সম্ভাবনার পথে এমজেএল বিডি, আরো ৬৫ শতাংশ বিক্রি বাড়ানোর টার্গেট

0
1229

সিনিয়র রিপোর্টার : দুই লাখ টন বাৎসরিক উৎপাদন ক্ষমতার কোম্পানি ২০১৭ সালে ৫ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে ৮৭ হাজার টন এলপিজি বিক্রি করেছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর বিক্রি বেড়েছে ১৬১ শতাংশ। নতুন বছরে আরো ৬৫ শতাংশ বিক্রি বাড়ানোর টার্গেট নিয়ে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে মবিল যমুনা বাংলাদেশের (এমজেএল বিডি) সহযোগী প্রতিষ্ঠান ওমেরা এলপিজি।

বিশ্বব্যাপী সমাদৃত ইঞ্জিন ওয়েল ব্র্যন্ডি হলো- মবিল। যা ১৫০ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে গণপরিবহন ও শিল্প খাতের যান্ত্রিক ইঞ্জিনের সুরক্ষা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এই মবিল। আমেরিকান এক্সন-মবিল কোম্পানির এই ইঞ্জিন ওয়েল ব্রান্ডটি বাংলাদেশে একমাত্র প্রস্তুতকারক ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান হলো- মবিল যমুনা বাংলাদেশ (এমজেএল বিডি)।দেশের কল-কারখানা ও পরিবহন বাড়তে থাকায় ইঞ্জিন ওয়েলের ব্যবসা আরো সমৃদ্ধির পথে। দিনে দিনে সম্ভাবনা আরো বাড়ছে।ক্রমবর্দ্ধনশীল ইঞ্জিন ওয়েল খাতের প্রায় ৩৮ শতাংশ দখলে রয়েছে এই কোম্পানির।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ৪ বছরে এমজেএলের ইপিএস গ্রোথ ছিল যথাক্রমে ৩২%, ১৫%, ২৮%, ২১%। গড় ছিল ২৪%। আগামী ৫ বছরে এমজেএল এর গড় প্রবৃদ্ধি ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অপর দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫ বছর মেয়াদী ট্রেজারি বিলের ইল্ড এখন ৫’১ শতাংশ।

দেশীয় বাজারে এমজেএল দরে রেখেছে শীর্ষ অবস্থান। অন্যদিকে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ স্থানে থাকা কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত মার্কেট শেয়ারের চাইতেও এমজেএল এর মার্কেট শেয়ার বেশী রয়েছে।

মূল ব্যবসা ইঞ্জিন ওয়েলের পাশাপাশি এমজেএল বছর তিনেক আগে তাদের ৬১% মালিকানার সাবসিডিয়ারী কোম্পানি ওমেরা পেট্রোলিয়াম -এর মাধ্যমে এলপিজি ব্যবসা শুরু করেছে।

দুই লাখ টন বাৎসরিক উৎপাদন ক্ষমতার এই কোম্পানি ২০১৭ সালে ৫ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে ৮৭ হাজার টন এলপিজি বিক্রি করেছে। গত বছরের তুলনায় এই বছর বিক্রি বেড়েছে ১৬১%। আগামী বছর ৬৫% বিক্রি বাড়ানোর টার্গেট নিয়ে নতুন বছর শুরু করবে ওমেরা এলপিজি।

নতুন বছরে (২০১৮) কোম্পানির কর্তৃপক্ষ বাৎসরিক উৎপাদন ক্ষমতার দুই থেকে তিন লাখ টনে উন্নীত করবে। দেশের ৫ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ক্ষমতা ৩ লাখ টনে উন্নিত করেছে। একই সঙ্গে কোম্পানির পণ্য বিক্রি বাড়িয়ে এলপিজি ব্যাবসায়ও দেশের এক নম্বর হওয়ার পথে রয়েছে কোম্পানিটি। প্রাকৃতিক গ্যাস দ্রুত কমে আসায় এলপিজি ও এলএনজিকে বিকল্প ভাবা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এলপিজির ব্যবহার আগামী বছরগুলতে কয়েক গুণ বাড়বে বলে এই খাতের ব্যবসায়ীরা অনুমান করছেন।

ব্যাবসায়ীক সম্ভাবনা : আর্থিক দিক থেকে এমজেএল খুবই শক্তিশালী একটি কোম্পানি, এর সর্বশেষ ক্রেডিট রেটিং AA+। মূল কোম্পানি এমজ্রেএলের কোন টার্ম ঋণ না থাকায় খুবই আশা ব্যাঞ্জক।২০১৭ সালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানির প্রধান আয়ের উৎস ইঞ্জিন ওয়েল থেকে বেশির ভাগ আয় এসেছে।

দেখা গেছে, ৬.৯১ টাকা ইপিএস -এর ৬.৫৮ টাকা এসেছে ইঞ্জিন ওয়েল ব্যবসা থেকে। বাকি ০.৩৩ টাকা এসেছে সাবসিডিয়ারী কোম্পানিগুলো থেকে। গত বছরের তুলনায় এই বছর ইপিএস বেড়েছে ১.২ টাকা যা শতাংশের হিসেবে প্রায় ২১% বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রায় ১০০ কোটি টাকার বড় টার্মলোন আছে সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর। আশার কথা হলো- কোম্পানিগুলো সময় মত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করে মুনাফাও করছে। প্রতি বছর ৫০ কোটি টাকা লোন শোধ হচ্ছে। সেই হিসাবে আগামী দুই বছরে এই লোন শোধ হয়ে যাবে। লোন শোধ হয়ে গেলে সাবসিডিয়ারী থেকেই এমজেএল এর আয় এখনকার হিসেবে শেয়ার প্রতি ১’৬ টাকা বাড়বে। আর পরিকল্পনা মত গ্যাস বিক্রি বাড়াতে পারলে আয় আরও বাড়বে।

২০১৬-১৭ সালের অ্যানুয়াল রিপোর্টে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে প্রকাশ, বাংলাদেশ সরকার প্রাকৃতিক গ্যাস সংকটের প্রেক্ষিতে বাসাবাড়িতে পাইপ লাইন গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এলপি গ্যাসকে প্রমোট করেছে। ধীরে ধীরে পরিবহন খাতে সিএনজি এর পরিবর্তে এলপিজি গ্যাসের ব্যবহার করারা পরিকল্পনা হচ্ছে। এমজেএল এর ওমেরা বাজারে আসার দুই বছরে মার্কেটের ১৭ শতাংশ ব্যাবসা নিজেদের দখলে নিয়েছে।

ভ্যালুয়েশন- বেঞ্জামিন গ্রাহাম ফর্মুলা, BGF = (EPS*(8.5+2g)*4.4)/Y.
এখানে, g = আগামী ৫ বছরের গ্রোথ রেট।
Y = ৫ বছর মেয়াদী সরকারী বন্ড রেট। 

গত ৪ বছরে এমজেএল এর ইপিএস গ্রোথ ছিল যথাক্রমে ৩২%, ১৫%, ২৮%, ২১%। গড় ২৪%। আগামী ৫ বছরে এমজেএল এর গড় প্রবৃদ্ধি ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অপর দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫ বছর মেয়াদী ট্রেজারি বিলের ইল্ড এখন ৫’১ শতাংশ।

অনুমান-১ঃ g=24, BGF = (6.91*(8.5+2*24)*4.4)/5.1 = 336
অনুমান-২ঃ g=20, BGF = (6.91*(8.5+2*20)*4.4)/5.1 = 289
অনুমান-৩ঃ g=15, BGF = (6.91*(8.5+2*15)*4.4)/5.1 = 229
অনুমান-৪ঃ g=10, BGF = (6.91*(8.5+2*10)*4.4)/5.1 = 170

চারটি অনুমান থেকে প্রাপ্ত সংখ্যার গড় করলে আমরা পাই ২৫৬। আগামী ৫ বছরে এমজেএল এর ইন্ত্রাঞ্জিক ভ্যালু ২৫৬ এর আশে-পাশে থাকবে বলে আশা করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে ১৫ শতাংশ মার্জিন ধরা হলে আগামী ৫ বছরে এমজেএল -এর আনুমানিক মূল্য হবে ২১৭ টাকা। তথ্যসূত্র – এমজেএল বিডি এন্যুয়াল রিপোর্ট ২০১৬-১৭ এবং গ্রন্থনায় হাসান শাহরিয়ার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here