছাড়া তারা নির্মাণ খাতের ভারী যন্ত্র বাজারজাত করে। জাপানের ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলও তারাই বাংলাদেশে এনেছে। বৈশ্বিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এসিআই লিমিটেডের ভালো ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে।

বাংলাদেশে গাড়ি সংযোজনের কারখানা স্থাপন ও বিপণনে এসিআই সেরা সহযোগী হিসেবে কাজ করতে পারবে। কৃষিযন্ত্রের মতো এসব গাড়ির ক্ষেত্রেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করতে পারবে তারা। আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক যানবাহনের বাজারের ১০ শতাংশ নিজেদের দখলে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।

  • বাংলাদেশে দক্ষ শ্রমিকর ঘাটতি রয়েছেসেটি পূরণে কী উদ্যোগ নেবেন?

সারা বিশ্বেই বাণিজ্যিক যান উৎপাদনের ক্ষেত্রে শ্রমিক সংকট রয়েছে। সেটি পূরণ করতে নানা ধরনের উদ্যোগ নিতে হয়। সাধারণত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলে সেখানে কারিগরি সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিক ও কর্মকর্তা তৈরি করা হয়। যেসব দেশে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান নেই, সেখানেও আমরা দক্ষ শ্রমিক তৈরি করি। নিজস্ব ব্যবস্থাপনা ও নিজেদের দক্ষ শ্রমিকের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপনের মাধ্যমে তা করা হয়। বাংলাদেশে দক্ষ শ্রমিক তৈরি করতে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়া ছাড়াও আলাদাভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

  • এক নজরে ফোটন মোটর গ্রুপ:

১৯৯৬ সালের ২৮ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত হয় ফোটন মোটর কোম্পানি। পরবর্তীতে চীনের বেশ কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে একীভূত ও নতুন কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে গ্রুপ অব কোম্পানিজ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সারা বিশ্বে প্রায় ৮০ লাখ বাণিজ্যিক যান বিক্রি করেছে ফোটন মোটর গ্রুপ। নিয়মিত জনবল ৫০ হাজারের বেশি।

দুই দশকের ব্যবধানে গ্রুপটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক যানবাহন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এছাড়া বিশ্বের ৫০০ শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডের মধ্যে ফোটনের অবস্থান শীর্ষ দশে। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ড ভ্যালু ছিল প্রায় ৬ হাজার ২০০ কোটি ইউয়ান (৯০৯ কোটি ডলার)। (সংগৃহিত)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here