শিল্প মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনায় আসছে এসএমই ব্যাংক

0
306

বিশেষ প্রতিনিধি : এসএমই খাতের উন্নয়নে বড় ধরনের পরিকল্পনা নিচ্ছে শিল্প মন্ত্রণালয়। সারা দেশের সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের বিনা জামানতে ঋণ দেয়া, এসএমই ক্রেডিট গ্যারান্টি ফান্ড গঠন, এসএমই ব্যাংক প্রতিষ্ঠাসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা রেখে একটি নীতিমালা তৈরি করছে মন্ত্রণালয়। এ নীতিমালায় এসএমই ব্যবসা সহজ করতে সময়াবদ্ধ ৫৮টি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

এ খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে প্রতি জেলায় নির্দিষ্ট একটি ব্যাংককে লিড ব্যাংক হিসেবে নির্ধারণ করার পাশাপাশি ২০২৪ সালের মধ্যে এসএমই  ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর মধ্য দিয়ে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এসএমই খাতের বর্তমান অবদান ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০২৪ সালের মধ্যে ৩২ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করছে শিল্প মন্ত্রণালয়।

দেশে বর্তমানে কুটির শিল্পসহ ৭৮ লাখ অতি ক্ষুদ্র (মাইক্রো), ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ‘এসএমই নীতিমালা ২০১৯’ এর খসড়া তৈরি করে মন্ত্রণালয় বলছে, এ শিল্পের বিকাশের মধ্য দিয়ে গ্রামে শহুরে সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। পর্যাপ্ত মানবসম্পদ ও বুদ্ধিভিত্তিক সামর্থ্যরে কারণে বাংলাদেশে এসএমই খাত বিকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ খাতকে গতিশীল করতে উপযুক্ত নীতি সহায়তা ও সহায়ক পরিবেশ প্রয়োজন।

খসড়া এসএমই নীতিমালায় ছয়টি কৌশল নির্ধারণ করে বলা হয়েছে, উদ্যোক্তাদের অর্থ পাওয়ার সুযোগ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সুযোগ, বাজারে প্রবেশের সুযোগ, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, ব্যবসা সহায়ক সেবা নিশ্চিত করা ও প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। খসড়া নীতিমালায় এসব কৌশল বাস্তবায়নে সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে খসড়া নীতিমালায় এসএমই ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কমসুদে এসএমই খাতে ঋণ সহায়তা দিতে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম শক্তিশালী করা হবে। ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচি শক্তিশালী করে সহজ শর্তে ও কম সুদে ঋণ নিশ্চিত করা হবে। চালু করা হবে এসএমই ক্রেডিট গ্যারান্টি ফান্ড।

এছাড়া, এসএমই ব্যবসা পরিচালনায় আইনি ও প্রশাসনিক শর্ত শিথিল করা, কর ব্যবস্থা সহজীকরণ ও যৌক্তিকীকরণ করা হবে। রপ্তানিমুখী এসএমই খাতকে বিনিয়োগ ও রাজস্ব প্রণোদনা দেওয়া হবে।

নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিল নামে পৃথক একটি গঠন করার কথা বলা হয়েছে খসড়া নীতিমালায়। এছাড়া নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণপ্রবাহ বাড়ানো ও বিশেষায়িত ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। এসএমই খাতে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ সুবিধা বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো, ঋণের ঝুঁকি কমানো ও ঋণ লেনদেন ব্যয় কমানোর পদক্ষেপ নেবে সরকার।

নীতিমালায় প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলোর অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করতে ২৩ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় এসএমই টাস্কফোর্স গঠন করা হবে, যার প্রধান হবেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব। প্রতি তিন মাস অন্তর সভা করবে এই টাস্কফোর্স।

এসএমই খাতের জন্য চিহ্নিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর কয়েকটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হবে। বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বিবেচনায় কর্মকৌশলগুলোকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি হিসেবে চিহ্নিত করে তা সমাধানে সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে এসএমইদের জন্য তুলনামূলকভাবে ব্যবসা পরিচালনায় প্রয়োজনীয় বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক শর্ত যেমন- ব্যবসা নিবন্ধন, লাইসেন্স প্রক্রিয়া ও ক্লিয়ারেন্স শর্ত সহজ ও নমনীয় করা হবে। এই সময়ের মধ্যে এসএমই খাতের জন্য আলাদা করে অগ্রিম আয়কর (এআইটি), ভ্যাট, কর অবকাশ সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে। রপ্তানিমুখী এসএমইদের আর্থিকসহ সব ধরনের প্রণোদনায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ২০২৪ সালের মধ্যে এসএমই ব্যাংক প্রতিষ্ঠা ছাড়াও এ খাতের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করা হবে।

চলতি জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে এমন উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) পুনর্গঠন করা, এসএমই ফাউন্ডেশনের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করা, প্রতি জেলার জন্য বিভিন্ন ব্যাংকের মধ্য থেকে একটি ব্যাংককে এসএমই লিড ব্যাংক হিসেবে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে।

এছাড়া, বিভিন্ন ব্যাংক এসএমইতে কী পরিমাণ ঋণ দেবে, ২০২১ সালের জুনের মধ্যে তা নির্দিষ্ট করে দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সময়ের মধ্যেই নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিল গঠন করা হবে। ২০২০ সালের মধ্যে বিসিকের কার্যালয়ে একটি কেন্দ্রীয় ওয়ানস্টপ সেবা কেন্দ্র স্থাপনসহ জেলা পর্যায়েও ওয়ানস্টপ সেবা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে খসড়া নীতিমালায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here