লোকসানে ইউনিয়ন ক্যাপিটাল

0
493

স্টাফ রিপোর্টার : পরিচালন মুনাফার তিন গুণেরও বেশি সঞ্চিতি সংরক্ষণ করায় বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৮০ পয়সা লোকসান দেখিয়েছে ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড, যেখানে আগের বছর একই সময়ে মুনাফায় ছিল কোম্পানিটি। দ্বিতীয় প্রান্তিকের লোকসানের জেরে প্রথমার্ধের শেয়ারপ্রতি আয়ও (ইপিএস) ঋণাত্মক হয়ে গেছে।

সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সাবসিডিয়ারিসহ ইউনিয়ন ক্যাপিটালের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৮০ পয়সা, যেখানে ২০১৬ সালের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৬ পয়সা।

এর আগে চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ৫১ পয়সা ইপিএস দেখিয়েছে ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ১৯ পয়সা।

তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকের লোকসানের জেরে প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৩৪ পয়সা, যেখানে আগের বছর একই সময়ে ধনাত্মক ইপিএস ছিল ২৩ পয়সা। ৩০ জুন কোম্পানিটির সম্মিলিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ১৪ টাকা ২১ পয়সা।

কোম্পানির আর্থিক বিবরণীতে দেখা যায়, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ, সংশ্লিষ্ট কমিশন ও ফি বাবদ আয় বাড়লেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইউনিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেডের সুদ ও অন্যান্য আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। এপ্রিল-জুন সময়ে তাদের পরিচালন মুনাফা ৪০ শতাংশের বেশি কমে ৯ কোটি ১৭ লাখ টাকার নিচে নেমে এসেছে। এরপর ঋণ, বিনিয়োগ ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সঞ্চিতি বাবদ ২৯ কোটি ৮৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার সঞ্চিতি রাখতে হয়েছে তাদের।

এতে তিন মাসে কর-পূর্ব লোকসান ২০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। কর বাবদ সব ব্যয় হিসাব করে কোম্পানির কর-পরবর্তী লোকসান ২৭ কোটি ১৯ লাখ টাকায় ঠেকেছে। অগ্রাধিকার শেয়ারের বিপরীতে দেয়া ৯২ লাখ টাকার বেশি লভ্যাংশসহ লোকসান ২৮ কোটি ১১ লাখ টাকা ছাড়ায়।

উল্লেখ্য, ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৬ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে ইউনিয়ন ক্যাপিটাল। গেল হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটির ইপিএস হয় ১ টাকা ৪৪ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ১ টাকা ৩১ পয়সা (বোনাস শেয়ার সমন্বয়ের পর)। ৩১ ডিসেম্বর এর এনএভিপিএস ছিল ১৭ টাকা ৮০ পয়সা।

২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ৫ শতাংশ নগদ ও ৭ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেয় ইউনিয়ন ক্যাপিটাল। ২০১৪ সালের জন্য ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ পেয়েছিলেন এ কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা।

দীর্ঘমেয়াদে ইউনিয়ন ক্যাপিটালের ঋণমান ‘ডাবল এ প্লাস’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-ওয়ান’। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সম্প্রতি এ প্রত্যয়ন করেছে ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিংস লিমিটেড (এনসিআর)।

গতকাল ডিএসইতে সর্বশেষ ২২ টাকা ১০ পয়সায় ইউনিয়ন ক্যাপিটালের শেয়ার হাতবদল হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ কম। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন দর ছিল ১০ টাকা ৪০ পয়সা ও সর্বোচ্চ ৩৩ টাকা ১০ পয়সা।

২০০৭ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১৫৬ কোটি ৫৩ লাখ ও অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা। রিজার্ভ ৯৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ২৯ হাজার ৫৬৪। এর মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালক ৪৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ, প্রতিষ্ঠান ১৬ দশমিক ২৭, বিদেশী দশমিক ১৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ৩৭ দশমিক ৬১ শতাংশ শেয়ার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here