সিনিয়র রিপোর্টার : জাহিন স্পিনিং মিলস লিমিটেড মিলের বর্ধিত ইউনিটের জন্য স্থাপিত নিজস্ব উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগের অনুমতি পেয়েছে।  শিগগিরই ১৫ হাজার ৪৮০ স্পিন্ডলের নতুন ইউনিটটিতে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরু করতে পারবেন বলে কোম্পানির কর্মকর্তারা আশা করছেন।

এতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত স্পিনিং মিলটির স্পিন্ডল সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২৯ হাজার ৪০, যা দৈনিক প্রায় আট হাজার কেজি সুতা উৎপাদনে সক্ষম।

জাহিন স্পিনিং মিলসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন জানান, জাহিন স্পিনিং নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ১৩ হাজার ৫৬০টি স্পিন্ডল নিয়ে যাত্রা করে। সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দ্বিতীয় ধাপে আরো ৩০টি রিং মেশিন (১৫ হাজার ৪৮০টি স্পিন্ডল) স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় কোম্পানির পর্ষদ। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) তহবিল ও কোম্পানির নিজস্ব অর্থ মিলিয়ে প্রায় ২৭ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি আমদানি করে সম্প্রসারিত ইউনিটটি গড়ে তোলা হয়।

তিনি বলেন, গত বছরের মাঝামাঝি সময়েই উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা ছিল। তবে গ্যাসের চাপ কম থাকায় কোম্পানি বর্ধিত সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করতে পারেনি।

‘গ্যাস ও বিদ্যমান বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে আমরা নতুন ১৫ হাজার ৪৮০টি স্পিন্ডলের মধ্যে পাঁচ হাজারের মতো স্পিন্ডল ব্যবহার করতে পারছিলাম। বিদ্যুৎ সংযোগ পেলে আমরা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই নতুন ইউনিটের সব স্পিন্ডল চালু করতে পারব।’

তিনি আরো জানান, গ্যাসের বিকল্প হিসেবে কারখানায় প্রায় ৬ কোটি টাকা খরচ করে ৩৩ কিলোভোল্টের নিজস্ব সাব-স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই সেখানে পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার আশা প্রকাশ করেছে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

তবে সাশ্রয়ী হওয়ায় বরাবরের মতো আগামীতেও গ্যাস ব্যবহার করাকে অগ্রাধিকার দেবে কোম্পানি। সংস্কার, আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ (বিএমআরই) প্রকল্পের আওতায় এজন্য জার্মানি থেকে গ্যাস জেনারেটরও আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের জন্য ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ পেয়েছেন জাহিন স্পিনিংয়ের পরিচালনা পর্ষদ। গেল হিসাব বছরে এ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৩৯ পয়সা। ৩০ জুন কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ১৪ টাকা ৭ পয়সায়।

এদিকে চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৫০ পয়সা ইপিএস দেখিয়েছে কোম্পানিটি, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ৪৬ পয়সা।

২০১৫ সালের শুরুর দিকে শেয়ারবাজারে আসার পর ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেয় বস্ত্র খাতের কোম্পানিটি। এরপর ২০১৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১৮ মাসে সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ পান এর শেয়ারহোল্ডাররা। ১৮ মাসে কোম্পানির ইপিএস ছিল ১ টাকা ৯৭ পয়সা।

সম্প্রতি কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৪০০ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে কোম্পানিটি। সাধারণ শেয়ার থেকে মূলধন ৩০০ কোটি টাকা পর্যন্ত এবং অগ্রাধিকার শেয়ার থেকে মূলধন ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত উন্নীত করতে পারবে জাহিন স্পিনিং।

এদিকে ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে স্পিন্ডল সংখ্যা আরো ২০ হাজার ৬৪০টি বাড়ানোরও পরিকল্পনা রয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের। এজন্য ৭৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যমান দুটি ইউনিটের পাশে আরো একটি ইউনিট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ।

সেখানে নতুন করে স্থাপনা তৈরি করতে হবে। পুরো প্রকল্প অর্থায়নে অভিহিত মূল্যে ১: ১ অনুপাতে রাইট শেয়ার ইস্যুর পরিকল্পনায় এরই মধ্যে সম্মতি দিয়েছেন কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা। এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেলে পরবর্তীতে রাইট শেয়ার বরাদ্দের জন্য নতুন রেকর্ড ডেট ঘোষণা করবে কোম্পানিটি।

জাহিন স্পিনিংয়ের পরিশোধিত মূলধন ৯৮ কোটি ৫৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা। রিজার্ভ ২২ কোটি ৩ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৩১ দশমিক ১ শতাংশ এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ২২ দশমিক ৯৫ ও বাকি ৪৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here