তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর নতুনভাবে করার প্রস্তাব

0
414

স্টাফ রিপোর্টার : পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে এবং বিদ্যমান কোম্পানিসমূহকে প্রণোদনা হিসেবে কর্পোরেট করহার ঢেলে সাজানোর প্রস্তাব দিয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সম্মেলন কক্ষে আর্থিক প্রতিষ্ঠান (ব্যাংক, বিমা, লিজিং কোম্পানি, এসএমই ফাউন্ডেশন) এর সাথে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ প্রস্তাব করেন সিএসই এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুর রহমান মজুমদার।

তালিকাভুক্ত পাবলিক ট্রেডেড কোম্পানির কর্পোরেট কর ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে আরোও বেশি কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত করতে প্রণোদনা হিসেবে কর্পোরেট কর ২৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ করা যেতে পারে; অন্যান্য লিমিটেড কোম্পানির ৩৫ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ করা যেতে।

এছাড়া ব্যাংক, ইন্সুরেন্স, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সিগারেট উৎপাদনকারী কোম্পানি, মোবাইল ফোন কোম্পানির কর্পোরেট করহার পুর্নবিন্যাসের প্রস্তাব করেন তিনি।

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় ক্ষুদ্র এবং মাঝারি খাতে নিম্নহারে আলাদা করহার প্রযোজ্য উদাহরণ টেনে সিএসই এমডি বলেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানিসমূহের ফাইন্সিয়াল রিপোর্টিং অতালিকাভুক্ত কোম্পানিসমূহের তুলনায় অধিকতর স্বচ্ছ। কর্পোরেট করহারে যথেষ্ট ব্যবধান থাকলে গুণগত মানসম্পন্ন কোম্পানিসমূহ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত হবে। যা একটি টেকসই পুঁজিবাজার তথা অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভুমিকা রাখবে।

একইসঙ্গে তিনি এসএমই খাতকে পুঁজিবাজারে উৎসাহিত করার জন্য বিশেষ প্রণোদনামূলক করহার প্রবর্তন করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে এসএমই খাতকে তালিকাভুক্তিতে উৎসাহিত করতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিসমূহকে পৃথক স্কীমের আওতায় এনে এদের জন্য প্রথম ৫ কোটি টাকা আয় পর্যন্ত ০ শতাংশ, পরবর্তী ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ১৫ শতাংশ ও ৫ কোটির উর্ধ্বে ২০ শতাংশ কর আরোপ করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে ডিমিউচুয়ালাইজেশন পরবর্তী পুর্নগঠন প্রক্রিয়া অতিক্রম করছে। দেশের মোট জাতীয় উৎপাদনের সাথে বাজার মুলধনের হার এখনো প্রতিবেশি দেশগুলোর তুলনায় নিচে। পুঁজিবাজারের অফুরন্ত সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে গুণগত ও মানসম্পন্ন কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারমুখী করার কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বাজেটে এ বিষয়ে কৌশলগত ও নীতিগত পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব। মাত্র ৩০০ এর বেশি কোম্পানি পুঁজিবাজারে রয়েছে। কৌশলগত পদক্ষেপ নিলে এ সংখ্যা ১ হাজার ছাড়াতে পারে। তালিকাভূক্ত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন অতালিকাভূক্ত কোম্পানির তুলনায় স্বচ্ছ থাকে। সেক্ষেত্রে তালিকাভূক্ত কোম্পানির করহার সুবিধা বাড়ানো গেলে কোম্পানির সংখ্যা বাড়বে। দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও রাজস্ব আহরণ বাড়বে। তালিকাভূক্ত কোম্পানির সাথে অতালিকাভূক্ত কোম্পানির কর্পোরেট করহার ৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেন তিনি।

কর অব্যাহতি সুবিধা আরও ৫ বছর অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করে তিনি বলেন, ডিমিউচুয়ালাইজেশন পরবর্তী সুবিধাসমূহ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতে করমুক্ত সুবিধা আরও ৫ বছর রাখা যেতে পারে। সদস্যদের ট্রেডের ০.৫ শতাংশ কর প্রযোজ্য রয়েছে। এ হার ০.১ শতাংশ করা হলে পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখবে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশের ওপর উৎসে কর কমানো ও এ সীমা ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা বাড়ালে পুঁজিবাজারে প্রণোদনা হিসেবে কাজ করবে।

সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, সিএসই এখনো বিদেশি সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরশীল। এক্ষেত্রে বিদেশিদের দিয়ে টেকনিক্যাল ও অন্যান্য দিক রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়। এতে উৎসে কর ও মূসক বিদেশিদের আয়ের থেকে পরিশোধের কথা থাকলেও আমাদের করতে হয়। সফটওয়্যারের কারিগরি টেকনিক্যাল সেবা ফি পরিশোধকালে ২০ শতাংশ হারে উৎসে কর প্রদান করতে হয়। সফটওয়্যার মেইনটেনেন্স ফি বাবদ ৪.৫ শতাংশ মূসক প্রদান করতে হয়। উৎসে কর ৫ শতাংশ ও মূসক ২ শতাংশ করা গেলে পরিচালন ব্যয় কমে যাবে। প্রযুক্তি নির্ভর পুঁজিবাজার উন্নয়নে গতি পাবে ও পুঁজিবাজার বিকাশে সহায়ক হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর কী পরিমাণ কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত করতে পারবো এবং কী পরিমাণ মুলধন সংগ্রহ করতে পারবো তার একটি পরিকল্পনা বাজেটে থাকা দরকার। কারণ পুঁজিবাজার জিডিপির সাথে অনেক দুরত্ব। দুরত্বের কারণ এখানে তালিকাভূক্ত কোম্পানির সংখ্যা অত্যন্ত কম। কৌশলগত পদক্ষেপ বাজেটে নেয়া হলে বাজার সম্প্রসারিত ও স্থিতিশীলতা আসবে।

এসময় তিনি কোম্পানি, ফার্ম বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক শেয়ার বিক্রয়লব্ধ মুলধনী মুনাফার ওপর কর ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ, লভ্যাংশ থেকে উৎসে কর কর্তনের বিধান বাতিলের প্রস্তাব করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here