স্কয়ার ফার্মার প্রবৃদ্ধি বেড়েছে

0
456

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের তুলনায় দীর্ঘদিন ভালো অবস্থানে থাকলেও গত পাঁচ-ছয় বছরে ওষুধ শিল্পের প্রবৃদ্ধি কমেছে। ২০১০ সালে এ খাতের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ছিল ২৩ দশমিক ৮০ শতাংশ, ২০১৫ সালে যা ১০ শতাংশের নিচে নেমে আসে। তবে ঠিক উল্টো চিত্র এ খাতের সবচেয়ে বড় কোম্পানি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের বিক্রয় প্রবৃদ্ধিতে। ২০১৪-১৫ হিসাব বছরে কোম্পানিটির বার্ষিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা ২০১০ সালে ছিল ১৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

ইনস্টিটিউট অব হেলথকেয়ার ইনফরমেটিকসের (আইএমএস) প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১১ সালে দেশের ওষুধ খাতের আকার ছিল ৮ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা। প্রতি বছর গড়ে ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়ে ২০১৫ সালে তা প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। অবশ্য সর্বশেষ বছরের প্রথম নয় মাসের উপাত্ত অনুসারে, এ খাতের প্রবৃদ্ধি ৯ দশমিক ৬০ শতাংশে নেমে আসে।

২০১১ সালে ২৩ দশমিক ৬০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর বৈশ্বিক বাণিজ্য সংকুচিত হওয়ায় হঠাতই প্রবৃদ্ধিতে ভাটা পড়ে দেশের ওষুধ শিল্পে। ২০১২ সালে তা ১১ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসে। তখন ওষুধ খাতের আকার দাঁড়ায় ৯ হাজার ৪০৪ কোটি টাকায়। ২০১৩ সালে প্রবৃদ্ধি আরো কমে ৮ দশমিক ১০ শতাংশে নেমে আসে। পরের বছর কিছুটা ভালো করলেও সর্বশেষ বছর আবার পিছিয়েছে এ খাত। ২০১৪ সালে ওষুধ শিল্পের প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ, ২০১৫ সালের প্রথম নয় মাসে যা দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশে। খাত-সংশ্লিষ্টদের অনুমান ২০১৫ সালে ওষুধ শিল্পের বিক্রি ছিল প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা।

মাঝে একটি ব্যতিক্রম বছর বাদ দিলে ২০১০ সাল থেকে দেশের ওষুধ শিল্পের প্রবৃদ্ধি টানা কমছে। অন্যদিকে বাড়ছে স্কয়ার ফার্মার। ১২ সালে কোম্পানিটির বিক্রয় প্রবৃদ্ধি ১৯ দশমিক ১৭ থেকে ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশে  নেমে আসে। এরপর প্রতিবছরই তাদের বিক্রয় প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ সমাপ্ত হিসাব বছরে তা ২৫ দশমিক ৩৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

বিশ্ববাজারে স্কয়ারের ওষুধের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এ সময়ের ব্যবধানে উৎপাদন সক্ষমতাও বাড়াতে হয়েছে কোম্পানিটিকে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) থেকে মান নিয়ন্ত্রণ সনদ প্রাপ্তির কারণে দেশে-বিদেশে কোম্পানিটির চাহিদা আরো বেড়েছে।

কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৫ সালে স্কয়ার ফার্মার উৎপাদন সক্ষমতা ও বিক্রি পাঁচ বছর আগের তুলনায় দ্বিগুণে উন্নীত হয়েছে। তিন বছরের ব্যবধানে কোম্পানির মূল পণ্য ট্যাবলেট ও ক্যাসপুলের উৎপাদন ৪৭০ কোটি ১৪ লাখ ১১ হাজার থেকে বেড়ে ৭৬৭ কোটি ৪৫ লাখ ৬ হাজারে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে দেশের ওষুধের বাজারের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ স্কয়ার ফার্মার দখলে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় উৎপাদন সক্ষমতা অনেক বাড়ানোর পরও কোম্পানিটি তাদের সক্ষমতার প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে। পাবনা ও কালিয়াকৈরের কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা, দক্ষতা এবং গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে উন্নততর প্রযুক্তির ব্যবহার স্কয়ার ফার্মার ওষুধের চাহিদা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। ২০১৪ সালে কোম্পানিটি ৩৫টি নতুন পণ্য যুক্ত করে। বর্তমানে স্কয়ার ফার্মা মোট ৭৬৮ ধরনের পণ্য উৎপাদন করে। এর মধ্যে ট্যাবলেট ৩০৭ ও ক্যাপসুল ৬৩ ধরনের। এছাড়া লিকুইড ৭৮, ইনজেক্টেবল রয়েছে ৬৪ ধরনের।

২০১৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (এপ্রিল-ডিসেম্বর) এ কোম্পানির বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। হিসাব বছর শেষে প্রবৃদ্ধি আরো বাড়বে বলে আশাবাদী কোম্পানির কর্মকর্তারা।

স্কয়ার ফার্মার কোম্পানি সচিব খন্দকার হাবিবুজ্জামান বলেন, ওষুধের গুণগত মান ও ব্র্যান্ড ইমেজের কারণে বিশ্বব্যাপী স্কয়ার ফার্মার পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। কয়েক বছর ধরে রফতানিও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রকৃত উৎপাদন বাড়াতে প্রতি বছর বড় বিনিয়োগ করছি আমরা। গত বছর বিভিন্ন খাতে কোম্পানির বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি ছিল ১০০ শতাংশেরও বেশি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here