সম্ভাবনার ঘোষণায় শেষ হল ইউনাইটেড পাওয়ারের এজিএম

0
2427

হোসাইন আকমল : ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ইউপিজিডিসিএল) ৭ম ও ৮ম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) বিভিন্ন সম্ভাবনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে নতুন করে ২টি গ্যাসীয় তাপ বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণের ঘোষণা। রাজধানীর বিমান বন্দর রোডের আর্মি গল্ফ ক্লাবে বুধবার এ সভার আয়োজন করা হয়।

ইউনাইটেড পাওয়ারের চেয়ারম্যান জেনারেল মো. আব্দুল মুবিনের সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, কোম্পানির সচিব ও সাধারণ বিনিয়োগকারী।

DSC02629সভায় কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ বলেন, খুব শীঘ্রই ২টি নতুন কোম্পািনি সংযোজন করা হবে। এর মাধ্যমে নতুন করে ৮১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হবে। ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশনের নিজস্ব অর্থায়ন অর্থাৎ, কোম্পানির রিজার্ভ থেকে নতুন কোম্পানি স্থাপনের অর্থ যোগান দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, কোম্পানির পেইড আপ ক্যাপিটাল ঠিক থাকবে।

পরিচালক হাসান মাহমুদ রাজা বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা রিউমার বা গুজবে কান দিয়ে বিনিয়োগ করবেননা। কোম্পানির বর্তমান অবস্থান বিবেচনা করে বিনিয়োগ করবেন। তিনি বলেন, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশনে নতুন করে আর বিনিয়োগ করা হবেনা। কোম্পানির রিজার্ভ থেকেই সব ধরণের উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করা হবে।

ঘোষণা অনুযায়ী, ২টি গ্যাসীয় তাপ বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশনের পরিচালনা পর্ষদ। তা হলো- ৫৩ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ‘ইউনাইটেড আশুগঞ্জ পাওয়ার লিমিটেড’ ও ২৮ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ‘শাজাহানউল্লাহ পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড’। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

সভায় বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির শেয়ার যেন অতি মূল্যায়িত না হয়, কর্তৃপক্ষের প্রতি সেদিকে  লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান। তারা বলেন, আবার ১৬০ টাকার শেয়ার যেন ৬০ টাকায় ড্রপ না করে, সেদিকেও লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। বক্তৃতা দেয়ার সুযোগ গ্রহণ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের কিছুটা হট্টগোল হলেও ভাল ডিভিডেন্ড পাওয়ায় কোম্পানির প্রতি তারা আস্থা ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

বিনিয়োগকারীদের সম্মতিক্রমে সভায় ২০১৩ ও ১৪ সালের সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ঘোষিত লভ্যাংশসহ অন্যান্য এজেন্ডা চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে।

প্রসঙ্গত, পুঁজিবাজার থেকে ২৩৭ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী এ কোম্পানি আইপিওতে আসে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৫৩১তম সভায় এ কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়। আইপিওর মাধ্যমে কোম্পানিটি ৭২ টাকা ইস্যুমূল্যে ৩ কোটি ৩০ লাখ শেয়ার ছাড়ে পুঁজিবাজারে। কোম্পানির চাহিদার তুলনায় প্রায় ৬ গুণের মতো আবেদন জমা পড়ায় ১৯ ফেব্রুয়ারি লটারি ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর, ডিএসই’র পরিচালনা পর্ষদের ১৯ মার্চের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ মার্চ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয় ইউনাইটেড পাওয়ার। তালিকাভূক্তির পর ৫ এপ্রিল থেকে লেনদেনে আসে এ কোম্পানি। ডিএসইতে ‘এন’ ক্যাটাগরিতে ট্রেডিং কোড (স্ক্রীপ কোড) UPGDCL ও কোম্পানির কোড ১৫৩১৮ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সিএসইতে যথাক্রমে UPGDCL ও ২০০১৮ নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০১৪ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ইউনাইটে পাওয়ারের প্রতি শেয়ারে আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ৯৮ পয়সা। নেট এ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) হয়েছে  ২৩ টাকা ৬৪ পয়সা।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here