শাহজিবাজার লেনদেনে সেরা ইউনাইটেড পাওয়ার

0
1861
স্টাফ রিপোর্টার : বিদায়ী বছরে জ্বালানি খাতের কয়েকটি কোম্পানিকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। এ সময় সেকেন্ডারি বাজারে মন্দা থাকলেও শাহজিবাজার পাওয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও তা নিয়ন্ত্রণে নিয়ন্ত্রক সংস্থার উদ্যোগের বিষয়টি পুরো বছর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। এর বাইরে একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কোম্পানি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক জল্পনা দেখা যায়।
বিভিন্ন কোম্পানি নিয়ে আলোচনা, গুজব চললেও বছর শেষে লেনদেনের তালিকায় এক নম্বরে উঠে আসে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। ২০১৫ সালের বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এ চিত্র উঠে আসে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, তালিকাভুক্তির পর আর্থিক বিবরণীতে সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান পেট্রোম্যাক্স রিফাইনারির আয় যুক্ত হওয়ায় শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানির মুনাফায় উল্লম্ফন দেখা যায়। কিছু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কারসাজিতে শেয়ারটির অস্বাভাবিক দর বাড়তে দেখা যায়।

২০১৪ সালের নভেম্বরে এ শেয়ারের দর ২৩৮ টাকায় উন্নীত হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়। নন-মার্জিনেবল ঘোষণা ও স্পট মার্কেটে স্থানান্তরের পাশাপাশি শেয়ারটি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত বিনিয়োগকারীদের তথ্য কমিশনে দাখিলের নির্দেশনা দেয় বিএসইসি। এতে ২০১৫ সালের শুরু থেকেই এ কোম্পানিকে ঘিরে নানা ধরনের গুজব তৈরি হয়। শাহজিবাজারের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার হতে যাচ্ছে— প্রত্যেক কমিশন সভার আগেই এমন গুজবের পরিপ্রেক্ষিতে শেয়ারটির দর ওঠানামা করে।

পরবর্তীতে তদন্ত শেষে গত ২ জুন সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করে শাহজিবাজারের শেয়ার কারসাজির দায়ে আট প্রতিষ্ঠান ও সাত ব্যক্তিকে প্রায় ৫ কোটি টাকা জরিমানা করে বিএসইসি। তবে এর পরও ২০১৫ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের বার্ষিক তালিকার ১২তম অবস্থানে ছিল কোম্পানিটি। গত বছর এ কোম্পানির ১ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।

২০১৫ সালে লেনদেনে তালিকাভুক্ত হয়েই বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পেরেছে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। ২০১০ সালের পর বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত একমাত্র কোম্পানি এটি।

দেশের বিভিন্ন ইপিজেডে নিজস্ব উত্পাদিত বিদ্যুত্ সরবরাহ করে থাকে কোম্পানিটি। গত বছরের ৫ এপ্রিল দুই স্টক এক্সচেঞ্জে একযোগে কোম্পানিটির লেনদেন শুরু হয়। আর নয় মাসেরও কম সময়ের লেনদেনে বছরের সেরা কোম্পানি হিসেবে উঠে আসে প্রতিষ্ঠানটি।

একই গ্রুপের আরো দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানি অধিগ্রহণ ও একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পথে। এতে কোম্পানির সক্ষমতা ও আর্থিক ভিত্তি আরো শক্তিশালী হবে— এমন আশায় ইউনাইটেড পাওয়ার শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।

২০১৫ সালের ৫ এপ্রিল থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইউনাইটেড পাওয়ারের মোট ১৭ কোটি ৯৫ লাখ ৭৩ হাজার ৫২৮টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যার মূল্য ছিল ৩ হাজার ৪১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। গত বছর ডিএসইর মোট লেনদেনের ২ দশমিক ৯৫ শতাংশ ছিল এ কোম্পানির দখলে।

লেনদেন তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। গেল বছর এ কোম্পানির ২ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

এদিকে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত লোকসান শেষে মুনাফা এবং শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেয়ায় ‘এ’ ক্যাটাগরিতে স্থান পায় লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট মিলস লিমিটেড। এছাড়া গ্রুপ পর্যায়ে দুই সিমেন্ট জায়ান্ট লাফার্জ ও হোলসিমের একীভূতকরণের পর দেশেও এমন সম্ভাবনায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে আসে লাফার্জ সুরমা সিমেন্টে। শেয়ারের দরবৃদ্ধির পাশাপাশি লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় স্থান পায় কোম্পানি। গত বছর ডিএসইর লেনদেন তালিকার তৃতীয় স্থানে ছিল কোম্পানিটি। এক বছরে এর ২ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

মুনাফা কমে যাওয়ায় গ্রামীণফোনের দরপতন স্টক এক্সচেঞ্জের মূল্যসূচকে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ সময় বিদেশীদের একাংশ গ্রামীণফোনের শেয়ার বিক্রি করে দেন। গত বছর শেয়ারটি ৩০ শতাংশের বেশি দর হারায়। এ সময় বহুজাতিক কোম্পানিটির ২ হাজার ৪৬১ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।

গত বছর সামিট গ্রুপের দুই কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় স্থান পায়। মুনাফা আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ গ্রুপের কোম্পানি খুলনা পাওয়ার। গত বছর এর ৩৩ কোটি ৫৬ লাখ শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যার মূল্য ছিল ২ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা। আর মুনাফা তেমন না বাড়লেও কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণকে কেন্দ্র সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের শেয়ারের লেনদেন বেড়েছে। গত বছর ডিএসইতে এ কোম্পানির ১ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি জনসন অ্যান্ড জনসনের কাছে এসিআই লিমিটেডের তিনটি ব্র্যান্ড বিক্রির বিষয়টি শেয়ারবাজারে বেশ আলোচিত বিষয় ছিল। যথাসময়ে মূল্যসংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ না করারও অভিযোগ উঠে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে।

এছাড়া সার্বিকভাবে মুনাফা বাড়লেও কোম্পানিটির একটি সাবসিডিয়ারি ‘স্বপ্ন’ বড় ধরনের লোকসান গুনছে, যা এসিআইর মোট মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে কোম্পানিটিকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে। ২০১৫ সালে এর ২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর এ কোম্পানির সাবসিডিয়ারি এসিআই ফর্মুলেশনে ১ হাজার ২৯১ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।

নতুন কোম্পানির মধ্যে ইফাদ অটোজের শেয়ারেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা গেছে। আকর্ষণীয় লভ্যাংশ ও মুনাফা বৃদ্ধির সুবাদে লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় স্থান পেয়েছে প্রকৌশল খাতের কোম্পানিটি। গত বছরের ১১ মাসে এ কোম্পানির ২ হাজার ৩১১ কোটি টাকা কেনাবেচা হয়েছে।

অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বেসামরিক বিমান চলাচল ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায় দেশের বিমান চলাচল খাতের একমাত্র তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বাংলাদেশ লিমিটেডের। এর পর কোম্পানিটি নিয়মিতই লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় অবস্থান করে।

বছর শেষে লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় স্থান পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেড, সাইফ পাওয়ারটেক, এমজেএল বাংলাদেশ, ফার কেমিক্যাল, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ উল্লেখযোগ্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here