সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে পুঁজিবাজার

0
421

সিনিয়র রিপোর্টার : ঈদের ছুটির পরও বেশ চাঙ্গাভাবে দেশের দুই শেয়ারবাজারের লেনদেন শুরু হয়েছে। সোমবার লেনদেনের প্রথম দিনেই উভয় বাজারে লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। তাতে ভর করে প্রধান মূল্য সূচকগুলো সোয়া এক শতাংশের ওপর বেড়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বুধবার মূল্য সূচকের মিশ্রাবস্থায় লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে ডিএসইতে লেনদেন ৬ শতাংশ বেড়ে ৭০০ কোটির ঘর অতিক্রম করেছে। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক ও লেনদেন দুটোই বেড়েছে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৫২টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৫টির, দর কমেছে ১২৩টির এবং দর অপরিবর্তীত রয়েছে ৭৪টির।

বুধবার ডিএসইতে ৭১৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। যা আগের দিন থেকে ৪১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বেশি। মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছিল ৬৭৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকার।

বুধবার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ২৩০ পয়েন্টে। টাকার অংকে সিএসইতে ১৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

সোমবার ডিএসই প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৩০৭ পয়েন্টে এবং ডিএসই–৩০  সূচক ২ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৪৫২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এছাড়া ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট কমেছে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৫২টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৫টির, দর কমেছে ১২৩টির এবং দর অপরিবর্তীত রয়েছে ৭৪টির।

ঈদের ছুটির আগের দিন গত বৃহস্পতিবারও অধিকাংশ শেয়ারের দর বৃদ্ধি পাওয়ায় সূচক বেড়েছিল ১ শতাংশের বেশি। এ নিয়ে টানা সপ্তম দিনে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৯৫ পয়েন্ট বেড়ে ৪২৭১ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। সূচকের এ অবস্থান গত ৮ মার্চের পর সর্বোচ্চ।

দরপতন ঠেকাতে গত ১৮ মার্চ সব শেয়ারের সর্বনিম্ন লেনদেন মূল্য ( ফ্লোর প্রাইস) বেধে দিয়েছিল শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাবেক নেতৃত্ব। ফ্লোর প্রাইসের কারণে দরপতন বন্ধ হলেও, শেয়ারবাজারের সার্বিক লেনদেন স্থবির হয়ে পড়ে। সিংহভাগ শেয়ারেরই কোনো ক্রেতা ছিল না। এর প্রায় পাঁচ মাস পর বাজারে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, গত মে মাসে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির শীর্ষ নেতৃত্বে রদবদল হয়েছে। বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেন মেয়াদ শেষে কমিশন ছাড়লে সরকার শিবালী রুবাইয়াত-উল ইসলামকে ওই পদে দায়িত্ব দেন। নতুন নেতৃত্ব গত দুই মাসে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ক্রমে বিনিয়োগে আস্থা ফিরছে। এর ফলে অনেকটা তেজি ধারায় ঈদের ছুটিতে গিয়েছিল শেয়ারবাজার। ছুটির পর ওই ধারা নিয়েই পুনরায় লেনদেন শুরু হয়েছে।

লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৩৫১ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৪টিরই বাজারদর বেড়েছে, কমেছে ৬৪টির এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ৯৪টির দর। অধিকাংশ শেয়ারের দর বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫২ পয়েন্ট বেড়ে ৪২৬৬ পয়েন্টে উঠেছে। সূচক বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ২৩ শতাংশ। তাছাড়া সূচকের এ অবস্থান গত ৮ মার্চের পর সর্বোচ্চ।

এমনকি ডিএসইর লেনদেন পাঁচ মাসেরও বেশি সময় পর পুনরায় ৬০০ কোটি টাকা পার করেছে। সোমবার এ বাজারে কেনাবেচা হওয়া সব শেয়ারের বাজার মূল্য ছিল ৬৭২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এরপরে বুধবার বুধবার ডিএসইতে ৭১৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে।

স্বাভাবিক লেনদেন হিসাব করলে এ লেনদেন গত ২০ ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ। ওই দিন ঢাকার এ শেয়ারবাজারে ৭৭০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল। অবশ্য গত ২৮ মে গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশের মালিকানা বদলের জন্য কোম্পানিটির যে শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল, তাতে ভর করে ওইদিন এ বাজারে দুই হাজার ৫৪৩ কোটি টাকারও বেশি শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here