বিএসসি’র শেয়ারের ফেসভ্যালু হচ্ছে ১০ টাকা!

0
3701

বিশেষ প্রতিনিধি : দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) শেয়ারের ফেসভ্যালু ১০টাকা হতে যাচ্ছে। শিগগিরই জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত একটি আইন পাস হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট  সূত্রে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর এইচ আর ভুইয়া বলেন, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন আইন-২০১৬’ যেন পাস হয়, সে জন্য আইনটি জাতীয় সংসদে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আইনটি পাস হলে শিপিং করপোরেশনের শেয়ারের ফেসভ্যালু ১০০ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা হয়ে যাবে। আশা করি, শিগগিরই আইনটি পাস হবে। আর এই আইন পাস হলে করপোরেশন আরও গতিশীল হবে।

কমোডর এইচ আর ভুইয়া উল্লেখ করেন, আইনটি যুগোপযোগী ও আধুনিক (মডার্ন) করা হয়েছে। আইনটি আগে ইংরেজিতে ছিল। এখন এটাকে বাংলা করা হয়েছে। ফলে এই আইন বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে।

প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনেই যেন ‘বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন আইন-২০১৬’ পাস হয় সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বছরের জুলাই মাসে আইনটি সংশোধনের নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিপরিষদ। এরপর পাসের জন্য জাতীয় সংসদে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের  ফেসভ্যালু বা অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। কিন্তু বিএসসির অভিহিত মূল্য এখনও ১০০ টাকায় রয়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) শেয়ারের ফেসভ্যালু ১০ টাকা হলে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বাজারে।’

তিনি বলেন, ফেসভ্যালু ১০ টাকা হলে সাধারণ ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা এই শেয়ার কিনতে পারবেন। ফেসভ্যালু ১০০ টাকা হওয়ায় অনেকেই এই শেয়ারটি কিনতে পারেন না। ফেসভ্যালু ১০ টাকা হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ হবে। এতে শেয়ারবাজারের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বেড়ে যাবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আইসিবির ফেসভ্যালু ও মূলধন পরিবর্তনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) বিল-২০১৪’ পাস হয়।

জানা গেছে, বিএসসি’র শেয়ার ১০০ টাকা থেকে ১০ টাকায় আনার লক্ষ্যে গত বছর নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ‘বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন আইন (সংশোধনী) ২০১৬’ মন্ত্রিপরিষদে পাঠায়। পরে ২৬ জুলাই মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে ‘বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন আইন-২০১৬’র খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর আইনটি পাসের জন্য পাঠানো হয় জাতীয় সংসদে।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) শেয়ারের অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের জন্যই আইনটি সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশ বলে ১৯৭০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই আদেশের অনুবৃত্তিক্রমে বিভিন্ন সময়ে আইনটি সংশোধিত হয়েছে। সংশোধিত আইনগুলোকে একত্রিত করে ইংরেজি থেকে বাংলা ভাষায় নতুন আইন করার সিদ্ধান্ত হয়।

চট্টগ্রামে শিপিং করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় রাখা হলেও সরকারের অনুমতি নিয়ে ঢাকা বা অন্য জায়গায় করা যাবে বলেও আইনে উল্লেখ রয়েছে।

জাহাজ বা নৌ-যান অর্জন, ভাড়া করা, ভাড়া দেওয়া, দখলে রাখা, হস্তান্তর করা, দেশের ভেতরে বা বাইরে করপোরেশনের কার্যপরিধির অন্তর্ভুক্ত ব্যবসায়িক লেনদেনসহ যেকোনও কাজে নিয়োজিত করা, জাহাজ নির্মাণ বা সংযোজন করা, জাহাজ ব্যবস্থাপনায় দেশ-বিদেশে বন্দরে শিপিং এজেন্ট নিয়োগ, ব্যাংক হিসাব খোলাসহ করপোরেশনের ১২টি কাজ পরিচালনার কথা বলা হয়েছে আইনে।

৭ থেকে ১৩ জন নিয়ে একটি পরিচালনা পর্ষদের কথা বলা হয়েছে আইনে। যার প্রধান হবেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী। আর সদস্য হিসেবে থাকবেন নৌ-পরিবহন সচিব, অর্থ বিভাগ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মর্যাদার কর্মকর্তা, করপোরেশনের এমডি, নির্বাহী পরিচালক (অর্থ), নির্বাহী পরিচালক (প্রযুক্তি) ও নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্যিক) এর প্রধান নির্বাহী হবেন এমডি।

করপোরেশনের ৫১ শতাংশ শেয়ার সরকারের এবং ৪৯ শতাংশ বাইরে দেওয়া থাকবে। আইনটি পাস হলে অনুমোদিত মূলধন ৪০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন হবে ৩৫০ কোটি টাকা। শেয়ার সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের বিধির মাধ্যমে নির্ধারিত হবেন শেয়ার হোল্ডাররা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here