লোকসানে এক্সিম ব্যাংক, শেয়ার দর এখন ১০ টাকা!

0
1281

স্টাফ রিপোর্টার : চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে লোকসান দেখানোর কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শেয়ারে ধারাবাহিক দরপতনে রয়েছে বেসরকারি বাণিজ্যিক এক্সপোর্ট ইমপোর্ট (এক্সিম) ব্যাংক অব বাংলাদেশ। মে মাসের শুরু থেকে পতন শুরু হয়ে এক মাসের ব্যবধানে প্রায় ৪২ শতাংশ কমে গেছে ব্যাংকটির শেয়ারদর।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ৩ মে ডিএসইতে সর্বশেষ ১৪ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন হয় এক্সিম ব্যাংকের শেয়ার। ২০১৭ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পর ধারাবাহিক পতন শুরু হয় ব্যাংকটির শেয়ারদরে। এক মাসের ব্যবধানে ৪২ শতাংশ কমে ৩০ মে ফেসভ্যালুর সমান ১০ টাকায় নেমে আসে কোম্পানিটির শেয়ারদর।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৮৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা কর-পরর্তী মুনাফায় থাকা এক্সিম গেল প্রান্তিকে লোকসানে পড়েছে। জানুয়ারি-মার্চ সময়ে ৭৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা লোকসান দেখিয়েছে ব্যাংকটি। যদিও চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তাদের পরিচালনা মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছে।

২০১৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে ২০২ কোটি ৯৮ লাখ টাকার পরিচালন মুনাফা করেছে এক্সিম ব্যাংক, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৮৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। মূলত ঋণ ও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত ক্ষতির বিপরীতে সঞ্চিতির কারণেই প্রথম প্রান্তিকে লোকসানে পড়েছে ব্যাংকটি।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৬ হিসাব বছরের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে এক্সিম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। গেল হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ১৫ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ১ টাকা ৪৮ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর এর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ১৮ টাকা ৭৪ পয়সা।

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডা অনুমোদনের জন্য ৬ জুলাই বেলা ১১টায় রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত রাওয়া কনভেনশন হলে এজিএম আয়োজন করবে ব্যাংকটি।

এদিকে বৃহস্পতিবার ডিএসইতে সর্বশেষ দশমিক ৯৮ শতাংশ বেড়ে ১০ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয় এক্সিম ব্যাংকের শেয়ার। গত এক বছরে এর সর্বনিম্ন দর ছিল ৭ টাকা ৬০ পয়সা ও সর্বোচ্চ ১৬ টাকা ৫০ পয়সা।

২০০৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এক্সিম ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৪১২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালক ৪২ দশমিক ৮৩ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১৭ দশমিক ৬৪, বিদেশী বিনিয়োগকারী ৩ দশমিক ৭২ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৩৫ দশমিক ৮১ শতাংশ শেয়ার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here