শেয়ারবাজারে স্ট্রেট লাইন কখনও ভালো মার্কেটের নিশ্চয়তা দেয় না

3
3632

শ্যামল রায়ঃ জীবনে উত্থান পতনটা খুবই প্রয়োজন অন্ততঃ বেচে থাকার জন্য, এমনকি  ইসিজিতেও সোজা লাইন কখনও জীবিত অবস্থা নির্দেশ করে না। ইসিজিতে সোজা লাইন নির্দেশ করলে মৃত বলে ধরে নেওয়া হয়। কথাটা একজন পৃথিবী বিখ্যাত শিল্পউদ্যোক্তার। সেইরূপ শেয়ারবাজারেও স্ট্রেট লাইন কখনও ভালো মার্কেটের নিশ্চয়তা দেয় না।

শেয়ার মার্কেট উঠবে নামবে এটাই স্বাভাবিক। এটাই পৃথিবীর সব দেশের শেয়ার বাজারের চিরাচরিত নিয়ম- বললেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের নিয়ে কাজ করেন এমন একজন শেয়ার মার্কেট বিশেষজ্ঞ এ এল সিকিউরিটিজে কর্মরত শহীদুল ইসলাম আকাশ। যিনি শেয়ার বাজার নিয়ে কাজ করছেন প্রায় ১০ বছর ধরে। এ বিষয়ে তার পড়াশুনাও রয়েছে প্রচুর।  তিনি বললেন, পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় আমাদের শেয়ার মার্কেট অনেক ভালো।  এখানে কেউ যদি রীতিমত পড়াশুনা করে যেনে বুঝে বিনিয়োগ করে তাহলে তার পক্ষে গেইন করা সম্ভব।

শেয়ার বাজার নিয়ে যে পড়াশুনা করা যায় কিংবা স্কুল কলেজে এটা পাঠ্যসূচীতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে এই ধারণাই আমাদের দেশে ছিল না। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন করে বলেছেন, স্কুল কলেজের পাঠ্যসূচীতে শেয়ার মার্কেট অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সত্যিই যদি এমনটা করা হয় তাহলে আমাদের জন্য এটা হবে একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আর এটা অবশ্যই হওয়া দরকার বলে আমি মনে করি।

এই মূহুর্তের বাজার ট্রেন্ড সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “ অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় আমাদের মার্কেট ভালো অবস্থানে রয়েছে। খেয়াল করলে দেখবেন, গত এক-দেড়বছর ধরে মার্কেটের  ইনডেক্স অনেক ভাল। যে মার্কেটে দৈনিক তিনশত কোটি টাকারা লেনদেন হত, সেখানে তা দুইহাজার/একুশশত কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। সম্প্রতি ইনডেক্স যদিও নেগেটিভে যাচ্ছে তারপরেও দৈনিক গড়ে এগারশত/বারশত কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। তাহলে আপনি মার্কেটকে খারাপ বলবেন কিভাবে। কারেকশন হচ্ছে বলেই যে ভালো মার্কেট না তা কিন্তু নয়। কারন একটা স্টেবল মার্কেটের জন্য কারেকশন অনস্বীকার্য। আর এই মূহুর্তে সবধরনের ইন্ডিকেটরেই বলে দিচ্ছে বাজার ভালো হবে।

২০১০ সালের ধ্বসের পর সরকারের টনক নড়ে। ডিএসই ও নড়ে চড়ে বসে। ফলে এই পর্যন্ত তারা যেসব সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আর যেহেতু এখন ব্যাংক ইন্টারেস্ট অনেক কম, তাই সবাই এখন শেয়ার বাজারমুখী। শেয়ার মার্কেটে সব সময় কিছু গুজব ভেসে বেড়ায়।  সেগুলোকে কান না দিয়ে জেনে বুঝে বিনিয়োগ করা উচিৎ। তবে এটাও ভুলে গেলে চলবে না, পৃথিবীর কোন শেয়ার মার্কেটই রিউমারমুক্ত নয়। বিনিয়োগকারীদের কখনই লোন নিয়ে শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করা উচিত নয় বলে আমি মনে করি। এই মার্কেটে যাদের সার প্লাস মানি আছে তাদেরই বিনিয়োগ করা উচিৎ।

আর শেয়ার মার্কেটে ব্যবসা করতে গেলে নিজস্ব একটা স্টাইল থাকা উচিৎ। কারন সবাই একই স্টাইলে ব্যবসা করবে এটা কোন বিজনেস পলিসি হতে পারে না। লাভ নিতে গেলে কিছু টেকনিকতো এপ্লাই করতে হবে। যেমন ধরুন, এভারেজ টেকনিক, নেটিং টেকনিক। নেটিংটা অবশ্য যেসব শেয়ারের দাম খুব বেশী ওঠা নামা করে সেসব কোম্পানীর জন্য আদর্শ টেকনিক। ধরুন সকালে যে শেয়ারের দাম বিশ টাকা আবার বিকালেই তা পঁচিশ টাকায় উঠে যায়, আবার সকালে যদি চল্লিশ টাকা থাকে বিকেলেই তা আবার ত্রিশ টাকায় চলে আসে। এইরকম হলে একই দিনে কম দামে ৩/৪টি লট কিনে বেশি দামে ২/৩ টি লটে বেচে গড় দাম কমিয়ে আনা যায়। যদিও আমাদের দেশে নেটিংয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়না।

এছাড়া খুজে খুজে বের করতে হবে যেসব কোম্পানীর ফান্ডামেন্টাল অনেক ভালো। সেগুলোকে টার্গেটে রাখতে হবে যত কম দামে কেনা যায়। কোম্পানী ভালো হলে তার দাম একসময় না একসময় উঠবেই। তবে ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে। এছাড়া ডিএসই’র সাইটে প্রকাশিত কোম্পানীর বিগত দিনগুলোর ট্রাক রেকর্ড গুলো দেখতে হবে। এছাড়া নিয়মিত পত্র পত্রিকায় দেশ বিদেশের অর্থনীতি ও ব্যবসার খবরগুলো খেয়াল রাখতে হবে। তাহলে সম্ভাবনাময় খাত ও কোম্পানী চিহ্নীত করা অনেক সহজ হবে।

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here