শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের বেড়েছে মুনাফা

0
546

স্টাফ রিপোর্টার : শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির চলতি ২০১৭-১৮ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) বিক্রি ও মুনাফা বেড়েছে। চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে ২৭ দশমিক ৬১ শতাংশ বিক্রয় প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬২ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়েছে।

কোম্পানিটির কর্মকর্তারা বলছেন, গেল বছরের চেয়ে এ বছর কোম্পানির রফতানি বেড়েছে। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থে বিদেশ থেকে বেশকিছু যন্ত্রপাতি আনার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এগুলো সংযোজন করা হয়ে গেলে কোম্পানির বিক্রি ও মুনাফা আরো বাড়বে বলে আশাবাদী তারা।

২০১৭-১৮ হিসাব বছরের প্রথমার্ধের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের বিক্রি হয়েছে ১৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১০৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। উৎপাদন ব্যয় বাদ দেয়ার পর হিসাব বছরের প্রথমার্ধে ১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা গ্রস মুনাফা হয়েছে কোম্পানিটির, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে গ্রস মুনাফা ছিল ১১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

বিক্রির পাশাপাশি প্রশাসনিক ও বিতরণ কার্যক্রমেও ব্যয় বেড়েছে শেফার্ডের। চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় পরিচালন ব্যয় ১৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেড়ে ৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা হয়েছে। আর এ সময়ে কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৮ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে ১৪ কোটি ৫২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এদিকে চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে সুদ বাবদ ৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে শেফার্ডের, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। কর বাবদ ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার পর চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয়েছে ৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। যেখানে আগের বছরের একই সময়ে নিট মুনাফা ছিল ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪২ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩০ পয়সা।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেয়ায় স্টক এক্সচেঞ্জে এরই মধ্যে ‘এন’ থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হয়েছে শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ১৪ পয়সা। ৩০ জুন এর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ১৮ টাকা ৩৪ পয়সায়।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৫৮৯তম সভায় শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের আইপিও অনুমোদন হয়। কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে দুই কোটি সাধারণ শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ২০ কোটি টাকা মূলধন উত্তোলন করে। এ অর্থে কোম্পানিটি তাদের ওয়াশিং প্লান্টের ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণ, প্লান্টের যন্ত্রপাতি ক্রয় ও স্থাপন, ইটিপি সম্প্রসারণ, আংশিক ব্যাংকঋণ পরিশোধ ও আইপিও প্রক্রিয়ার ব্যয় নির্বাহ করার ঘোষণা দেয়।

অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের শর্তের কারণে ভবনের ডিজাইন ও আয়তন পরিবর্তন করে আইপিওর অর্থ ব্যবহার পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন এনেছে শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৩ হাজার বর্গফুটের স্থলে ৩০ হাজার বর্গফুটের ভবন নির্মাণ করবে কোম্পানিটি। এ খাতে তাদের ব্যয় হবে ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা, আগের পরিকল্পনায় যা ছিল ২ কোটি ৮১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী মেশিনারিজ কেনা ও স্থাপনের কাজে ৭ কোটি ৪৬ লাখ ৭ হাজার ৫৩ টাকা ব্যয় করবে তারা। আগের পরিকল্পনায় এ খাতে ৯ কোটি ৬৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের। সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইপিওর অর্থের ৫২ দশমিক ৭০ শতাংশ বা ১০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয় করেছে কোম্পানিটি। অব্যবহূত রয়েছে ৪৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বা ৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

জানা গেছে, পূর্ব এশীয় উদ্যোক্তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এ কোম্পানিটি ২০০০ সালে যাত্রা করে। প্রতিষ্ঠানের মূল ব্যবসা ডায়িং ও ওয়াশিং। এর বাইরে বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের জন্য সুতাও প্রস্তুত করে তারা। ময়মনসিংহের ভালুকায় তাদের কারখানা ও করপোরেট অফিস রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সর্বশেষ ২৫ টাকা ৫০ পয়সায় শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারটির দর সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা ৫০ পয়সা ও সর্বনিম্ন ২৪ টাকা ১০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।

কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ১৯০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৩৬ কোটি ৬২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৯১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। বাজারে মোট শেয়ার ১৩ কোটি ৬৬ লাখ ২৬ হাজার ৫৮৫, যার ৫১ দশমিক ৪৮ শতাংশ কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে, ২ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, বিদেশী ২৫ দশমিক ২৪ ও বাকি ২১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here