সঞ্চয়পত্রে কমবে নিট মুনাফা

0
1064

স্টাফ রিপোর্টার : সঞ্চয়পত্রে টিআইএন অন্তর্ভুক্ত করে প্রত্যাহার করা হচ্ছে আয়কর রেয়াত সুবিধা। এর ফলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্য লভ্যাংশ থেকে ১৫ শতাংশ আয়কর কেটে নেয়া হবে। এ কারণে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের নিট মুনাফা কমবে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সরকারের ‘নগদ ও ঋণ’ ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সুবিধাটি পর্যালোচনা করে যৌক্তিক পদক্ষেপ নিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ইতিমধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ওই বৈঠকে সঞ্চয়পত্রের ডাটাবেজে টিআইএন অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনাও দেয়া হয়, যা বাস্তবায়ন করবে জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদফতর।

এ খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, সঞ্চয়পত্রে টিআইএন শর্ত কার্যকর হলে বিনিয়োগে ভাটা পড়তে পারে। বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা এর চেয়ে ঝুঁকিমুক্ত বেশি মুনাফার পথ তালাশ করবে।

তাদের মতে, টিআইএন শর্ত আরোপ হলে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে। তবে যারা সাধারণত সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেন তাদের শিগগির ব্যাংকমুখী করা সম্ভব হবে না।

বর্তমানে একজন ব্যক্তি আয়ের ২৫ শতাংশ বিনিয়োগ করতে পারেন সঞ্চয়পত্রে। মোট বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ পর্যন্ত আয়কর রেয়াত সুবিধা দেয়া হয়। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে একজন বিনিয়োগকারী মোট ৫ হাজার টাকা মুনাফা পেলে সেখান থেকে ১৫ শতাংশ আয়কর কেটে রাখা হবে।

জানা গেছে, অর্থ সচিব (সদ্য বিদায়ী) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে সরকারের ‘নগদ ও ঋণ’ ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে হিসাব মহানিয়ন্ত্রক আবুল ফজলে মো. আবিদ, জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদফতরের ডিজি সামছুন্নাহার, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জালাল, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (করনীতি) কানন কুমার রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার অধিক হারে টাকা নেয়ায় দেশের আর্থিক খাতে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করা হয়। এ ছাড়া প্রাইমারি ডিলার ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনায় এক ধরনের জটিলতা সৃষ্টি এবং সঞ্চয়পত্রের উচ্চ সুদের কারণে সরকারি ঋণের ঝুঁকিও বাড়ছে। বৈঠকে এ মতামতও উঠে আসে।

বৈঠকে উপস্থাপিত অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ ৫ বছর। কিন্তু ট্রেজারি বন্ডের মেয়াদ ২-২০ বছর। সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি ঋণ কম ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু এ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ গ্রহণের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত স্বল্পমেয়াদি (সঞ্চয়পত্র) অধিক মাত্রায় ঋণ গ্রহণ করা হচ্ছে।

ফলে সরকারের ঋণ পোর্টফোলিওতে ঝুঁকি ও ব্যয় বাড়ছে। সম্প্রতি পরিস্থিতি এমন আকার ধারণ করেছে যে, কম সুদ ব্যয়সম্পন্ন ট্রেজারি সিকিউরিটিজের মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ করা হচ্ছে না। বরং বেশি পরিমাণে সুদ পরিশোধ করে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ গ্রহণ করতে হচ্ছে। এতে সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনার মূলনীতিও ব্যাহত হচ্ছে বলে মন্তব্য করা হয় প্রতিবেদনে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here