শেফার্ডের বিক্রি ও মুনাফা কমেছে

0
812

স্টাফ রিপোর্টার : পুঁজিবাজারে আসার আগে ধারাবাহিক বিক্রি ও মুনাফা প্রবৃদ্ধিতে থাকলেও তালিকাভুক্তির পর বিক্রি ও মুনাফা কমতে শুরু করেছে শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের। তৃতীয় প্রান্তিকে নিম্নমুখিতা আরো ত্বরান্বিত হয়েছে।

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে চলতি বছরেই শেয়ারবাজারে আসে বস্ত্র খাতের কোম্পানিটি। ২০১৬-১৭ হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে তাদের বিক্রি ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং কর-পরবর্তী মুনাফা ১৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমেছে। এদিকে তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বিক্রি ৬ দশমিক ৮০ ও মুনাফা ২৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ কমেছে।

যদিও তালিকাভুক্তির আগের পাঁচ বছরে শেফার্ডের মুনাফা টানা বেড়েছে। মাঝে দুই হিসাব বছরে বিক্রি সামান্য কমলেও পাঁচ বছরের ব্যবধানে তা বেড়েছিল।

সর্বশেষ প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০১৬-১৭ হিসাব বছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে শেফার্ডের ১৭৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বিক্রির বিপরীতে মুনাফা হয়েছে ৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে ১৮৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বিক্রির বিপরীতে মুনাফা হয়েছিল ৯ কোটি ৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির বিক্রি কমেছে ১১ কোটি ৯ লাখ টাকা বা ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং মুনাফা কমেছে ১ কোটি ৪১ লাখ টাকা বা ১৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

এদিকে তৃতীয় প্রান্তিকে এসে নিম্নমুখিতা ত্বরান্বিত হয়েছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে ৭৩ কোটি ৯ লাখ টাকা বিক্রির বিপরীতে কোম্পানির মুনাফা হয়েছে ৪ কোটি ১২ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে ৭৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বিক্রির বিপরীতে মুনাফা হয়েছিল ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ তৃতীয় প্রান্তিকে বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বা ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ কমেছে এবং মুনাফা কমেছে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা বা ২৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

অথচ গত পাঁচ বছরের বিক্রি ও মুনাফার পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০১১ হিসাব বছরে ১১৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা বিক্রির বিপরীতে কোম্পানিটির মুনাফা হয়েছিল ১০ লাখ ১৮ হাজার টাকা। ২০১২ হিসাব বছরে ১৮৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বিক্রির বিপরীতে মুনাফা হয় ১৭ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।

২০১৩ হিসাব বছরে ১৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বিক্রির বিপরীতে ৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা মুনাফা হয়েছিল। ২০১৪ হিসাব বছরে ১৭৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বিক্রির বিপরীতে মুনাফা হয়েছে ৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আর ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ২৬৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বিক্রির বিপরীতে মুনাফা হয়েছে ১৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

গত নভেম্বরে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৫৮৯তম সভায় শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের আইপিও অনুমোদন হয়। কোম্পানিটিকে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে দুই কোটি সাধারণ শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ২০ কোটি টাকা মূলধন উত্তোলনের অনুমতি দেয় কমিশন। এ অর্থে কোম্পানিটি তাদের ওয়াশিং প্লান্টের ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণ, প্লান্টের যন্ত্রপাতি ক্রয় ও স্থাপন, ইটিপি সম্প্রসারণ, আংশিক ব্যাংকঋণ পরিশোধ ও আইপিও প্রক্রিয়ার ব্যয় নির্বাহ করার ঘোষণা দেয়।

পূর্ব এশীয় উদ্যোক্তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এ কোম্পানি ২০০০ সালে যাত্রা করে। প্রতিষ্ঠানের মূল ব্যবসা ডায়িং ও ওয়াশিং। এর বাইরে বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের জন্য সুতাও প্রস্তুত করে তারা। ময়মনসিংহের ভালুকায় তাদের ফ্যাক্টরি, করপোরেট অফিস রাজধানীর উত্তরায়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সর্বশেষ ৪১ টাকায় শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার হাতবদল হয়। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে লেনদেন শুরুর পর শেয়ারটির দর সর্বোচ্চ ৬২ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। এপ্রিলের শেষ কার্যদিবসে দর সর্বনিম্ন ৩৮ টাকা পর্যন্ত নেমেছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here