সম্ভাবনার জোয়ারে ইয়াকিন পলিমার, চলতি মাসেই উৎপাদনে ফেরা

0
1595

সিনিয়র রিপোর্টার : বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাচ্ছে ইয়াকিন পলিমার লিমিটেড। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে উত্তোলিত ২০ কোটি টাকায় দ্বিমূখী নতুন পণ্যের সমাহার ঘটাতে যাচ্ছে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে কারখানাকে উৎপাদন উপযোগী করে তোলা হয়েছে।

চলতি ফ্রেবুুয়ারি মাসের শেষে ইয়াকিনের শতভাগ উৎপাদনে ফেরার ঘোষণা আসছে। বর্তমানে ২৫ শতাংশ উৎপাদনের সঙ্গে আরো শতভাগ যোগ হবে। সবমিলে ১২৫ শতাংশ উৎপাদন করবে।

ডিএসইর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, সাতক্ষীরার লাবসায় কোম্পানির কারকানার শেডে নতুন মূলধনী মেশিনারিজ স্থাপন করা হবে। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে কোম্পানির সম্পূর্ণ ফ্যাক্টরির মেশিনারিজ লেআউট প্ল্যান পরিবর্তন করা হবে। পরিবর্তনের কাজ শুরু হয় ২৬ ডিসেম্বর থেকে।

জানানো হয়, জানুয়ারি ২০১৮ থেকে মূলধনী মেশিনারিজ স্থাপন শুরু করেন বিদেশি (চীন) শ্রমিকরা, ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন হবে। এই দুই মাস কোম্পানির মোট উৎপাদন ক্ষমতার উল্লেখ্যযোগ্য অংশ বন্ধ থাকবে। শুধুমাত্র ২৫ শতাংশ উৎপাদন চলবে।

ডিএসইর প্রকাশিত প্রতিবেদন

সরকারের ১৭ ধরণের পণ্যে পাটের তৈরি বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। যে কারণে পলিমারের প্রতি আগ্রহ কমায় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ পাটজাত পণ্য উৎপাদনে বেশি আগ্রহী প্রকাশ করেছে। উৎপাদনে ফিরলে কোম্পানির আয় এবং শেয়ারপ্রতি চাহিদাও বহুগুণে বাড়বে।

সূত্র জানায়, কোম্পানির উৎপাদন ক্ষমতা কমিয়ে ২৫ শতাংশে নামলে তার প্রভাব পড়ে কোম্পানির আয়ে (ইপিএস)। ইপিএস কমতে থাকলে উচ্ছ্বসিত বিনিয়োগকারী নিরাশ হয়ে শেয়ার ছাড়তে থাকেন। অন্যদিকে ২০১৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে আইপিওর পরের বছরই কোম্পানিটির উৎপাদনে বড় ধরনের ধস নামে, বিভিন্ন কারণে পড়তে থাকে দর।

নতুন বছরে সব সামলে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করবে ইয়াকিন পলিমার লিমিটেড। ইয়াকিন পলিমারের উৎপাদিত ব্যাগ মূলত ধান, চাল, গম, চিনি, সার, সবজি ও ফলমূল, পেঁয়াজ, আদা, আলুসহ বিভিন্ন ধরনের শস্য, প্রাণীজ  ও মৎস্য খাদ্য, গার্মেন্টস, টেক্সটাইল ও জ্বালানি খাতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সরকার দেশে ১৭ ধরনের পণ্যে পাটের বস্তা ব্যবহারের বাধ্যতামূলক করেছে। সরকারি নির্দেশনার কারণে পিপি ওভেন ব্যাগের বিক্রি ও চাহিদা কমেছে, অন্যদিকে পাটের তৈরি ব্যাগের চাহিদা বেড়েছে।

শতভাগ উৎপাদনে ফেরা সম্পর্কে কোম্পানি সেক্রেটারি আকতারুজ্জামান বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (ফেব্রুয়ারি) ফেরার ঘোষণা দেয়া হবে। আমাদের কাজ এখনো চলছে, আশা করছি- দ্রুত শেষ হবে।

তবে কোম্পানির অনেক কর্মচারি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, লুবসার পলি কারখানার কাজ শেষ। আগের মতোই পলি উৎপাদন চলছে। আর পাটের তৈরি বস্তা তৈরিতে বিদেশি শ্রমিকরা কাজ করছেন, তাও শেষের পথে।

শ্রমিকরা জানান, এ মাসেই (ফেব্রুয়ারি) কাজ শুরু হবে। স্থানীয় এক সাংবাদিক কারখানার এলাকা ঘুরে এই প্রতিবেদকের কাছে একই মত প্রকাশ করেন।

১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের কোম্পানির বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ৬৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। রিজার্ভ ১৬ কোটি ৩ লাখ টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here