সংকট মোকাবেলায় ৭১৫ কোটি টাকা পাচ্ছে ফারমার্স ব্যাংক

0
450

স্টাফ রিপোর্টার : আর্থিক সঙ্কটে পড়া বেসরকারি খাতের নতুন ফারমার্স ব্যাংক অবশেষে ৭১৫ কোটি টাকা পাচ্ছে। সরকারি চার ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ টাকা দেয়া হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ সিদ্ধান্ত  ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানানো হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের প্রত্যেকে ১৬০ কোটি করে চার ব্যাংকের মাধ্যমে দেয়া হবে ৬৪০ কোটি। বাকি ৭৫ কোটি টাকা দেবে সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। এই টাকা বরাদ্দ দেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ দেয়ার পর কার্যক্রম শুরুর মাত্র চার বছরের মাথায় ফারমার্স ব্যাংক আর্থিক সংকটে পড়ে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে বেরিয়ে আসে। গ্রাহকদের টাকা দিতে পারছে না ব্যাংকটি।

এছাড়া প্রতিদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বাধ্যতামূলক নগদ জমা (সিআরআর) রাখতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ফারমার্স ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) অপসারণ করে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদও পুনর্গঠনের নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। যা ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।

জানা গেছে, গত এক বছর ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে নগদ জমা (সিআরআর) রাখতে না পারায় ক্রমাগতভাবে সিআরআর ঘাটতির ফলে ব্যাংকটিকে সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। যার ৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা আদায় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ফারমার্স ব্যাংকের বিরুদ্ধে এশাধিক তদন্তে বলা হয়েছে, গত ২০১৩ সালের ৩ জুন ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরুর কিছু দিনের মধ্যেই ঋণ নিয়মাচার পরিপালনে এবং ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় শিথিলতা দেখা দেয়। ফলে ব্যাংকটিতে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম হতে থাকে। মোটা দাগে ১৩টি বিশেষ অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়।

প্র্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছর ধরে ফারমার্স ব্যাংক তীব্র তারল্য সংকট রয়েছে। বর্তমানে এ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ব্যাংকের মূল তারল্য পরিমাপক সূচক তথা বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত নগদ জমা (সিআরআর) সংরক্ষণে ব্যাংকটি ক্রমাগতভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। যেমন: গত বছর এপ্রিল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ব্যাংকটি একটানা সিআরআর সংরক্ষণে ব্যর্থ হচ্ছে।

এছাড়া, গত জানুয়ারি থেকে গত জুন পর্যন্ত ব্যাংকটি বেশ কয়েক দিন এসএলআর সংরক্ষণেও ব্যর্থ হয়েছে। ব্যাংক পরিচালনায় যথাযথ নিয়মাচার অনুসরণ না করায় আয়ের উপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গত বছরের জুনের পর থেকে একমাত্র গত ডিসেম্বর ত্রৈমাসিক ছাড়া ব্যাংকটি ক্রমাগত লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে। গত জুন প্রান্তিকে ব্যাংকটির নীট লোকসানের পরিমাণ ছিল ১৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। এছাড়া ব্যাংকটির মোট ৫৪টি শাখার মধ্যে ২৮টিই লোকসানে পরিচালিত হচ্ছে। অর্থাৎ ব্যাংকটির মোট শাখার ৫০ শতাংশের বেশিই লোকসানী।

ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থাও খুবই খারাপ। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন তহবিলের অর্থসহ সরকারি কয়েকটি সংস্থার অর্থ ফেরত নিয়ে দ্বিধায় ভুগছে ব্যাংক এবং গ্রাহকরা। এ অবস্থায় ব্যাংকটির ঘুড়ে দাঁড়ানোর জন্য শর্ত সাপেক্ষে এ অর্থ সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here