লাফার্জহোলসিমের মুনাফা বেড়েছে

0
439

স্টাফ রিপোর্টার : চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেডের রাজস্ব এসেছে ৪৪৯ কোটি ৭৮ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির রাজস্ব ছিল ৩৮৫ কোটি ৬৯ লাখ ৪১ হাজার টাকা। এ হিসাবে সর্বশেষ প্রান্তিকে কোম্পানিটির রাজস্ব বেড়েছে ৬৪ কোটি ৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা বা ১৬ দশমিক ৬২ শতাংশ।

কর পরিশোধের পর আলোচ্য তিন মাসে কোম্পানিটির মুনাফা হয়েছে ৪৩ কোটি ৬২ লাখ ৬৯ হাজার টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৯ কোটি ৮০ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

এদিকে হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের রাজস্ব আয় হয়েছে ৯৭০ কোটি ৪৪ লাখ ১ হাজার টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার টাকা।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩৮ পয়সা শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দেখিয়েছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ২৬ পয়সা। প্রথমার্ধে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৬৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৫ পয়সা। ৩০ জুন শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ১৪ পয়সা।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ। সর্বশেষ হিসাব বছরে কোম্পানির সম্মিলিত ইপিএস হয়েছে ৯৬ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর এনএভিপিএস দাঁড়ায় ১৩ টাকা ৪১ পয়সা।

২০১৭ হিসাব বছরে শুধু লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের ইপিএস হয় ৬৯ পয়সা। সে হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল তারা।

২০১৬ সালে গ্রুপ পর্যায়ে ফরাসি সিমেন্ট জায়ান্ট লাফার্জ ও সুইস কোম্পানি হোলসিম একত্র হয়। এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বব্যাপী দুই গ্রুপের ব্যবসা একীভূত হয়ে আসে। বাংলাদেশের স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের মুখ্য শেয়ারহোল্ডার ছিল লাফার্জ গ্রুপ। অন্যদিকে শেয়ারবাজারের বাইরে থাকা হোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেডের ৭৪ শতাংশ শেয়ার ছিল হোলসিম গ্রুপ তথা হোল্ডারফিন বিভির কাছে।

এছাড়া ২১ শতাংশ সিয়াম সিটি ও সিয়াম সিমেন্ট এবং বাকি ৫ শতাংশ শেয়ার ছিল স্থানীয় ট্রান্সকম গ্রুপের হাতে। একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সহজ করতে হোল্ডারফিন বিভি দুই গ্রুপের হাতে থাকা ২৬ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয়। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে ১১ কোটি ৭০ লাখ ডলারে (ডলারের মান ৮০ টাকা ধরে ৯০০ কোটি টাকার বেশি) হোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেডের শতভাগ সম্পদ কিনে তা একীভূত করার পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছিল।

তবে হোলসিম বাংলাদেশের শেয়ার বিক্রির অর্থ তার হেডকোয়ার্টারে পাঠানোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে অনুমোদন চাওয়া হলে তারা অধিগ্রহণ বাবদ ৫০৪ কোটি ৭৮ লাখ ১৯ হাজার ৯৪০ টাকা বিদেশে পাঠানোর অনুমোদন দেয়। অর্থাৎ প্রকারান্তরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হোলসিম বাংলাদেশের ৮৮ হাজার ২৪৪টি (শতভাগ) শেয়ারের জন্য এ মূল্যই নির্ধারণ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত মূল্যেই হোলসিমকে কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত করে লাফার্জ।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বশেষ দর ছিল ৩৮ টাকা ৫০ পয়সা। সমাপনী দর ছিল ৩৮ টাকা ৪০ পয়সা। এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল যথাক্রমে ৩৬ টাকা ও ৫৯ টাকা।

২০০৩ সালে দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ১৬১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩৯৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১১৬ কোটি ১৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৬৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ শেয়ার।

এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক ৯৬ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ১৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here