সিনিয়র রিপোর্টার : ‘সব যখন গেল, তখন আর কি করি। শেয়ার ব্যবসায় বউয়ের হাতের বালা বেচছি। বেচার আগে বউরে কইলাম, ভেবো না এবারে শেয়ারে ঠিক লাভ হবে। এরপরে এমন শেয়ার কিনছি, আর এমন খবর পাইছি। ১০ দিন রাখতে পারলেই ডাবল।’

পুঁজিবাজারে একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী সোমবার দুপুরে তার লোভের কথা বলেন। লোভের সঙ্গে ক্ষোভ যোগ করে হ্যাক সিকিউরিটিজের এই বিনিয়োগকারী বলেন, খবর পাইছিলাম ঠিকই। ৫ লাখ টাকার শেয়ার কিনছি। সেই শেয়ারের সব মিলে দর হইছে ২২ লাখ টাকা। অনেক টাকা।

যার মাধ্যমে শেয়ার কিনছি- তারে কইলাম শেয়ার বেচতে। সে বলে, এই শেয়ারের দাম আরো বাড়বে। এটা ২০১০ সালের কথা। কয়েক দিন পরে এটার দাম কমে হল ১৮ লাখ টাকা। এরপরে ফের কইলাম শেয়ার সব বেচে দাও, সে কয়- দর বাড়বে। তারপরে…।

ভদ্রলোক আমসত্ত্বের মতো চুপসে গেলেন। একটু পরে ফের বললেন, আশা ছিল- এই টাকায় এবারে কিছু করব। হলো না, গেল আমার বউয়ে হাতের সোনার বালা।

শেয়ারবাজার সম্পর্কে আপনার কোন জ্ঞান ছিল কি-না? নাম প্রকাশ না করার অনুলোধে তিনি বলেন, আমি এসেছিলাম আমার দুলাভাইয়ের দেখে। আসলে আমার কোন জ্ঞান ছিল না। হাউজে এসে সবার সঙ্গে বসতাম। দেখতাম, কে বিগ ভলিউমে ট্রেডের অর্ডর দিল, আমি তার সঙ্গে অর্ডার দিতাম। কোম্পানির নাম কি, কেমন শেয়ার কিছুই জানতাম না।

শেয়ারবাজারের অভিজ্ঞতা নিয়ে গল্প প্রসঙ্গে বলেন, একদিন এক কোম্পানি থেকে এলো একটা চিঠি। লেখা রাইট শেয়ার। চিঠি নিয়ে কোম্পানির অফিস মতিঝিলে আমি হাজির, কোম্পানি শেয়ার ডিভিশনে গিলে বল্লাম, রাইট শেয়ার দিয়েছেন ভালো; লেফট শেয়ার কই?

আমার কথার উত্তর না দিয়ে ভদ্রলোক বললেন, এই ব্যবসায় আপনাকে কে এনেছে? বাপের টাকায় ব্যবসা করছেন, না-কি? শুনে আমার মাথ‍া গরম। বল্লাম, মিয়া দেখেন নিজের টাকায় ব্যবসা করি। লেফট শেয়র কই তাই বলেন?

এরপরে ভদ্রলোক আমার পোর্টফলিও দেখে অবাক; ২৫ লাখ টাকা।

তখন আমাকে সব বুঝিয়ে বললেন। এরপরে ‍যখন ঠকলাম, তখন বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন ব্যবসা বুঝি। এবং অনেকের চেয়ে ভালো বুঝি। যে কারণে মন্দার বাজারেও ভালো করছি।

তবে আমি বলব, একবার অ্যামি ব্রোকার ট্রেনিংটা আপনি করেন। ব্যবসায় যখন-যেই আসেন, ভালো করবেন। দুর্দিনে লাভ না করলেও অন্তত লোকসান করবেন না। আর গুজবে কান দেবেন না।

তবে শেষে বলব, প্রশিক্ষণ ছাড়া কোন কিছুই করা উচিৎ নয়। নিঃশেষ করে শেখার চেয়ে আগে  শিখে কাজে নামা ভালো।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY