শেয়ার লেনদেন স্থগিত ৩টি কোম্পানির আর্থিক চিত্র

0
893

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ৩টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন স্থগিত করেছে।  কোম্পানিগুলো হলো- মুন্নু জুট স্টাফলার্স, লিগাসি ফুটওয়ার এবং বিডি অটোকার্স। আগামী ৩০ কার্যদিবস কোম্পানিগুলোর লেনদেন বন্ধ থাকবে।

পাশাপাশি ২ কোম্পানির লিগ্যাসি ফুটওয়ার এবং বিডি অটোকারসের অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন- বিএসইসির উপ পরিচালক শামসুর রহমান এবং সরকারি পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম।

কমিটিকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯-এর সেকশন ৯ (৭) অনুসারে ট্রেড সাসপেন্ড করা হয়।কোম্পানিগুলোর বাস্তব অবস্থা কি, রিজার্ভ, ইপিএস, এনএভির সঙ্গে শেয়ার দর বৃদ্ধি স্বাভাবিক কি না তা দেখতে স্থগিত করা হয়।

মুন্নু জুট স্টাফলার্স : শেয়ার দর বৃদ্ধি শুরু হয় চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি থেকে। এসময় কোম্পানির শেয়ারটির দর ছিল ৬৬৯ টাকা ৮০ পয়সায়। গত ৭ মাসে দর বেড়ে হয়েছে ৭ গুণ। বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬৩৯ টাকা ৪০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছে।

কোম্পানির  রিজার্ভ রয়েছে ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। শেয়ার সংখ্যা মাত্র ৪ লাখ ৬০ হাজার। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকের কাছে রয়েছে ৫৫.৯০ শতাংশ শেয়ার।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৪.০২ শতাংশ শেয়ার, বিদেশি বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে দশমিক ০১ শতাংশ শেয়ার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৪০.০৭ শতাংশ শেয়ার।

তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ’১৮) শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৪৩ পয়সা। এর আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ২৩ পয়সা। আর ৯ মাসে (জুলাই১৭ -মার্চ১৮) কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৯৫ পয়সা। গত হিসাব বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল  ৬০ পয়সা।

৩১ মার্চ শেষে কোম্পানির শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ৪৮ টাকা ৩৯ পয়সা।

বিডি অটোকার্স : শেয়ার দর বৃদ্ধি শুরু হয় চলতি বছরের ২৮ মে। তখন দর ছিল ১০৯ টাকা ৩০ পয়সা। এরপর শুরু হয় অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি। গত ৫ জুলাই দর বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫০ টাকায়। বৃহস্পতিবার সর্বশেষ লেনদেন হয় ৪৩৭ টাকায়।

কোম্পানির  রিজার্ভ লোকসান রয়েছে ২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। শেয়ার সংখ্যা ৩৮ লাখ ৬২ হাজার ৫১২টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকের কাছে রয়েছে ৩৮.২৫ শতাংশ শেয়ার।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৭.৪৬ শতাংশ শেয়ার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৫৪.২৯ শতাংশ শেয়ার।

বিডি অটোকার্স তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ’১৮) শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪০ পয়সা। এর আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ২২ পয়সা।

আর ৯ মাসে (জুলাই১৭ -মার্চ১৮) কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮৩ পয়সা। গত হিসাব বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল  ৩৫ পয়সা। ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানির শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে  ৩ টাকা ৬০ পয়সা।

লিগাসি ফুটওয়ার : শেয়ার দর বৃদ্ধি শুরু হয় চলতি বছরের  ৮ মে। তখন কোম্পানির শেয়ারপ্রতি দর ছিল ৫৫ টাকা ৬০ পয়সা। এরপর বাড়তে থাকে শেয়ার দর কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়া। সাড়ে ৩ মাসে প্রায় পাঁচগুণ বেড়েছে দর। সম্প্রতি শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর ওঠে প্রায় ২৮০ টাকা। বৃহস্পতিবার সর্বশেষ ২৬৩ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে।

কোম্পানির  রিজার্ভ রয়েছে ৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ১৩ লাখ ৭৩ হাজার ৮৯৬টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকের কাছে রয়েছে ৩০ শতাংশ শেয়ার।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৬.১৬ শতাংশ শেয়ার, বিদেশি বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৬ দশমিক ১২ শতাংশ শেয়ার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৫৭.৭২ শতাংশ শেয়ার।

লিগাসি ফুটওয়ার তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ’১৮) শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫৬ পয়সা। এর আগের বছর একই সময়ে লোকসান ছিল ৪ পয়সা।

আর ৯ মাসে (জুলাই১৭ –মার্চ,১৮) কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩৮ পয়সা। গত হিসাব বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল  ৫ পয়সা। ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানির শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে  ১৫ টাকা ৬৫ পয়সা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here